সংবাদ

ফেলে দেওয়া কলাগাছের আঁশে তৈরি হলো শাড়ি


প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল
প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল
প্রকাশ: ৯ জুলাই ২০২৬, ১২:১৭ পিএম

ফেলে দেওয়া কলাগাছের আঁশে তৈরি হলো শাড়ি
তাঁতে শাড়ি বুনছেন শিল্পী রাধাবতী দেবী। ছবি : সংবাদ

কৃষিজ বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া কলাগাছের কাণ্ড থেকে তৈরি আঁশ বা তন্তু দিয়ে শাড়ি বুনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছেন এক তাঁতশিল্পী। বান্দরবান জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই ব্যতিক্রমী সাফল্য এসেছে। এই তন্তু দিয়ে এর আগে নানা হস্তশিল্প তৈরি হলেও এবারই প্রথম পূর্ণাঙ্গ শাড়ি তৈরি করা হলো।

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে ২০২১ সালে একটি পাইলট প্রকল্প শুরু করে জেলা প্রশাসন। তৎকালীন জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজির নেতৃত্বে এই উদ্যোগে কলাগাছের তন্তু থেকে সুতা তৈরির কাজ শুরু হয়। একটি কলাগাছ থেকে গড়ে প্রায় ২০০ গ্রাম সুতা পাওয়া যায়। সেই সুতা দিয়েই তৈরি হয়েছে পরিবেশবান্ধব এই শাড়ি।

এই অসাধ্য সাধনের মূলে রয়েছেন অভিজ্ঞ তাঁতশিল্পী রাধাবতী দেবী। তিনি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাঝেরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ মনিপুরী তাঁতশিল্পী। জেলা প্রশাসনের আমন্ত্রণে বান্দরবানে এসে তিনি নতুন এই কাঁচামাল নিয়ে কাজ শুরু করেন। মাত্র ৮ থেকে ১২ দিনের পরিশ্রমে তিনি কলাগাছের সুতায় প্রায় সাড়ে ১৩ হাত দীর্ঘ একটি শাড়ি বুনে ফেলেন। শাড়িটির বুননে কোনো কৃত্রিম রঙের আধিক্য নেই, বরং তন্তুর স্বাভাবিক টেক্সচারই একে আলাদা বৈশিষ্ট্য দিয়েছে।

রাধাবতী দেবী বলেন, “নতুন ধরনের এই সুতা দিয়ে কাজ করা চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে ধৈর্য ধরে কাজ করায় সাফল্য এসেছে। এটি দেশের তাঁতশিল্পে এক নতুন অধ্যায় হতে পারে।”

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২১ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪০০ নারীকে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। শাড়ি ছাড়াও এই তন্তু দিয়ে বর্তমানে ব্যাগ, ম্যাট, জুতা ও ফাইল ফোল্ডারের মতো নানা পণ্য তৈরি হচ্ছে, যা পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।

তবে এই উদ্ভাবনকে বাণিজ্যিক রূপ দিতে এখনো কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কলাগাছের তন্তু কিছুটা শক্ত হওয়ায় একে আরও মসৃণ ও উন্নত করার জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণার প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সহায়তা পেলে এই উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।

/

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬


ফেলে দেওয়া কলাগাছের আঁশে তৈরি হলো শাড়ি

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

কৃষিজ বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া কলাগাছের কাণ্ড থেকে তৈরি আঁশ বা তন্তু দিয়ে শাড়ি বুনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছেন এক তাঁতশিল্পী। বান্দরবান জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই ব্যতিক্রমী সাফল্য এসেছে। এই তন্তু দিয়ে এর আগে নানা হস্তশিল্প তৈরি হলেও এবারই প্রথম পূর্ণাঙ্গ শাড়ি তৈরি করা হলো।

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে ২০২১ সালে একটি পাইলট প্রকল্প শুরু করে জেলা প্রশাসন। তৎকালীন জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজির নেতৃত্বে এই উদ্যোগে কলাগাছের তন্তু থেকে সুতা তৈরির কাজ শুরু হয়। একটি কলাগাছ থেকে গড়ে প্রায় ২০০ গ্রাম সুতা পাওয়া যায়। সেই সুতা দিয়েই তৈরি হয়েছে পরিবেশবান্ধব এই শাড়ি।

এই অসাধ্য সাধনের মূলে রয়েছেন অভিজ্ঞ তাঁতশিল্পী রাধাবতী দেবী। তিনি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাঝেরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ মনিপুরী তাঁতশিল্পী। জেলা প্রশাসনের আমন্ত্রণে বান্দরবানে এসে তিনি নতুন এই কাঁচামাল নিয়ে কাজ শুরু করেন। মাত্র ৮ থেকে ১২ দিনের পরিশ্রমে তিনি কলাগাছের সুতায় প্রায় সাড়ে ১৩ হাত দীর্ঘ একটি শাড়ি বুনে ফেলেন। শাড়িটির বুননে কোনো কৃত্রিম রঙের আধিক্য নেই, বরং তন্তুর স্বাভাবিক টেক্সচারই একে আলাদা বৈশিষ্ট্য দিয়েছে।

রাধাবতী দেবী বলেন, “নতুন ধরনের এই সুতা দিয়ে কাজ করা চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে ধৈর্য ধরে কাজ করায় সাফল্য এসেছে। এটি দেশের তাঁতশিল্পে এক নতুন অধ্যায় হতে পারে।”

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২১ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪০০ নারীকে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। শাড়ি ছাড়াও এই তন্তু দিয়ে বর্তমানে ব্যাগ, ম্যাট, জুতা ও ফাইল ফোল্ডারের মতো নানা পণ্য তৈরি হচ্ছে, যা পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।

তবে এই উদ্ভাবনকে বাণিজ্যিক রূপ দিতে এখনো কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কলাগাছের তন্তু কিছুটা শক্ত হওয়ায় একে আরও মসৃণ ও উন্নত করার জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণার প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সহায়তা পেলে এই উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।

/


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত