বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলার সদর, বাইশারী, ঘুমধুম, দোছড়ি ও সোনাইছড়ি ইউনিয়নে কর্মজীবী মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে সড়ক ভেঙে যোগাযোগব্যবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে এবং দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন সড়কের বেহাল দশার কারণে শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ পথচারীদের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এদিকে ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু এলাকার নিচু ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। উপজেলার সদর, দোছড়ি ও সোনাইছড়িতে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় রয়েছে হাজার হাজার মানুষ। চলমান সড়ক সংস্কারকাজ শেষ না হওয়ায় বৃষ্টির কারণে রাস্তাগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
জানা যায়, ইতোমধ্যে ঘুমধুম এলাকায় ছোটখাটো পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সোনাইছড়ি, দোছড়ি ও বাইশারী এলাকায় খালের তীব্র স্রোতে বেশ কিছু সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে স্থানীয় যানবাহন।
এরই মধ্যে কোনো ঘোষণা ছাড়াই পল্লী বিদ্যুতের সরবরাহ বন্ধ থাকায় জনদুর্ভাগ আরও বেড়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না এবং ফ্রিজে রাখা খাবার নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এনামুল হাসান বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে ইউনিয়ন পরিষদ আশ্রয়নকেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাদের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দুর্যোগপূর্ণ এই সময়ে দ্রুত সড়ক মেরামত এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা জরুরি। একই সঙ্গে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
আপনার মতামত লিখুন