সংবাদ

​কক্সবাজারে পাহাড় ধসে নিহত ৯


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৬ জুলাই ২০২৬, ১০:১১ এএম

​কক্সবাজারে পাহাড় ধসে নিহত ৯

​কক্সবাজারে প্রবল বর্ষণে পৃথক চারটি স্থানে পাহাড় ধসের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও শিশুসহ অন্তত নয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। রবিবার (৫ জুলাই) দিবাগত রাত থেকে সোমবার ভোররাত পর্যন্ত উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং কক্সবাজার শহরের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।

​স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫নং জামতলী ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে প্রথম পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। ভারি বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ আশ্রিত রোহিঙ্গা মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের (৪৪) বসতঘরের ওপর ভেঙে পড়ে। এতে ঘরের ভেতরে থাকা কামাল হোসাইন, তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং তাদের চার বছরের শিশু সন্তান মোহাম্মদ আনাস মাটির নিচে চাপা পড়ে মারা যান।

​উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তারা তিনজনের মরদেহ এবং দুজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

​দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে রাত ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে। পাহাড়ি ঢলের সাথে আসা মাটির নিচে চাপা পড়ে একরাম (০৭) নামের এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়। সে ওই ক্যাম্পের মোহাম্মদ রশিদের ছেলে। ক্যাম্পের মাঝি এনায়েত উল্লাহ জানান, স্থানীয় রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরাই শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।

​এরপর রাত ৩টার দিকে বালুখালী ১১নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে আরেকটি বড় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। ক্যাম্প প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সেখানে দুই নারী ও দুই শিশুসহ চারজন নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন,  আব্দুর রাজ্জাকের দুই মেয়ে উম্মে হাবিবা (২৭) ও তানজিনা আক্তার (১৩), এবং মোহাম্মদ রশিদের দুই ছেলে মোহাম্মদ রিহান (০৫) ও হারুনুর রশিদ (০৩)।

​রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাইরে সোমবার ভোররাত ৪টার দিকে কক্সবাজার শহরের ১২নং ওয়ার্ডের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। মাটির নিচে একই পরিবারের তিনজন চাপা পড়লে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে। এর মধ্যে আলী আকবর নামের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

​উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানিয়েছেন, অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। তিনি সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার জোর আহ্বান জানান।

​এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, কক্সবাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কক্সবাজারের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই ভারি বর্ষণ হচ্ছে। আগামী আরও দুইদিন এই ধরনের ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অফিস।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬


​কক্সবাজারে পাহাড় ধসে নিহত ৯

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

​কক্সবাজারে প্রবল বর্ষণে পৃথক চারটি স্থানে পাহাড় ধসের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও শিশুসহ অন্তত নয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। রবিবার (৫ জুলাই) দিবাগত রাত থেকে সোমবার ভোররাত পর্যন্ত উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং কক্সবাজার শহরের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।

​স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫নং জামতলী ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে প্রথম পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। ভারি বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ আশ্রিত রোহিঙ্গা মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের (৪৪) বসতঘরের ওপর ভেঙে পড়ে। এতে ঘরের ভেতরে থাকা কামাল হোসাইন, তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং তাদের চার বছরের শিশু সন্তান মোহাম্মদ আনাস মাটির নিচে চাপা পড়ে মারা যান।

​উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তারা তিনজনের মরদেহ এবং দুজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

​দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে রাত ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে। পাহাড়ি ঢলের সাথে আসা মাটির নিচে চাপা পড়ে একরাম (০৭) নামের এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়। সে ওই ক্যাম্পের মোহাম্মদ রশিদের ছেলে। ক্যাম্পের মাঝি এনায়েত উল্লাহ জানান, স্থানীয় রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরাই শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।

​এরপর রাত ৩টার দিকে বালুখালী ১১নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে আরেকটি বড় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। ক্যাম্প প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সেখানে দুই নারী ও দুই শিশুসহ চারজন নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন,  আব্দুর রাজ্জাকের দুই মেয়ে উম্মে হাবিবা (২৭) ও তানজিনা আক্তার (১৩), এবং মোহাম্মদ রশিদের দুই ছেলে মোহাম্মদ রিহান (০৫) ও হারুনুর রশিদ (০৩)।

​রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাইরে সোমবার ভোররাত ৪টার দিকে কক্সবাজার শহরের ১২নং ওয়ার্ডের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। মাটির নিচে একই পরিবারের তিনজন চাপা পড়লে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে। এর মধ্যে আলী আকবর নামের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

​উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানিয়েছেন, অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। তিনি সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার জোর আহ্বান জানান।

​এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, কক্সবাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কক্সবাজারের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই ভারি বর্ষণ হচ্ছে। আগামী আরও দুইদিন এই ধরনের ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অফিস।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত