সংবাদ

দুর্গম জঙ্গলে সেনাবাহিনীর মহড়া পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০২:৩১ পিএম

দুর্গম জঙ্গলে সেনাবাহিনীর মহড়া পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় প্রধানমন্ত্রী মহড়াস্থলে পৌঁছে পায়ে হেঁটে বিস্তীর্ণ জঙ্গলজুড়ে সেনাসদস্যদের যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।

তিনি দুর্গম জঙ্গলে সেনাসদস্যদের অবস্থান গ্রহণ ও কৌশলগত কার্যক্রমগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। এসময় দায়িত্বরত সেনা কর্মকর্তারা তাকে মহড়ার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন। পরিদর্শনের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিরোধে ব্যবহৃত অ্যান্টি-ড্রোন মাল্টি-ব্যারেল সিস্টেমের কার্যপদ্ধতি সরাসরি দে‌খেন।

​জঙ্গলে দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের সাথে প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকভাবে সময় কাটিয়েছেন। তিনি তাদের কাছে গিয়ে খোঁজখবর নেন এবং নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনে উৎসাহ দেন।

এক পর্যায়ে সেনাসদস্যদের সাথে মাটিতে বসে প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রশিক্ষণ ও মাঠপর্যায়ের নানা অভিজ্ঞতার কথা শোনেন। এসময় সেনাসদস্যদের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশে তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তুত করা খাবারও গ্রহণ করেন তিনি। মোম জ্বালিয়ে তৈরি রান্না করা সাদা ভাত, ডাল, আলুভর্তা, চিংড়ি মাছ ও ডিমের তরকারি পরিবেশন করা হয়।

​সেনাসদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের গভীর আস্থা রয়েছে। জাতীয় সংকট মোকাবেলা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী বারবার পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

সেনাসদস্যদের শৃঙ্খলা, দক্ষতা, আত্মত্যাগ ও কর্তব্যনিষ্ঠা দেশের মানুষের মনে সেনাবাহিনীর প্রতি বিশেষ মর্যাদা তৈরি করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই আস্থা ও মর্যাদা ধরে রাখতে পেশাদার প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখা জরুরি।

​প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তিনি নিজে একটি সেনা পরিবারে বড় হয়েছেন, তাই সেনাসদস্যদের কাছে এলে তার ভালো লাগে এবং শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে। তাদের সাথে সময় কাটানোর মাধ্যমে তিনি যেন শৈশবে ফিরে যান।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আগামী দিনে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে আরও সুনাম, মর্যাদা ও পেশাগত স্বীকৃতি অর্জন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সেনাবাহিনীর সক্ষমতা, আধুনিকায়ন এবং সুনাম বৃদ্ধির জন্য সরকার সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

পরিদর্শনের সময় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিকসহ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬


দুর্গম জঙ্গলে সেনাবাহিনীর মহড়া পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬

featured Image

সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় প্রধানমন্ত্রী মহড়াস্থলে পৌঁছে পায়ে হেঁটে বিস্তীর্ণ জঙ্গলজুড়ে সেনাসদস্যদের যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।

তিনি দুর্গম জঙ্গলে সেনাসদস্যদের অবস্থান গ্রহণ ও কৌশলগত কার্যক্রমগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। এসময় দায়িত্বরত সেনা কর্মকর্তারা তাকে মহড়ার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন। পরিদর্শনের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিরোধে ব্যবহৃত অ্যান্টি-ড্রোন মাল্টি-ব্যারেল সিস্টেমের কার্যপদ্ধতি সরাসরি দে‌খেন।

​জঙ্গলে দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের সাথে প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকভাবে সময় কাটিয়েছেন। তিনি তাদের কাছে গিয়ে খোঁজখবর নেন এবং নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনে উৎসাহ দেন।

এক পর্যায়ে সেনাসদস্যদের সাথে মাটিতে বসে প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রশিক্ষণ ও মাঠপর্যায়ের নানা অভিজ্ঞতার কথা শোনেন। এসময় সেনাসদস্যদের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশে তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তুত করা খাবারও গ্রহণ করেন তিনি। মোম জ্বালিয়ে তৈরি রান্না করা সাদা ভাত, ডাল, আলুভর্তা, চিংড়ি মাছ ও ডিমের তরকারি পরিবেশন করা হয়।

​সেনাসদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের গভীর আস্থা রয়েছে। জাতীয় সংকট মোকাবেলা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী বারবার পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

সেনাসদস্যদের শৃঙ্খলা, দক্ষতা, আত্মত্যাগ ও কর্তব্যনিষ্ঠা দেশের মানুষের মনে সেনাবাহিনীর প্রতি বিশেষ মর্যাদা তৈরি করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই আস্থা ও মর্যাদা ধরে রাখতে পেশাদার প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখা জরুরি।

​প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তিনি নিজে একটি সেনা পরিবারে বড় হয়েছেন, তাই সেনাসদস্যদের কাছে এলে তার ভালো লাগে এবং শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে। তাদের সাথে সময় কাটানোর মাধ্যমে তিনি যেন শৈশবে ফিরে যান।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আগামী দিনে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে আরও সুনাম, মর্যাদা ও পেশাগত স্বীকৃতি অর্জন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সেনাবাহিনীর সক্ষমতা, আধুনিকায়ন এবং সুনাম বৃদ্ধির জন্য সরকার সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

পরিদর্শনের সময় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিকসহ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত