সংবাদ

কক্সবাজারে বন্যা ও পাহাড়ধসে মৃত্যু বেড়ে ৩১, খাবারের সংকট


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, কক্সবাজার
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, কক্সবাজার
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম

কক্সবাজারে বন্যা ও পাহাড়ধসে মৃত্যু বেড়ে ৩১, খাবারের সংকট
বানে ভাসছে কক্সবাজার, নেই খাবার ও পানি। ছবি : সংবাদ

কক্সবাজারে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ধসে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। বানের পানি নামতে শুরু করলেও জেলাজুড়ে দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। অনেক এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

সর্বশেষ রোববার (১২ জুলাই) রাত ৮ টার দিকে রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া এলাকায় বন্যার স্রোতে ভেসে নিরঞ্জন চন্দ্র দাশ (৬৫) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। তিনি সড়ক পার হয়ে বাড়ি ফেরার সময় স্রোতে তলিয়ে যান। প্রায় এক ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মোহাম্মদ আনিছুর রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

একই দিন সন্ধ্যায় চকরিয়ার কৈয়ারবিল এলাকা থেকে নিখোঁজ কিশোর সজিব দাসের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। ২৩ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর তার সন্ধান পাওয়া যায়। সজিবের পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৮ দিনে জেলার একটি পৌরসভা ও ছয় উপজেলায় পাহাড়ধস ও পানিতে ভেসে মোট ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পেই প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ জন রোহিঙ্গা।

বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির ক্ষত স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ঘরবাড়ি, ফসলের খেত ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চকরিয়া ও পেকুয়ার বাসিন্দারা জানান, পানি নামলেও ঘরের ভেতর কাদার স্তূপ জমে আছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে সুপেয় পানি ও শুকনো খাবারের অভাব।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসাইন ত্রাণ বিতরণকালে জানিয়েছেন, দুর্গত কোনো মানুষ সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবে না। পুনর্বাসনের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, জেলার ৭১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬৯টিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬


কক্সবাজারে বন্যা ও পাহাড়ধসে মৃত্যু বেড়ে ৩১, খাবারের সংকট

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬

featured Image

কক্সবাজারে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ধসে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। বানের পানি নামতে শুরু করলেও জেলাজুড়ে দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। অনেক এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

সর্বশেষ রোববার (১২ জুলাই) রাত ৮ টার দিকে রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া এলাকায় বন্যার স্রোতে ভেসে নিরঞ্জন চন্দ্র দাশ (৬৫) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। তিনি সড়ক পার হয়ে বাড়ি ফেরার সময় স্রোতে তলিয়ে যান। প্রায় এক ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মোহাম্মদ আনিছুর রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

একই দিন সন্ধ্যায় চকরিয়ার কৈয়ারবিল এলাকা থেকে নিখোঁজ কিশোর সজিব দাসের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। ২৩ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর তার সন্ধান পাওয়া যায়। সজিবের পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৮ দিনে জেলার একটি পৌরসভা ও ছয় উপজেলায় পাহাড়ধস ও পানিতে ভেসে মোট ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পেই প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ জন রোহিঙ্গা।

বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির ক্ষত স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ঘরবাড়ি, ফসলের খেত ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চকরিয়া ও পেকুয়ার বাসিন্দারা জানান, পানি নামলেও ঘরের ভেতর কাদার স্তূপ জমে আছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে সুপেয় পানি ও শুকনো খাবারের অভাব।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসাইন ত্রাণ বিতরণকালে জানিয়েছেন, দুর্গত কোনো মানুষ সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবে না। পুনর্বাসনের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, জেলার ৭১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬৯টিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত