নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মাসদাইরে ছিনতাইকারী আখ্যা দিয়ে সিজান (২০) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও ওলামা দল নেতাসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) সকালে নিহতের মা শিল্পী বেগম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় এই হত্যা মামলা করেন।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন-পশ্চিম মাসদাইরের আল ফালাহ জামে মসজিদের ইমাম ও খেলাফত মজলিসের সদর থানা শাখার সাবেক সহসভাপতি মুফতি কাউছার আহাম্মেদ কাসেমী, জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের ফতুল্লা থানার আহ্বায়ক জিলানী ফকির, আব্দুল গনি, আজহার রাজমিস্ত্রী, সাইদুল ও আলম। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১৪ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম বলেন, মরদেহ দাফনের পর নিহতের মা মামলাটি করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
মামলার এজাহারে সিজানের মা উল্লেখ করেছেন, তার ছেলে বিপথে গেলেও পরিবারের চেষ্টায় সুস্থ জীবনে ফিরে এসেছিল। সে তার বড় ভাইয়ের কাঁচামালের ব্যবসায় সহযোগিতা করত। গত শনিবার বিকেলে অনিক নামের এক যুবককে মোবাইল চোর সন্দেহে ধরে নিয়ে মারধর করছিল অভিযুক্তরা। পরে সিজানকেও বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। দুজনকে রাস্তার পাশে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে স্টিলের পাইপ দিয়ে পেটানো হয়। চিৎকার বন্ধ করতে সিজানের মুখে কাপড় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। খবর পেয়ে মা শিল্পী বেগম সেখানে গিয়ে অনুনয়-বিনয় করলেও কাজ হয়নি। সন্ধ্যায় অচেতন অবস্থায় তাকে তুলে দেওয়া হলে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা সিজানকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্তরা ‘আল ফালাহ সমাজ কল্যাণ সংগঠন’ নামের একটি সংগঠনের সদস্য। এই সংগঠনের নামে তারা এলাকায় প্রায়ই ‘মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের’ আড়ালে লোকজনকে ধরে এনে মারধর করতেন। সিজানকে পেটানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। একটি ভিডিওতে মুফতি কাউছারকে বলতে শোনা যায়, ‘ঐক্য থাকলে বাংলাদেশের প্রশাসন কি, কোনো কুত্তায়ও আমাদের কিছু করতে পারবে না। পাবলিক যদি কাউকে মেরে ফেলে, কোনো মামলা হবে না।’
তবে ঘটনার পরদিন সাংবাদিকদের কাছে কাউছার কাসেমী দাবি করেন, সিজান ছিনতাইকারী ছিল এবং উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করেছে। সংগঠনের উপদেষ্টা জিলানী ফকিরও জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন। মামলার পর থেকে তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন