গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কামালেরপাড়া ইউনিয়নে প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে অন্তত ৩০টি অবৈধ চুল্লিতে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করা হচ্ছে। উপজেলার বাঙ্গাবাড়ী ও কিংকরপুর এলাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দিন-রাত বনের কাঠ পুড়িয়ে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন বনাঞ্চল উজাড় হচ্ছে, অন্যদিকে বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে মাটির তৈরি বিশালাকার সব চুল্লি স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয়দের তথ্যমতে, প্রতিটি চুল্লিতে এক দফায় ২০০ থেকে ২৫০ মণ কাঠ পোড়ানো হয়। এসব চুল্লি থেকে নির্গত ঘন কালো ধোঁয়া ও ঝাঁজালো গন্ধে আশপাশের পরিবেশ বিষিয়ে উঠছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে জনজীবন ও কৃষিকাজ।
বাসিন্দারা জানান, গত ৫-৭ বছর ধরে এই অবৈধ ব্যবসা চলছে। ২০২৫ সালে সেনাবাহিনীর অভিযানে কারখানাগুলো বন্ধ হলেও কিছুদিন পর প্রভাবশালী চক্রটি আবারও উৎপাদন শুরু করে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকায় স্থানীয়রা এর প্রতিবাদ করার সাহস পান না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রামবাসী বলেন, ‘কারখানার মালিকরা প্রভাবশালী। প্রতিবাদ করলে আমাদের ওপর হামলার ভয় থাকে।’
পরিবেশবিদেরা বলছেন, এভাবে নির্বিচারে গাছ কেটে কয়লা তৈরির ফলে দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়ছে। বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বাড়ছে। এ ছাড়া ছাই ও ধোঁয়ায় নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমির উর্বরতা।
সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল কবির বলেন, বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তর তদারকি করছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশ রক্ষায় এসব অবৈধ কারখানা দ্রুত স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
/

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কামালেরপাড়া ইউনিয়নে প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে অন্তত ৩০টি অবৈধ চুল্লিতে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করা হচ্ছে। উপজেলার বাঙ্গাবাড়ী ও কিংকরপুর এলাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দিন-রাত বনের কাঠ পুড়িয়ে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন বনাঞ্চল উজাড় হচ্ছে, অন্যদিকে বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে মাটির তৈরি বিশালাকার সব চুল্লি স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয়দের তথ্যমতে, প্রতিটি চুল্লিতে এক দফায় ২০০ থেকে ২৫০ মণ কাঠ পোড়ানো হয়। এসব চুল্লি থেকে নির্গত ঘন কালো ধোঁয়া ও ঝাঁজালো গন্ধে আশপাশের পরিবেশ বিষিয়ে উঠছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে জনজীবন ও কৃষিকাজ।
বাসিন্দারা জানান, গত ৫-৭ বছর ধরে এই অবৈধ ব্যবসা চলছে। ২০২৫ সালে সেনাবাহিনীর অভিযানে কারখানাগুলো বন্ধ হলেও কিছুদিন পর প্রভাবশালী চক্রটি আবারও উৎপাদন শুরু করে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকায় স্থানীয়রা এর প্রতিবাদ করার সাহস পান না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রামবাসী বলেন, ‘কারখানার মালিকরা প্রভাবশালী। প্রতিবাদ করলে আমাদের ওপর হামলার ভয় থাকে।’
পরিবেশবিদেরা বলছেন, এভাবে নির্বিচারে গাছ কেটে কয়লা তৈরির ফলে দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়ছে। বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বাড়ছে। এ ছাড়া ছাই ও ধোঁয়ায় নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমির উর্বরতা।
সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল কবির বলেন, বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তর তদারকি করছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশ রক্ষায় এসব অবৈধ কারখানা দ্রুত স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
/

আপনার মতামত লিখুন