সংবাদ

পোশাককর্মীর আত্মহত্যা: ‘পরকীয়া নয়, কারণ পারিবারিক বিরোধ’


প্রতিনিধি, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)
প্রতিনিধি, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৯ এএম

পোশাককর্মীর আত্মহত্যা: ‘পরকীয়া নয়, কারণ পারিবারিক বিরোধ’
নেছারাবাদ থানা। ছবি : সংগৃহীত

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার পোশাককর্মী সজল কুমার দেউরীর আত্মহত্যার ১৩ দিন পর নতুন তথ্য দিয়েছেন তার স্ত্রী রঞ্জিতা রানী হালদার। তার দাবি, সজলের আত্মহত্যার পেছনে কোনো পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল না; বরং পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও মানসিক চাপের কারণে তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন। নিহতের মা ও ছোট ভাইও জানিয়েছেন, তারা পরকীয়ার বিষয়ে কোনো কিছু জানতেন না।

সজল কুমার দেউরী উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের কাটাপিটানিয়া গ্রামের স্বপন কুমার দেউরীর ছেলে। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। গত ২৯ জুন সোমবার সকালে ঢাকার একটি ভাড়া বাসায় ভিডিও কলে স্ত্রী ও মাকে রেখে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন।

নিহতের স্ত্রী রঞ্জিতা রানী সাংবাদিকদের বলেন, “আমার স্বামীর সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক ছিল। কিন্তু ঘটনার এক সপ্তাহ আগে থেকে দেবর ও শাশুড়ির সঙ্গে ঘর এবং জমি ভাগাভাগি নিয়ে তার কথা-কাটাকাটি চলছিল। সেই বিরোধের চূড়ান্ত পরিণতিই এই আত্মহত্যা। এখানে পরকীয়ার বিষয়টি এনে প্রকৃত ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে।”

রঞ্জিতা আরও অভিযোগ করেন, স্বামীর মৃত্যুর পর তাকে অপবাদ দিয়ে তার স্বর্ণালংকার, মুঠোফোন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি ছোট মেয়েকে নিয়ে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন এবং শ্বশুরবাড়িতে ফিরতে তাকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

নিহতের ছোট ভাই সুজিত কুমার দেউরী বলেন, “আমার বড় ভাই আমার কাছে বাবার মতো ছিলেন। মা আমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে সম্পত্তি সমানভাবে ভাগ করে দিতে চেয়েছিলেন। বড় ভাই তখনই সেটি করতে চাননি। এ নিয়ে কয়েকদিন সামান্য মনোমালিন্য হয়েছিল।” মা লক্ষ্মী রানী দেউরীও একই কথা জানিয়েছেন। তবে নাতনির ভবিষ্যতের কথা ভেবে তারা থানায় কোনো অভিযোগ করতে রাজি নন।

নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, যেহেতু ঘটনাস্থল ঢাকা, তাই সেখানে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। নেছারাবাদ থানায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬


পোশাককর্মীর আত্মহত্যা: ‘পরকীয়া নয়, কারণ পারিবারিক বিরোধ’

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬

featured Image

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার পোশাককর্মী সজল কুমার দেউরীর আত্মহত্যার ১৩ দিন পর নতুন তথ্য দিয়েছেন তার স্ত্রী রঞ্জিতা রানী হালদার। তার দাবি, সজলের আত্মহত্যার পেছনে কোনো পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল না; বরং পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও মানসিক চাপের কারণে তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন। নিহতের মা ও ছোট ভাইও জানিয়েছেন, তারা পরকীয়ার বিষয়ে কোনো কিছু জানতেন না।

সজল কুমার দেউরী উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের কাটাপিটানিয়া গ্রামের স্বপন কুমার দেউরীর ছেলে। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। গত ২৯ জুন সোমবার সকালে ঢাকার একটি ভাড়া বাসায় ভিডিও কলে স্ত্রী ও মাকে রেখে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন।

নিহতের স্ত্রী রঞ্জিতা রানী সাংবাদিকদের বলেন, “আমার স্বামীর সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক ছিল। কিন্তু ঘটনার এক সপ্তাহ আগে থেকে দেবর ও শাশুড়ির সঙ্গে ঘর এবং জমি ভাগাভাগি নিয়ে তার কথা-কাটাকাটি চলছিল। সেই বিরোধের চূড়ান্ত পরিণতিই এই আত্মহত্যা। এখানে পরকীয়ার বিষয়টি এনে প্রকৃত ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে।”

রঞ্জিতা আরও অভিযোগ করেন, স্বামীর মৃত্যুর পর তাকে অপবাদ দিয়ে তার স্বর্ণালংকার, মুঠোফোন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি ছোট মেয়েকে নিয়ে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন এবং শ্বশুরবাড়িতে ফিরতে তাকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

নিহতের ছোট ভাই সুজিত কুমার দেউরী বলেন, “আমার বড় ভাই আমার কাছে বাবার মতো ছিলেন। মা আমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে সম্পত্তি সমানভাবে ভাগ করে দিতে চেয়েছিলেন। বড় ভাই তখনই সেটি করতে চাননি। এ নিয়ে কয়েকদিন সামান্য মনোমালিন্য হয়েছিল।” মা লক্ষ্মী রানী দেউরীও একই কথা জানিয়েছেন। তবে নাতনির ভবিষ্যতের কথা ভেবে তারা থানায় কোনো অভিযোগ করতে রাজি নন।

নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, যেহেতু ঘটনাস্থল ঢাকা, তাই সেখানে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। নেছারাবাদ থানায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত