সংবাদ

প্রকল্পে বিরল দৃষ্টান্ত, সাশ্রয়ী টাকা কোষাগারে ফেরত


ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম

প্রকল্পে বিরল দৃষ্টান্ত, সাশ্রয়ী টাকা কোষাগারে ফেরত
ফরিদপুরে সততার অনন্য দৃষ্টান্ত: সালথায় খাল পুনঃখননে সাশ্রয় ৭৩ লাখ টাকা, সরকারি কোষাগারে ফেরত

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প মানেই যেখানে অনিয়ম, অপচয় কিংবা অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ, সেখানে সম্পূর্ণ উল্টো এবং ব্যতিক্রমী এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ফরিদপুরের সালথা উপজেলা প্রশাসন। উপজেলার তিনটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শতভাগ মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করার পর, বরাদ্দের উদ্বৃত্ত ৭৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩৬৫ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিনের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে সরকারি অর্থের এমন সাশ্রয়ী ব্যবহার সম্ভব হয়েছে। যা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সালথার আটঘর, রামকান্তপুর ও সোনাপুর ইউনিয়নের ৩টি গুরুত্বপূর্ণ খালের ৪ দশমিক ৫৩৫ কিলোমিটার অংশ পুনঃখননের জন্য মোট ১ কোটি ৬৭ লাখ ৪৯ হাজার ৪০৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল- এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ এবং কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা।

ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম কাজের গুণগত মান পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, তিন মাসব্যাপী এই খননকাজে শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতির ব্যবহার ও পরিবহনসহ সব খরচ মিটিয়ে এবং কাজের মান বজায় রেখেও এক বিশাল অঙ্ক সাশ্রয় করা সম্ভব হয়।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সদস্যরা বলেন, ‘পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও ইউএনও মহোদয় নিয়মিত তদারকি করায় কোনো অপচয় হয়নি। ফলে নির্ধারিত মান বজায় রেখেই কম ব্যয়ে কাজ শেষ হয়েছে।’

স্থানীয় কৃষকদের মতে, দীর্ঘদিন ভরাট থাকা এই খালগুলো সচল হওয়ায় বর্ষার জলাবদ্ধতা ও শুষ্ক মৌসুমের সেচ সংকট দূর হবে। একই সাথে প্রাকৃতিক মাছের আবাসন পুনরুদ্ধার হওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতি গতিশীল হবে।

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, “সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। এই অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করার পর যে অর্থ অবশিষ্ট ছিল, তা নিয়ম মেনে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই প্রশাসনের মূল দায়িত্ব।”

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬


প্রকল্পে বিরল দৃষ্টান্ত, সাশ্রয়ী টাকা কোষাগারে ফেরত

প্রকাশের তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬

featured Image

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প মানেই যেখানে অনিয়ম, অপচয় কিংবা অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ, সেখানে সম্পূর্ণ উল্টো এবং ব্যতিক্রমী এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ফরিদপুরের সালথা উপজেলা প্রশাসন। উপজেলার তিনটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শতভাগ মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করার পর, বরাদ্দের উদ্বৃত্ত ৭৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩৬৫ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিনের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে সরকারি অর্থের এমন সাশ্রয়ী ব্যবহার সম্ভব হয়েছে। যা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সালথার আটঘর, রামকান্তপুর ও সোনাপুর ইউনিয়নের ৩টি গুরুত্বপূর্ণ খালের ৪ দশমিক ৫৩৫ কিলোমিটার অংশ পুনঃখননের জন্য মোট ১ কোটি ৬৭ লাখ ৪৯ হাজার ৪০৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল- এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ এবং কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা।

ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম কাজের গুণগত মান পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, তিন মাসব্যাপী এই খননকাজে শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতির ব্যবহার ও পরিবহনসহ সব খরচ মিটিয়ে এবং কাজের মান বজায় রেখেও এক বিশাল অঙ্ক সাশ্রয় করা সম্ভব হয়।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সদস্যরা বলেন, ‘পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও ইউএনও মহোদয় নিয়মিত তদারকি করায় কোনো অপচয় হয়নি। ফলে নির্ধারিত মান বজায় রেখেই কম ব্যয়ে কাজ শেষ হয়েছে।’

স্থানীয় কৃষকদের মতে, দীর্ঘদিন ভরাট থাকা এই খালগুলো সচল হওয়ায় বর্ষার জলাবদ্ধতা ও শুষ্ক মৌসুমের সেচ সংকট দূর হবে। একই সাথে প্রাকৃতিক মাছের আবাসন পুনরুদ্ধার হওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতি গতিশীল হবে।

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, “সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। এই অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করার পর যে অর্থ অবশিষ্ট ছিল, তা নিয়ম মেনে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই প্রশাসনের মূল দায়িত্ব।”


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত