ফ্রান্সকে ২-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে সবার আগে বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রেখেছে স্পেন। আগামী রোববারের সেই মহোৎসব স্পেনের প্রতিপক্ষ কে হচ্ছে, তা নির্ধারণ করতে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। তবে হাইভোল্টেজ এই ম্যাচের আগেই স্প্যানিশ শিবিরে শুরু হয়ে গেছে ফাইনালের সমীকরণ। স্পেনের কোচ লুইস ফুয়েন্তে স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন, ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়াটা তার জন্য ভীষণ আনন্দের ও রোমাঞ্চের হবে।
আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনির
সঙ্গে ফুয়েন্তের সম্পর্কটা দীর্ঘদিনের পুরোনো। মূলত সেই বন্ধুত্বের খাতিরেই আলবিসেলেস্তেদের
ফাইনালে পাওয়ার একটা প্রচ্ছন্ন ইচ্ছা লুকিয়ে নেই তার কণ্ঠে। তবে শুধু কোচই নন, স্পেনের
পুরো ড্রেসিংরুমই এখন ইংল্যান্ডের চেয়ে আর্জেন্টিনাকেই প্রতিপক্ষ হিসেবে পাওয়ার জন্য
উন্মুখ হয়ে আছে।
ফ্রান্সের বিপক্ষে জয়ের পর স্পেনের
কোচকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যে কাকে পছন্দ তার? জবাবে ফুয়েন্তে চেনা বাস্তববাদী রূপেই বলেন, ‘স্পেন-ফ্রান্স
ম্যাচটি যেমন সময়ের আগেই এক ফাইনাল ছিল, তেমনি আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড লড়াইটাও আরেক
অকাল ফাইনাল। ফিফা র্যাংকিংয়ের সেরা চার দল সেমিফাইনালে এসেছে, এটা বিশ্বকাপের ইতিহাসে
বিরল। এটাই প্রমাণ করে টুর্নামেন্টের মান কতটা উঁচুতে।’
এরপরই আর্জেন্টিনার সঙ্গে খেলার
আগ্রহের কথা জানিয়ে স্প্যানিশ কোচ বলেন, ‘ইউরোপীয় ফুটবল আর ল্যাটিন ফুটবলের ধরন আলাদা।
তবে লিওনেল স্কালোনির সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের কারণে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি
হওয়াটা আমার জন্য সত্যিই দারুণ আনন্দের ও রোমাঞ্চের হবে। অবশ্য ইংল্যান্ডের ফুটবলীয়
শক্তির প্রতিও আমার গভীর শ্রদ্ধা আছে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই আমি ইংল্যান্ডকে অন্যতম
দাবিদার বলেছিলাম। যে-ই আসুক, আমরা তাদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।’
কোচ যেখানে বন্ধুত্বের খাতিরে
আর্জেন্টিনাকে চাইছেন, স্প্যানিশ ফুটবলারদের মনে অবশ্য কাজ করছে অন্য হিসাব। ‘এল চিরিংগিতো’র
বিশ্বকাপ সংবাদদাতা হুয়ানফে সানজ জানিয়েছেন, স্পেনের ড্রেসিংরুমে এখন শুধুই আর্জেন্টিনার
নাম। তবে এর পেছনে বন্ধুত্বের চেয়ে পুরোনো ক্ষোভ আর মর্যাদার লড়াই কাজ করছে বেশি।
কিছুদিন আগে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল
পরিস্থিতির কারণে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত ‘ফাইনালিসিমা’ ম্যাচটি
বাতিল হয়ে যায়। সানজ জানান, সেই সময় আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ও সমর্থকরা খোঁচা দিয়ে
বলেছিল যে স্পেন নাকি ভয়ে ম্যাচটি থেকে পিছিয়ে গেছে। স্প্যানিশ ড্রেসিংরুমে সেই ক্ষত
এখনো দগদগে।
সানজের ভাষায়, ‘আমাদের খাটো করে
দেখার চেষ্টা, আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমের অহংকার-সবকিছুর জবাব দেওয়ার মোক্ষম সুযোগ
এখন এসেছে। ওরা বলেছিল আমরা নাকি ভয়ে পালিয়েছি। এবার সামনাসামনি লড়াইয়ের পালা। আমি
চাইব বুধবার ইংল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়াক এবং আর্জেন্টিনা জিতুক। আর্জেন্টিনার
সেই জয়সূচক পেনাল্টি আমি স্পেনের গোলের মতোই উদযাপন করব।’
স্প্যানিশ ড্রেসিংরুম যখন মাঠের
বাইরের ক্ষোভের জবাব দিতে আর্জেন্টিনাকে ডাকছে, তখন ডাগআউটে বসে স্প্যানিশ গুরু স্কালোনির
সঙ্গে এক বন্ধুত্বের লড়াইয়ের প্রহর গুনছেন। ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষার অবসান ঘটছে আর
কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। বুধবার রাতেই জানা যাবে স্পেনের সামনে ফাইনালে ইংল্যান্ড নাকি
আর্জেন্টিনা।

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬
ফ্রান্সকে ২-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে সবার আগে বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রেখেছে স্পেন। আগামী রোববারের সেই মহোৎসব স্পেনের প্রতিপক্ষ কে হচ্ছে, তা নির্ধারণ করতে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। তবে হাইভোল্টেজ এই ম্যাচের আগেই স্প্যানিশ শিবিরে শুরু হয়ে গেছে ফাইনালের সমীকরণ। স্পেনের কোচ লুইস ফুয়েন্তে স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন, ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়াটা তার জন্য ভীষণ আনন্দের ও রোমাঞ্চের হবে।
আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনির
সঙ্গে ফুয়েন্তের সম্পর্কটা দীর্ঘদিনের পুরোনো। মূলত সেই বন্ধুত্বের খাতিরেই আলবিসেলেস্তেদের
ফাইনালে পাওয়ার একটা প্রচ্ছন্ন ইচ্ছা লুকিয়ে নেই তার কণ্ঠে। তবে শুধু কোচই নন, স্পেনের
পুরো ড্রেসিংরুমই এখন ইংল্যান্ডের চেয়ে আর্জেন্টিনাকেই প্রতিপক্ষ হিসেবে পাওয়ার জন্য
উন্মুখ হয়ে আছে।
ফ্রান্সের বিপক্ষে জয়ের পর স্পেনের
কোচকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যে কাকে পছন্দ তার? জবাবে ফুয়েন্তে চেনা বাস্তববাদী রূপেই বলেন, ‘স্পেন-ফ্রান্স
ম্যাচটি যেমন সময়ের আগেই এক ফাইনাল ছিল, তেমনি আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড লড়াইটাও আরেক
অকাল ফাইনাল। ফিফা র্যাংকিংয়ের সেরা চার দল সেমিফাইনালে এসেছে, এটা বিশ্বকাপের ইতিহাসে
বিরল। এটাই প্রমাণ করে টুর্নামেন্টের মান কতটা উঁচুতে।’
এরপরই আর্জেন্টিনার সঙ্গে খেলার
আগ্রহের কথা জানিয়ে স্প্যানিশ কোচ বলেন, ‘ইউরোপীয় ফুটবল আর ল্যাটিন ফুটবলের ধরন আলাদা।
তবে লিওনেল স্কালোনির সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের কারণে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি
হওয়াটা আমার জন্য সত্যিই দারুণ আনন্দের ও রোমাঞ্চের হবে। অবশ্য ইংল্যান্ডের ফুটবলীয়
শক্তির প্রতিও আমার গভীর শ্রদ্ধা আছে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই আমি ইংল্যান্ডকে অন্যতম
দাবিদার বলেছিলাম। যে-ই আসুক, আমরা তাদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।’
কোচ যেখানে বন্ধুত্বের খাতিরে
আর্জেন্টিনাকে চাইছেন, স্প্যানিশ ফুটবলারদের মনে অবশ্য কাজ করছে অন্য হিসাব। ‘এল চিরিংগিতো’র
বিশ্বকাপ সংবাদদাতা হুয়ানফে সানজ জানিয়েছেন, স্পেনের ড্রেসিংরুমে এখন শুধুই আর্জেন্টিনার
নাম। তবে এর পেছনে বন্ধুত্বের চেয়ে পুরোনো ক্ষোভ আর মর্যাদার লড়াই কাজ করছে বেশি।
কিছুদিন আগে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল
পরিস্থিতির কারণে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত ‘ফাইনালিসিমা’ ম্যাচটি
বাতিল হয়ে যায়। সানজ জানান, সেই সময় আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ও সমর্থকরা খোঁচা দিয়ে
বলেছিল যে স্পেন নাকি ভয়ে ম্যাচটি থেকে পিছিয়ে গেছে। স্প্যানিশ ড্রেসিংরুমে সেই ক্ষত
এখনো দগদগে।
সানজের ভাষায়, ‘আমাদের খাটো করে
দেখার চেষ্টা, আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমের অহংকার-সবকিছুর জবাব দেওয়ার মোক্ষম সুযোগ
এখন এসেছে। ওরা বলেছিল আমরা নাকি ভয়ে পালিয়েছি। এবার সামনাসামনি লড়াইয়ের পালা। আমি
চাইব বুধবার ইংল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়াক এবং আর্জেন্টিনা জিতুক। আর্জেন্টিনার
সেই জয়সূচক পেনাল্টি আমি স্পেনের গোলের মতোই উদযাপন করব।’
স্প্যানিশ ড্রেসিংরুম যখন মাঠের
বাইরের ক্ষোভের জবাব দিতে আর্জেন্টিনাকে ডাকছে, তখন ডাগআউটে বসে স্প্যানিশ গুরু স্কালোনির
সঙ্গে এক বন্ধুত্বের লড়াইয়ের প্রহর গুনছেন। ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষার অবসান ঘটছে আর
কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। বুধবার রাতেই জানা যাবে স্পেনের সামনে ফাইনালে ইংল্যান্ড নাকি
আর্জেন্টিনা।

আপনার মতামত লিখুন