সংবাদ

জিওব্যাগ নয়, এবার চাই স্থায়ী বাঁধ!


প্রতিনিধি, বরিশাল
প্রতিনিধি, বরিশাল
প্রকাশ: ৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম

জিওব্যাগ নয়, এবার চাই স্থায়ী বাঁধ!
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের একাংশ। ছবি : সংবাদ

বরিশাল সদর উপজেলাকে আড়িয়াল খাঁ ও কীর্তনখোলা নদীর অব্যাহত ভাঙন থেকে রক্ষায় স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে সদর রোডে এ কর্মসূচি পালিত হয়। ‘আবদুর রহমান বিশ্বাস স্মৃতি পরিষদ’ আয়োজিত এই মানববন্ধনে ভাঙনকবলিত তিন ইউনিয়নের শতাধিক মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতুল্লাহ বলেন, আড়িয়াল খাঁ ও কীর্তনখোলার ভাঙনে বছরের পর বছর ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাট নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। অতীতে জিওব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হলেও তা কার্যকর হয়নি। টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় চরবাড়িয়া, চরমোনাই ও চন্দ্রমোহনসহ সদর উপজেলার বিশাল জনপদ আজ হুমকির মুখে।

রহমতুল্লাহ আরও বলেন, ‘আমরা সাময়িক কোনো ব্যবস্থা নয়, স্থায়ী সমাধান চাই। বিচ্ছিন্নভাবে বালুর বস্তা না ফেলে আড়িয়াল খাঁ ও কীর্তনখোলা নদীকে ঘিরে একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। শুধু সদর উপজেলা নয়, হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জসহ পুরো বরিশাল অঞ্চলের নদী ভাঙন রোধে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।’ এ বিষয়ে তিনি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

আবদুর রহমান বিশ্বাস স্মৃতি পরিষদের সদস্যসচিব ইলিয়াস আহমেদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতি বছর নদীভাঙনের কারণে শত শত পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। অথচ ভাঙন রোধে স্থায়ী কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে সদর উপজেলার চরকাউয়া ও চরবাড়িয়া ইউনিয়নের প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকায় নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। একই সময়ে হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ও বালুভর্তি বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল বলেন, প্রকল্পটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হচ্ছে। তবে কাজের বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে পাউবোর কাছে কোনো হালনাগাদ তথ্য নেই।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বরিশালের নদীবেষ্টিত জনপদকে রক্ষায় বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে আড়িয়াল খাঁ ও কীর্তনখোলা নদীকে কেন্দ্র করে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন কর্মসূচি গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

\

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬


জিওব্যাগ নয়, এবার চাই স্থায়ী বাঁধ!

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

বরিশাল সদর উপজেলাকে আড়িয়াল খাঁ ও কীর্তনখোলা নদীর অব্যাহত ভাঙন থেকে রক্ষায় স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে সদর রোডে এ কর্মসূচি পালিত হয়। ‘আবদুর রহমান বিশ্বাস স্মৃতি পরিষদ’ আয়োজিত এই মানববন্ধনে ভাঙনকবলিত তিন ইউনিয়নের শতাধিক মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতুল্লাহ বলেন, আড়িয়াল খাঁ ও কীর্তনখোলার ভাঙনে বছরের পর বছর ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাট নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। অতীতে জিওব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হলেও তা কার্যকর হয়নি। টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় চরবাড়িয়া, চরমোনাই ও চন্দ্রমোহনসহ সদর উপজেলার বিশাল জনপদ আজ হুমকির মুখে।

রহমতুল্লাহ আরও বলেন, ‘আমরা সাময়িক কোনো ব্যবস্থা নয়, স্থায়ী সমাধান চাই। বিচ্ছিন্নভাবে বালুর বস্তা না ফেলে আড়িয়াল খাঁ ও কীর্তনখোলা নদীকে ঘিরে একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। শুধু সদর উপজেলা নয়, হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জসহ পুরো বরিশাল অঞ্চলের নদী ভাঙন রোধে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।’ এ বিষয়ে তিনি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

আবদুর রহমান বিশ্বাস স্মৃতি পরিষদের সদস্যসচিব ইলিয়াস আহমেদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতি বছর নদীভাঙনের কারণে শত শত পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। অথচ ভাঙন রোধে স্থায়ী কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে সদর উপজেলার চরকাউয়া ও চরবাড়িয়া ইউনিয়নের প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকায় নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। একই সময়ে হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ও বালুভর্তি বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল বলেন, প্রকল্পটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হচ্ছে। তবে কাজের বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে পাউবোর কাছে কোনো হালনাগাদ তথ্য নেই।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বরিশালের নদীবেষ্টিত জনপদকে রক্ষায় বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে আড়িয়াল খাঁ ও কীর্তনখোলা নদীকে কেন্দ্র করে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন কর্মসূচি গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

\


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত