সংবাদ

নামছে পানি, বাড়ছে ক্ষত: কক্সবাজারে বন্যায় ৩২ মৃত্যু


প্রতিনিধি, কক্সবাজার
প্রতিনিধি, কক্সবাজার
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৭ এএম

নামছে পানি, বাড়ছে ক্ষত: কক্সবাজারে বন্যায় ৩২ মৃত্যু
কক্সবাজারের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় সভা। ছবি : সংবাদ

টানা ৯ দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে কক্সবাজার। পানি নামতে শুরু করলেও জেলাজুড়ে এখন কেবলই হাহাকার আর ধ্বংসের চিহ্ন। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যা ও পাহাড়ধসে এখন পর্যন্ত জেলায় ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মৎস্য খাত; ৪৬ কোটি টাকারও বেশি মাছ ও চিংড়ি ঘের ভেসে যাওয়ায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন শত শত চাষি।

সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। সভায় প্রধান অতিথি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সরকার এখন ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কৃত্রিম জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসনের হিসাবে, বন্যায় জেলার ৭০টি ইউনিয়নের প্রায় অর্ধেক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১ হাজার ৬১৩টি বসতবাড়ি, ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ২ হাজার ৪৪ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেঙে পড়েছে ৭৯টি সেতু ও কালভার্ট। এখনও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন প্রায় ১ হাজার ৬০০ মানুষ। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ৪ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত কক্সবাজারে রেকর্ড ৮২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে সর্বোচ্চ। 

সবচেয়ে বড় আঘাত পড়েছে মৎস্য খাতে; ৩ হাজার ৯১৮টি পুকুর ও ঘেরের মাছ, চিংড়ি, পোনা ও পোস্ট লার্ভা (পিএল) ভেসে গিয়ে প্রায় ৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।মৎস্য বিভাগের প্রাথমিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৭৬৮ জন মৎস্যচাষি সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বন্যার পানিতে ১ হাজার ৯৭ মেট্রিক টন মাছ, ৩৮৫ মেট্রিক টন চিংড়ি, ৩ লাখ ৫৬ হাজার পোনা এবং ২২১ লাখ পিস পোস্ট লার্ভা ভেসে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে উখিয়া উপজেলায়, যেখানে প্রায় ১৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকার মৎস্যসম্পদ নষ্ট হয়েছে। 

চকরিয়ার মৎস্যচাষি মনির উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, "পুকুরের বাঁধ ভেঙে সব মাছ বেরিয়ে গেছে। এখন নতুন করে শুরু করার মতো পুঁজিও নেই।"

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সরকারি সহায়তা পেলে তারা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন। 

স্থানীয়দের দাবি, জরুরি ত্রাণ ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি বন্যা প্রতিরোধ, নদী-খালের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ না নিলে কক্সবাজারের অর্থনীতি ও মৎস্য উৎপাদনে এ দুর্যোগের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হবে।

'\ 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬


নামছে পানি, বাড়ছে ক্ষত: কক্সবাজারে বন্যায় ৩২ মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

টানা ৯ দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে কক্সবাজার। পানি নামতে শুরু করলেও জেলাজুড়ে এখন কেবলই হাহাকার আর ধ্বংসের চিহ্ন। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যা ও পাহাড়ধসে এখন পর্যন্ত জেলায় ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মৎস্য খাত; ৪৬ কোটি টাকারও বেশি মাছ ও চিংড়ি ঘের ভেসে যাওয়ায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন শত শত চাষি।

সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। সভায় প্রধান অতিথি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সরকার এখন ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কৃত্রিম জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসনের হিসাবে, বন্যায় জেলার ৭০টি ইউনিয়নের প্রায় অর্ধেক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১ হাজার ৬১৩টি বসতবাড়ি, ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ২ হাজার ৪৪ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেঙে পড়েছে ৭৯টি সেতু ও কালভার্ট। এখনও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন প্রায় ১ হাজার ৬০০ মানুষ। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ৪ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত কক্সবাজারে রেকর্ড ৮২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে সর্বোচ্চ। 

সবচেয়ে বড় আঘাত পড়েছে মৎস্য খাতে; ৩ হাজার ৯১৮টি পুকুর ও ঘেরের মাছ, চিংড়ি, পোনা ও পোস্ট লার্ভা (পিএল) ভেসে গিয়ে প্রায় ৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।মৎস্য বিভাগের প্রাথমিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৭৬৮ জন মৎস্যচাষি সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বন্যার পানিতে ১ হাজার ৯৭ মেট্রিক টন মাছ, ৩৮৫ মেট্রিক টন চিংড়ি, ৩ লাখ ৫৬ হাজার পোনা এবং ২২১ লাখ পিস পোস্ট লার্ভা ভেসে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে উখিয়া উপজেলায়, যেখানে প্রায় ১৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকার মৎস্যসম্পদ নষ্ট হয়েছে। 

চকরিয়ার মৎস্যচাষি মনির উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, "পুকুরের বাঁধ ভেঙে সব মাছ বেরিয়ে গেছে। এখন নতুন করে শুরু করার মতো পুঁজিও নেই।"

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সরকারি সহায়তা পেলে তারা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন। 

স্থানীয়দের দাবি, জরুরি ত্রাণ ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি বন্যা প্রতিরোধ, নদী-খালের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ না নিলে কক্সবাজারের অর্থনীতি ও মৎস্য উৎপাদনে এ দুর্যোগের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হবে।

'\ 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত