সংবাদ

ট্যাক্টফুল আমলাতন্ত্র বনাম জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্র


আহমেদ ফরিদ
আহমেদ ফরিদ
প্রকাশ: ৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম

ট্যাক্টফুল আমলাতন্ত্র বনাম জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্র

সরকারি চাকরিতে যোগদান করার পর অগ্রজ সহকর্মীদের কাছ হতে প্রথম যে সবকটি পেয়েছি তা হলো- ‘ট্যাক্টফুল হও’। ট্যাক্ট শব্দটির সঙ্গে তখনো আমার পরিচয় ঘটেনি। অভিধান ঘেঁটেঘুটে আমি এর পরিষ্কার মানে খুঁজে বের করতে পারিনি। ৩০ বছর চাকরি করেও ট্যাক্টফুল কাকে বলে, কত প্রকার ও কী কী বুঝতে পারিনি। 

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সেই বিখ্যাত কবিতার উক্তির মতো- ‘নাদের আলী আমি আর কত বড় হবো? আর কত বড়ো হলে নাদের চৌপ্রহরের বিল দেখাতে নিয়ে যাবে দাদা ঠাকুরের মতো আর কতকাল চাকরি করলে আমি ট্যাক্টফুল হবো, হতে পারতাম তা?

ট্যাক্টফুল হওয়ামার মানে কি মুরুব্বীগণ বুঝাতে চেয়েছিলেন-পরিস্থিতি সামাল দেয়ার ক্ষমতা, সংঘাত এড়িয়ে চলার কৌশল, নিজের অবস্থান ও ক্যারিয়ার সুরক্ষার এক প্রকার বর্ম? যদি তাই হয় তাহলে আমি এটাকে তেমন দোষের কিছু মনে করি না। ইচ্ছে করে কে সংঘাত ডেকে আনতে চায়, ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব, নেতৃত্বের কৌশলই হচ্ছে সংঘাত আর দ্বন্দের নিরসন করা। আধুনিক সংগঠন সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় সবগুলোই অত্যন্ত জটিল। একটা দ্বান্দিক পরিবেশের মধ্য দিয়ে সংগঠনকে এগিয়ে নিতে হয়। সুতারাং এখানে নেতৃত্ব ট্যাক্টফুল না হলে সংগঠন টিকে থাকতে পারে না। এ ক্ষেত্রে নেতৃত্বকে ট্যাক্টফুল হওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। আধুনিক আমলাতন্ত্রের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি প্রায়োগিক। বিশেষ করে প্রশাসন ক্যাডারের আমলাদেরকে সবসময় একটা জটিল রাজনৈতিক পরিবেশে কাজ করতে গিয়ে নানা প্রতিকুল অবস্থার সম্মুখীন হতে হয়। 

ট্যাক্টফুল হতে পারা নিসন্দেহে একটি ভালো গুণ। দীর্ঘ ৩০ বছরের চাকরি জীবনে আমার কাছে মাঝে মাঝে এই ট্যাক্টফুল হওয়াকে আমার কাছে একটা মস্ত গোলক ধাঁধা মনে হয়েছে। একটি প্রশ্ন আমার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে- ট্যাক্টফুল হওয়া মানে কি সত্যের সঙ্গে আপস করার অপর নাম? একজন কর্মকর্তা কি শুধুই পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলবেন, নিজের চাকরি বাঁচাবেন আর ক্যারিয়ারের কথা ভেবে ভেবে প্রতিনিয়ত তার দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা ভুলে যাবেন, নাকি তিনি প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠিত স্বার্থের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্র তথা জনগণের স্বার্থ দেখবেন? একজন সরকারি কর্মকর্তা কী চায় সেটি শুধু তার চাওয়ার ওপর নির্ভর করে না। রাষ্ট্র কী চায় তার ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করে। রাষ্ট্র কী একজন ট্যাক্টফুল প্রশাসক চায় নাকি একজন নৈতিকতাসম্পন্ন দক্ষ প্রশাসক চায় যিনি রাষ্ট্রের জন্য, জনগণের জন্য কাজ করবেন?

সম্প্রতি সিলেটে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা এই প্রশ্নগুলোকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। একটি বিশেষ পরিস্থিতে জনাব সারোয়ার আলম সিলেটের জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পান। মোবাইল কোর্ট আর র‌্যাবের ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি পাদপ্রদীপের সামনে আসেন। তার কাজ দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান। পাঁচ আগস্ট ২০২৪ এর ঘটনার পর সিলেটের বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র ভোলাগঞ্জের সমস্ত সাদা পাথর লুট হয়ে যায়। সারোয়ার আলমকে সেখানে ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) হিসেবে পাঠানো হলে তিনি লুণ্ঠিত পাথরের কিয়দংশ ফেরত প্রদানে লুন্ঠনকারীদেরকে বাধ্য করেন। সিলেট রেলের টিকেট কালোবাজারী বন্ধেও তিনি কঠোর ব্যবস্থা নেন। তিনি আও অনেক জনবান্ধব কাজ করেন যাতে সাধারণ জনগণের আস্থাভাজন একজন প্রশাসক হিসেবে নিজেকে তোলে ধরতে তিনি সক্ষম হন। 

অনেকগুলো ভালো কাজ করতে গিয়ে তিনি স্বার্থান্বেষী একটি মহলের চক্ষুকূলে পরিণত হন। তারা তাকে ঘায়েল করার একটা মোক্ষম সুযোগ খুঁজছিলেন। 

সাতশ বছরের পুরানো হযরত শাহজালালের মাজার। সিলেটর ইতিহাস আর ঐতিহ্যের প্রধান আকর্ষণ। হযরত শাহজালালের মাজারকে কেন্দ্র করেই সিলেট শহর গড়ে উঠেছে। সারা দেশ থেকে প্রতিদিন হাজার ভক্ত মাজারে ছোটে আসেন বিভিন্ন মানত নিয়ে। তারা খালি হাতে আসেন না। টাকা-পয়সা, সোনাদানা সঙ্গে করে নিয়ে আসেন, মাজারের বড় ডেগে তারা মানতের টাকা পয়সা সোনাদানা ফেলেন। সেই টাকা পয়সা সোনাদানার খরচাপাতি যা করার তা মাজারের খাদেম নামে একটা গোষ্টী নিয়ন্ত্রণ করেন। তারা নিজেদেরকে হযরত শাহজালালের বংশধর হিসেবে হাবী করে দান খয়রাতের টাকা পয়সা সোনাদানা নিজেদের পৈত্রিক সম্পদ হিসেবে গণ্য করতে থাকেন। ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায় হযরত শাহজালালের কোনো বংশধর এদেশ আদৌ ছিল না কেননা তিনি কোনো বিয়েই করেননি। মাজারের খাদেমগিরির নামে লিল্লাহ সদকার টাকা মেরে খাওয়াই তাদের কাজ। সাতশ বছর ধরেই তারা অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে কাজটি করে আসছেন। মাজারের টাকা দিয়ে তারা বাড়ি গাড়ি করেছেন, ছেলেমেয়েক দেশবিদেশে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, নিজেরা বিলাসবহুল জীবনযাপন করেছেন। সেখানে থেকে কিছু ভাগ হয়তো মাঝে মাঝে প্রশাসন আর রাজনীতিবিদদের দিয়েছেন তাদের মুখ বন্ধ রাখার জন্য। 

বাঁধ সাধলেন সারোয়ার আলম। মাজারের উন্নতির জন্য সম্প্রতি পয়ত্রিশ কোটি টাকার একটা প্রজেক্ট পাস হয়। প্রজেক্টটি বাস্তবায়নের জন্য দরকার পাঁচ কোটি টাকার ম্যাচিং ফান্ড। সিটি কর্পোরেশন দেবে তিন কোটি আর মাজার কর্তৃপক্ষ দিবে দুই কোটি। সেই দুই কোটি টাকা মাজার কর্তৃপক্ষ দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। মাজার ফান্ডে টাকা নেই। টাকা থাকবে কোত্থেকে? সদকা, লিল্লাহখোরেরা মাজারের সব টাকা পয়সা হজম করে ফেলেছেন। 

ডিসি সারোয়ার হিসাব চাইল কিন্তু খাদেম গোষ্টী বললো- তারা হিসাব দিবে না, তাদের কাছে হিসাব নাই। ৭শ’ বছর ধরে কেউ হিসাব চায়নি, ডিসি সারোয়ার হিসাব চাইবার কে ইত্যাদি । 

ডিসি সারোয়ার মাজার প্রাঙ্গনে এক সরকারি ডেগ বসিয়ে দিলেন। তিনদিন পর তালা খুলে দেখা গেল সেখানে সতের লাখ টাকা জমা পড়েছে। সোনাদানাও কিছু ছিল। শুক্র, শনি আর বার্ষিক ওরসের সময় দান খয়রাতের পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। খাদেমরা হাতে হাতেও টাকা পয়সা ভক্তদের কাছ হতে নিয়ে নেন। তিনদিনে যদি সতের লাখ টাকা এক ডেগেই জমা হয় তাহলে গড়ে প্রতিদিন প্রায় সাত লাখ টাকা জমা পড়ার কথা। সেই হিসেবে মাসে দুই কোটি দশ লাখ, বছরে তেরো কোটি। দেশ স্বাধীন পর থেকে হিসাব করলে পঞ্চান্ন বছরে মাজারের আয় দাঁড়ায় কম বেশি সাতশ কোটি টাকা। মনে রাখবেন এটি মাত্র পঞ্চান্ন বছরের আয়। বাকি সাড়ে ৬শ’ বছরের হিসাব আলাদা। সেটি হিসাব করতে গেলে মাথা চক্কর মারবে। 

আয় থেকে একটা অংশ ব্যয় হয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সেটি কত টাকা? খুব বেশি হওয়ার কথা নয়। মসজিদ, মাদ্রাসা আর মাজারের রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ ব্যয় সহজেই বের করে ফেলা যায়। খাদেমরা দুই কোটি টাকা দিতে পারল না কেনো? পারার কোনো কারণ নেই, কারণ আয় ব্যয়ের কোনো হিসাব রাখার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেনি, করলেই দানখয়রাতের টাকা আত্নসাৎ করা যাবে না। 

হিসাব চাওয়াতে ডিসি সারোয়ারেকে উঠিয়ে নেয়া হলো। সরকারি গতানুগতিক বয়ানে বলা হলো এটি জনস্বার্থে করা হয়েছে। সব বদলি আদেশেই এটি উল্লেখ থাকে। কিন্তু যাদের স্বার্থে ডিসি সারোয়ারকে বদলি করা হলো সেই জনগণ সেটি বুঝলো না। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠালো, ডিসি সারোয়ারের বদলি আদেশ বাতিলের জন্য মিছিল মিটিং পর্যন্ত করল। 

এই ঘটনাটি জনমনে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে- একজন কর্মকর্তা যখন স্বচ্ছতা আর জবাবদিহিতা প্রতিষ্টার উদ্যেগ নেন তখন রাষ্ট্রের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত?

গণতন্ত্র আর আধুনিক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হলো জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা। কোনো ব্যক্তি, গোষ্টি, প্রতিষ্ঠান কিংবা ঐতিহ্য কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়- যেটাকে আমরা বলি আইনের শাসন। রাষট্রের অধীনে থাকা জনগণের টাকা পয়সা যেখানে আছে সেখানে সব আর্থিক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা থাকা আবশ্যক। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বেলায়ও এই নীতি প্রযোজ্য। ধর্মীয় মর্যাদা কখনোই আর্থিক জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না। এখানে যারা দান খয়রাত করেন তাদের আস্থার বিষয়টি জড়িত। 

সিভিল সার্ভিসের আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞাতা হলো- আমাদের প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে বহুদিন ধরেই একটা অলিখিত সংস্কৃতি রয়েছে আর তা হলো অনিয়মকে কোনোরকম স্পর্শ না করা, প্রভাবশালীদেরকে না ঘাটানো, প্রতিষ্ঠিত স্বার্থকে চ্যালেন্জ না করা, নতুন কিছু না করা। কোনো ঝুঁকি নেয়া যাবে না, নিজের চাকরি আগে। সারা চাকরি জীবনে দেখেছি এই সংস্কৃতি যারা মেনে চলেছেন তারা নিরাপদ থেকেছেন, চাকরিতে উন্নতি করেছেন তারাই। তারাই ট্যাক্টফুল কর্মকর্তা। প্রশাসনের ভিতওে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটা বলয়, সংস্কৃতি তৈরি হয়ে যায়- উদ্যেগ নেয়ার চেয়ে চুপচাপ থাকো, সংস্কার নয়, গতানুগতিকতাই শ্রেয়, কোনো প্রশ্ন করা যাবে না, নীরবতাই হিরন্ময়। 

রাষ্ট্রকে এগিয়ে যেতে হয়। এই ধরণের কর্মকর্তারা রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে কোনো ভূমিকা রাখতে পারেন না। রাষ্ট্র এগিয়ে যায় তাদের হাত ধরে যারা প্রয়োজনের সময় প্রচলিত প্রথাকে প্রশ্ন করেছেন, অনিয়মের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন, জনস্বার্থকে ব্যক্তিগত স্বার্থের উর্ধ্বে স্থান দিতে পেরেছেন। 

প্রশাসন যখন অতিরিক্ত সতর্ক হয়ে পড়ে, অতিরিক্ত সমঝোতাপ্রবণ হয়, অতিরিক্ত ট্যাক্টফুল হয়ে পড়ে তখন সেখানে দুর্নীতি, অদক্ষতা এবং জবাবদিহিহীনতা আসন গেড়ে বসে। 

একজন ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) তার জেলার একটি মাজারের টাকা পয়সার হিসাব চাইতেই পারেন। এ কারণে তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এটি সুশাসনের স্বাভাবিক একটা অংশ। হিসাব চাওয়া মানেই কাউকে অভিযুক্ত করা নয়, হিসাব চাওয়া মানে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। 

দুর্ভাগ্যজনক সত্যি হলো আমাদের সমাজে, রাস্ট্রীয় ব্যবস্থায় প্রশ্নকর্তাকেই অভিযুক্ত করা হয়, যিনি স্বচ্ছতা চান তাঁকেই বিতর্কিত করা হয়, যিনি হিসাব চান তাঁকেই অশান্তির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। 

একটি রাষ্ট্রের শক্তি তার সেতু, ভবন কিংবা বাজেটের আকারে নয়, তার শক্তি নিহিত থাকে প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতায়। জনগণ তখনই রাষ্ট্রের ওপর আস্থা রাখে যখন তারা দেখে আইন সবার জন্য সমান। যখন তারা দেখে কোনো ক্যক্তি বা গোষ্টী বিশেষ সুবিধা ভোগ করতে পারছে না। সরকার যখন জনগনের আশা আকাঙ্খার বিপক্ষে দাঁড়ায় তখন সেই সরকার জনগণের আস্থা হারায়, সেই সরকার বেশিদিন টিকতে পারে না। 

আজকের বাংলাদেশে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন উন্নয়নের পাশাপাশি সুশাসন। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ সুশাসন, জবাবদিহিতা। কারণ সুশাসন এবং জবাবদিহিতা ছাড়া কোনো উন্নয়ন টেকসই হয় না, সরকার এবং রাষ্ট্র টিকে না। 

আমরা এমন একটা প্রশাসন চাই যেখানে কর্মকর্তারা ভয় নয় নীতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিবেন, যেখানে সত্য বলা ঝুঁকিপূর্ণ হবে না, যেখানে ট্যাক্টফুল অর্থ হবে বিচক্ষণ ও কৌশলী হওয়া কিন্তু সত্যকে আড়াল করা নয়। 

আজকে আমাদের সামনে একটা প্রশ্ন এসে দাঁড়িয়েছে আমরা কোন শ্রেণীর কর্মকর্তাদেরকে উৎসাহিত করব যারা যারা শুধু নিজের অবস্থান রক্ষা করতে জানেন নাকি এমন কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন করব যারা প্রতিষ্ঠিত স্বার্থের মুখোমুখি দাঁড়ানোর সাহস রাখে। আমরা কী চাই-নিরব আমলাতন্ত্রের বাংলাদেশ নাকি জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ। 

সারোয়ার আলমের ঘটনা প্রমাণ করে আমরা চাই নিরব আমলাতন্ত্রের ট্যাক্টফুল কর্মকর্তাদের একট বাংলাদেশ। আমাদের মনে রাখতে হবে- ট্যাক্টফুল কর্মকর্তা রাষ্ট্র চালাতে পারে কিন্তু নৈতিক সাহসসম্পন্ন কর্মকর্তা রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিয়ে যায়। 

(লেখকের নিজস্ব মত)

[লেখক: অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়]

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬


ট্যাক্টফুল আমলাতন্ত্র বনাম জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্র

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

সরকারি চাকরিতে যোগদান করার পর অগ্রজ সহকর্মীদের কাছ হতে প্রথম যে সবকটি পেয়েছি তা হলো- ‘ট্যাক্টফুল হও’। ট্যাক্ট শব্দটির সঙ্গে তখনো আমার পরিচয় ঘটেনি। অভিধান ঘেঁটেঘুটে আমি এর পরিষ্কার মানে খুঁজে বের করতে পারিনি। ৩০ বছর চাকরি করেও ট্যাক্টফুল কাকে বলে, কত প্রকার ও কী কী বুঝতে পারিনি। 

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সেই বিখ্যাত কবিতার উক্তির মতো- ‘নাদের আলী আমি আর কত বড় হবো? আর কত বড়ো হলে নাদের চৌপ্রহরের বিল দেখাতে নিয়ে যাবে দাদা ঠাকুরের মতো আর কতকাল চাকরি করলে আমি ট্যাক্টফুল হবো, হতে পারতাম তা?

ট্যাক্টফুল হওয়ামার মানে কি মুরুব্বীগণ বুঝাতে চেয়েছিলেন-পরিস্থিতি সামাল দেয়ার ক্ষমতা, সংঘাত এড়িয়ে চলার কৌশল, নিজের অবস্থান ও ক্যারিয়ার সুরক্ষার এক প্রকার বর্ম? যদি তাই হয় তাহলে আমি এটাকে তেমন দোষের কিছু মনে করি না। ইচ্ছে করে কে সংঘাত ডেকে আনতে চায়, ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব, নেতৃত্বের কৌশলই হচ্ছে সংঘাত আর দ্বন্দের নিরসন করা। আধুনিক সংগঠন সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় সবগুলোই অত্যন্ত জটিল। একটা দ্বান্দিক পরিবেশের মধ্য দিয়ে সংগঠনকে এগিয়ে নিতে হয়। সুতারাং এখানে নেতৃত্ব ট্যাক্টফুল না হলে সংগঠন টিকে থাকতে পারে না। এ ক্ষেত্রে নেতৃত্বকে ট্যাক্টফুল হওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। আধুনিক আমলাতন্ত্রের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি প্রায়োগিক। বিশেষ করে প্রশাসন ক্যাডারের আমলাদেরকে সবসময় একটা জটিল রাজনৈতিক পরিবেশে কাজ করতে গিয়ে নানা প্রতিকুল অবস্থার সম্মুখীন হতে হয়। 

ট্যাক্টফুল হতে পারা নিসন্দেহে একটি ভালো গুণ। দীর্ঘ ৩০ বছরের চাকরি জীবনে আমার কাছে মাঝে মাঝে এই ট্যাক্টফুল হওয়াকে আমার কাছে একটা মস্ত গোলক ধাঁধা মনে হয়েছে। একটি প্রশ্ন আমার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে- ট্যাক্টফুল হওয়া মানে কি সত্যের সঙ্গে আপস করার অপর নাম? একজন কর্মকর্তা কি শুধুই পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলবেন, নিজের চাকরি বাঁচাবেন আর ক্যারিয়ারের কথা ভেবে ভেবে প্রতিনিয়ত তার দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা ভুলে যাবেন, নাকি তিনি প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠিত স্বার্থের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্র তথা জনগণের স্বার্থ দেখবেন? একজন সরকারি কর্মকর্তা কী চায় সেটি শুধু তার চাওয়ার ওপর নির্ভর করে না। রাষ্ট্র কী চায় তার ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করে। রাষ্ট্র কী একজন ট্যাক্টফুল প্রশাসক চায় নাকি একজন নৈতিকতাসম্পন্ন দক্ষ প্রশাসক চায় যিনি রাষ্ট্রের জন্য, জনগণের জন্য কাজ করবেন?

সম্প্রতি সিলেটে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা এই প্রশ্নগুলোকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। একটি বিশেষ পরিস্থিতে জনাব সারোয়ার আলম সিলেটের জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পান। মোবাইল কোর্ট আর র‌্যাবের ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি পাদপ্রদীপের সামনে আসেন। তার কাজ দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান। পাঁচ আগস্ট ২০২৪ এর ঘটনার পর সিলেটের বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র ভোলাগঞ্জের সমস্ত সাদা পাথর লুট হয়ে যায়। সারোয়ার আলমকে সেখানে ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) হিসেবে পাঠানো হলে তিনি লুণ্ঠিত পাথরের কিয়দংশ ফেরত প্রদানে লুন্ঠনকারীদেরকে বাধ্য করেন। সিলেট রেলের টিকেট কালোবাজারী বন্ধেও তিনি কঠোর ব্যবস্থা নেন। তিনি আও অনেক জনবান্ধব কাজ করেন যাতে সাধারণ জনগণের আস্থাভাজন একজন প্রশাসক হিসেবে নিজেকে তোলে ধরতে তিনি সক্ষম হন। 

অনেকগুলো ভালো কাজ করতে গিয়ে তিনি স্বার্থান্বেষী একটি মহলের চক্ষুকূলে পরিণত হন। তারা তাকে ঘায়েল করার একটা মোক্ষম সুযোগ খুঁজছিলেন। 

সাতশ বছরের পুরানো হযরত শাহজালালের মাজার। সিলেটর ইতিহাস আর ঐতিহ্যের প্রধান আকর্ষণ। হযরত শাহজালালের মাজারকে কেন্দ্র করেই সিলেট শহর গড়ে উঠেছে। সারা দেশ থেকে প্রতিদিন হাজার ভক্ত মাজারে ছোটে আসেন বিভিন্ন মানত নিয়ে। তারা খালি হাতে আসেন না। টাকা-পয়সা, সোনাদানা সঙ্গে করে নিয়ে আসেন, মাজারের বড় ডেগে তারা মানতের টাকা পয়সা সোনাদানা ফেলেন। সেই টাকা পয়সা সোনাদানার খরচাপাতি যা করার তা মাজারের খাদেম নামে একটা গোষ্টী নিয়ন্ত্রণ করেন। তারা নিজেদেরকে হযরত শাহজালালের বংশধর হিসেবে হাবী করে দান খয়রাতের টাকা পয়সা সোনাদানা নিজেদের পৈত্রিক সম্পদ হিসেবে গণ্য করতে থাকেন। ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায় হযরত শাহজালালের কোনো বংশধর এদেশ আদৌ ছিল না কেননা তিনি কোনো বিয়েই করেননি। মাজারের খাদেমগিরির নামে লিল্লাহ সদকার টাকা মেরে খাওয়াই তাদের কাজ। সাতশ বছর ধরেই তারা অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে কাজটি করে আসছেন। মাজারের টাকা দিয়ে তারা বাড়ি গাড়ি করেছেন, ছেলেমেয়েক দেশবিদেশে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, নিজেরা বিলাসবহুল জীবনযাপন করেছেন। সেখানে থেকে কিছু ভাগ হয়তো মাঝে মাঝে প্রশাসন আর রাজনীতিবিদদের দিয়েছেন তাদের মুখ বন্ধ রাখার জন্য। 

বাঁধ সাধলেন সারোয়ার আলম। মাজারের উন্নতির জন্য সম্প্রতি পয়ত্রিশ কোটি টাকার একটা প্রজেক্ট পাস হয়। প্রজেক্টটি বাস্তবায়নের জন্য দরকার পাঁচ কোটি টাকার ম্যাচিং ফান্ড। সিটি কর্পোরেশন দেবে তিন কোটি আর মাজার কর্তৃপক্ষ দিবে দুই কোটি। সেই দুই কোটি টাকা মাজার কর্তৃপক্ষ দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। মাজার ফান্ডে টাকা নেই। টাকা থাকবে কোত্থেকে? সদকা, লিল্লাহখোরেরা মাজারের সব টাকা পয়সা হজম করে ফেলেছেন। 

ডিসি সারোয়ার হিসাব চাইল কিন্তু খাদেম গোষ্টী বললো- তারা হিসাব দিবে না, তাদের কাছে হিসাব নাই। ৭শ’ বছর ধরে কেউ হিসাব চায়নি, ডিসি সারোয়ার হিসাব চাইবার কে ইত্যাদি । 

ডিসি সারোয়ার মাজার প্রাঙ্গনে এক সরকারি ডেগ বসিয়ে দিলেন। তিনদিন পর তালা খুলে দেখা গেল সেখানে সতের লাখ টাকা জমা পড়েছে। সোনাদানাও কিছু ছিল। শুক্র, শনি আর বার্ষিক ওরসের সময় দান খয়রাতের পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। খাদেমরা হাতে হাতেও টাকা পয়সা ভক্তদের কাছ হতে নিয়ে নেন। তিনদিনে যদি সতের লাখ টাকা এক ডেগেই জমা হয় তাহলে গড়ে প্রতিদিন প্রায় সাত লাখ টাকা জমা পড়ার কথা। সেই হিসেবে মাসে দুই কোটি দশ লাখ, বছরে তেরো কোটি। দেশ স্বাধীন পর থেকে হিসাব করলে পঞ্চান্ন বছরে মাজারের আয় দাঁড়ায় কম বেশি সাতশ কোটি টাকা। মনে রাখবেন এটি মাত্র পঞ্চান্ন বছরের আয়। বাকি সাড়ে ৬শ’ বছরের হিসাব আলাদা। সেটি হিসাব করতে গেলে মাথা চক্কর মারবে। 

আয় থেকে একটা অংশ ব্যয় হয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সেটি কত টাকা? খুব বেশি হওয়ার কথা নয়। মসজিদ, মাদ্রাসা আর মাজারের রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ ব্যয় সহজেই বের করে ফেলা যায়। খাদেমরা দুই কোটি টাকা দিতে পারল না কেনো? পারার কোনো কারণ নেই, কারণ আয় ব্যয়ের কোনো হিসাব রাখার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেনি, করলেই দানখয়রাতের টাকা আত্নসাৎ করা যাবে না। 

হিসাব চাওয়াতে ডিসি সারোয়ারেকে উঠিয়ে নেয়া হলো। সরকারি গতানুগতিক বয়ানে বলা হলো এটি জনস্বার্থে করা হয়েছে। সব বদলি আদেশেই এটি উল্লেখ থাকে। কিন্তু যাদের স্বার্থে ডিসি সারোয়ারকে বদলি করা হলো সেই জনগণ সেটি বুঝলো না। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠালো, ডিসি সারোয়ারের বদলি আদেশ বাতিলের জন্য মিছিল মিটিং পর্যন্ত করল। 

এই ঘটনাটি জনমনে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে- একজন কর্মকর্তা যখন স্বচ্ছতা আর জবাবদিহিতা প্রতিষ্টার উদ্যেগ নেন তখন রাষ্ট্রের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত?

গণতন্ত্র আর আধুনিক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হলো জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা। কোনো ব্যক্তি, গোষ্টি, প্রতিষ্ঠান কিংবা ঐতিহ্য কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়- যেটাকে আমরা বলি আইনের শাসন। রাষট্রের অধীনে থাকা জনগণের টাকা পয়সা যেখানে আছে সেখানে সব আর্থিক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা থাকা আবশ্যক। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বেলায়ও এই নীতি প্রযোজ্য। ধর্মীয় মর্যাদা কখনোই আর্থিক জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না। এখানে যারা দান খয়রাত করেন তাদের আস্থার বিষয়টি জড়িত। 

সিভিল সার্ভিসের আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞাতা হলো- আমাদের প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে বহুদিন ধরেই একটা অলিখিত সংস্কৃতি রয়েছে আর তা হলো অনিয়মকে কোনোরকম স্পর্শ না করা, প্রভাবশালীদেরকে না ঘাটানো, প্রতিষ্ঠিত স্বার্থকে চ্যালেন্জ না করা, নতুন কিছু না করা। কোনো ঝুঁকি নেয়া যাবে না, নিজের চাকরি আগে। সারা চাকরি জীবনে দেখেছি এই সংস্কৃতি যারা মেনে চলেছেন তারা নিরাপদ থেকেছেন, চাকরিতে উন্নতি করেছেন তারাই। তারাই ট্যাক্টফুল কর্মকর্তা। প্রশাসনের ভিতওে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটা বলয়, সংস্কৃতি তৈরি হয়ে যায়- উদ্যেগ নেয়ার চেয়ে চুপচাপ থাকো, সংস্কার নয়, গতানুগতিকতাই শ্রেয়, কোনো প্রশ্ন করা যাবে না, নীরবতাই হিরন্ময়। 

রাষ্ট্রকে এগিয়ে যেতে হয়। এই ধরণের কর্মকর্তারা রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে কোনো ভূমিকা রাখতে পারেন না। রাষ্ট্র এগিয়ে যায় তাদের হাত ধরে যারা প্রয়োজনের সময় প্রচলিত প্রথাকে প্রশ্ন করেছেন, অনিয়মের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন, জনস্বার্থকে ব্যক্তিগত স্বার্থের উর্ধ্বে স্থান দিতে পেরেছেন। 

প্রশাসন যখন অতিরিক্ত সতর্ক হয়ে পড়ে, অতিরিক্ত সমঝোতাপ্রবণ হয়, অতিরিক্ত ট্যাক্টফুল হয়ে পড়ে তখন সেখানে দুর্নীতি, অদক্ষতা এবং জবাবদিহিহীনতা আসন গেড়ে বসে। 

একজন ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) তার জেলার একটি মাজারের টাকা পয়সার হিসাব চাইতেই পারেন। এ কারণে তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এটি সুশাসনের স্বাভাবিক একটা অংশ। হিসাব চাওয়া মানেই কাউকে অভিযুক্ত করা নয়, হিসাব চাওয়া মানে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। 

দুর্ভাগ্যজনক সত্যি হলো আমাদের সমাজে, রাস্ট্রীয় ব্যবস্থায় প্রশ্নকর্তাকেই অভিযুক্ত করা হয়, যিনি স্বচ্ছতা চান তাঁকেই বিতর্কিত করা হয়, যিনি হিসাব চান তাঁকেই অশান্তির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। 

একটি রাষ্ট্রের শক্তি তার সেতু, ভবন কিংবা বাজেটের আকারে নয়, তার শক্তি নিহিত থাকে প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতায়। জনগণ তখনই রাষ্ট্রের ওপর আস্থা রাখে যখন তারা দেখে আইন সবার জন্য সমান। যখন তারা দেখে কোনো ক্যক্তি বা গোষ্টী বিশেষ সুবিধা ভোগ করতে পারছে না। সরকার যখন জনগনের আশা আকাঙ্খার বিপক্ষে দাঁড়ায় তখন সেই সরকার জনগণের আস্থা হারায়, সেই সরকার বেশিদিন টিকতে পারে না। 

আজকের বাংলাদেশে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন উন্নয়নের পাশাপাশি সুশাসন। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ সুশাসন, জবাবদিহিতা। কারণ সুশাসন এবং জবাবদিহিতা ছাড়া কোনো উন্নয়ন টেকসই হয় না, সরকার এবং রাষ্ট্র টিকে না। 

আমরা এমন একটা প্রশাসন চাই যেখানে কর্মকর্তারা ভয় নয় নীতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিবেন, যেখানে সত্য বলা ঝুঁকিপূর্ণ হবে না, যেখানে ট্যাক্টফুল অর্থ হবে বিচক্ষণ ও কৌশলী হওয়া কিন্তু সত্যকে আড়াল করা নয়। 

আজকে আমাদের সামনে একটা প্রশ্ন এসে দাঁড়িয়েছে আমরা কোন শ্রেণীর কর্মকর্তাদেরকে উৎসাহিত করব যারা যারা শুধু নিজের অবস্থান রক্ষা করতে জানেন নাকি এমন কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন করব যারা প্রতিষ্ঠিত স্বার্থের মুখোমুখি দাঁড়ানোর সাহস রাখে। আমরা কী চাই-নিরব আমলাতন্ত্রের বাংলাদেশ নাকি জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ। 

সারোয়ার আলমের ঘটনা প্রমাণ করে আমরা চাই নিরব আমলাতন্ত্রের ট্যাক্টফুল কর্মকর্তাদের একট বাংলাদেশ। আমাদের মনে রাখতে হবে- ট্যাক্টফুল কর্মকর্তা রাষ্ট্র চালাতে পারে কিন্তু নৈতিক সাহসসম্পন্ন কর্মকর্তা রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিয়ে যায়। 

(লেখকের নিজস্ব মত)

[লেখক: অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়]


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত