দেশের আর্থিক খাতের সংস্কার, শেয়ারবাজারের উন্নয়ন এবং কর-জিডিপির অনুপাত বৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। একই সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা বেশ ইতিবাচক দিকে এগিয়েছে বলে জানা গেছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে সফররত আইএমএফ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
বৈঠক প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন রাজনৈতিক সরকারের গৃহীত অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রমকে আইএমএফ ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছে। আর্থিক খাত ও শেয়ারবাজার সংস্কারের পাশাপাশি কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর বিষয়ে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে সংস্থাটি সন্তুষ্ট।
তিনি আরও জানান, সব সংস্কার একসঙ্গে নয়, বরং ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
বৈঠকে সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা, নতুন ঋণ কর্মসূচি, দ্বিতীয় রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি (আরএসএফ), বাজেট, রাজস্ব আহরণ, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ভর্তুকি, ক্যাপাসিটি চার্জ এবং আর্থিক খাতের সুশাসন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। নতুন ঋণ পাওয়ার নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, আলোচনা সন্তোষজনক হলেও কবে নাগাদ ঋণ পাওয়া যাবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
তিনি আরও যোগ করেন, আইএমএফের বর্তমান মূল্যায়ন ইতিবাচক হলে প্রতিনিধিদল তাদের সুপারিশ ওয়াশিংটনের সদর দপ্তরে পাঠাবে। এরপর আগামী ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিতব্য আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার পর আইএমএফের ভাইস প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে আসবে। তাদের সফরের পরই ৪ থেকে সাড়ে ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের নতুন ঋণ ছাড়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ ও আইএমএফের মধ্যে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ চুক্তি হয়েছিল, যা পরে অন্তর্বর্তী সরকার ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করে। ওই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ৩ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে।
বর্তমান সরকারের মতে, আগের কর্মসূচির কিছু শর্ত জনস্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না, তাই নতুন কাঠামোয় ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছে। আইএমএফের বাংলাদেশ মিশন প্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদল ১৬ জুলাই পর্যন্ত ঢাকা সফরে রয়েছে। এই সফরে তারা অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন।

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬
দেশের আর্থিক খাতের সংস্কার, শেয়ারবাজারের উন্নয়ন এবং কর-জিডিপির অনুপাত বৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। একই সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা বেশ ইতিবাচক দিকে এগিয়েছে বলে জানা গেছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে সফররত আইএমএফ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
বৈঠক প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন রাজনৈতিক সরকারের গৃহীত অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রমকে আইএমএফ ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছে। আর্থিক খাত ও শেয়ারবাজার সংস্কারের পাশাপাশি কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর বিষয়ে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে সংস্থাটি সন্তুষ্ট।
তিনি আরও জানান, সব সংস্কার একসঙ্গে নয়, বরং ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
বৈঠকে সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা, নতুন ঋণ কর্মসূচি, দ্বিতীয় রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি (আরএসএফ), বাজেট, রাজস্ব আহরণ, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ভর্তুকি, ক্যাপাসিটি চার্জ এবং আর্থিক খাতের সুশাসন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। নতুন ঋণ পাওয়ার নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, আলোচনা সন্তোষজনক হলেও কবে নাগাদ ঋণ পাওয়া যাবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
তিনি আরও যোগ করেন, আইএমএফের বর্তমান মূল্যায়ন ইতিবাচক হলে প্রতিনিধিদল তাদের সুপারিশ ওয়াশিংটনের সদর দপ্তরে পাঠাবে। এরপর আগামী ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিতব্য আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার পর আইএমএফের ভাইস প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে আসবে। তাদের সফরের পরই ৪ থেকে সাড়ে ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের নতুন ঋণ ছাড়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ ও আইএমএফের মধ্যে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ চুক্তি হয়েছিল, যা পরে অন্তর্বর্তী সরকার ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করে। ওই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ৩ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে।
বর্তমান সরকারের মতে, আগের কর্মসূচির কিছু শর্ত জনস্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না, তাই নতুন কাঠামোয় ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছে। আইএমএফের বাংলাদেশ মিশন প্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদল ১৬ জুলাই পর্যন্ত ঢাকা সফরে রয়েছে। এই সফরে তারা অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন।

আপনার মতামত লিখুন