সংবাদ

ইরানে যুদ্ধের ব্যয় ৩৭৫০ কোটি ডলার, আরও তহবিল চায় পেন্টাগন


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ১২:০৫ পিএম

ইরানে যুদ্ধের ব্যয় ৩৭৫০ কোটি ডলার, আরও তহবিল চায় পেন্টাগন
ছবি : সংগৃহীত

ইরানে চলমান যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এখন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৭৫০ কোটি (৩৭.৫ বিলিয়ন) ডলার। এই ব্যয় মেটাতে এবং সামরিক কার্যক্রম সচল রাখতে মার্কিন কংগ্রেসের কাছে জরুরি ভিত্তিতে আরও তহবিল চেয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তবে যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোদ মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যেই তীব্র সংশয় দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ওয়াশিংটনে এক শুনানিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সম্ভাব্য ব্যয়সহ এই ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলারের হিসাব করা হয়েছে। এ সময় তিনি ২০২৭ সালের জন্য ১.৫ ট্রিলিয়ন (দেড় লাখ কোটি) ডলারের বিশাল বাজেট প্রস্তাব পেশ করেন এবং একে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র ৬ মাস আগে যুদ্ধের এই ব্যয় নিয়ে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজনীতি। জনমত জরিপে এগিয়ে থাকা ডেমোক্র্যাটরা এই ‘অজনপ্রিয়’ যুদ্ধ ও এর ব্যয় নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করছে।

শুনানিতে সিনেটর প্যাটি মারে অভিযোগ করে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধের তীব্রতা বাড়িয়ে যুদ্ধাপরাধের হুমকি দিচ্ছেন। এটি আরেকটি ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধের’ ইঙ্গিত দিচ্ছে।” আরেক ডেমোক্র্যাট সিনেটর কারস্টেন গিলিব্র্যান্ড প্রশাসনের অসংলগ্ন বক্তব্যের সমালোচনা করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

পেন্টাগনের তথ্যমতে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৪৩০ জন আহত হয়েছেন। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে সাময়িক অস্ত্রবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর প্রতিদিন পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত সপ্তাহে ইরানের জ্বালানি কেন্দ্র, সেতু এবং খারিগ দ্বীপের তেল হাব দখলের হুমকি দিয়েছেন। এমনকি ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামক একটি ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবারের শুনানিতে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই ওই স্থাপনা ধ্বংস করবে।

তবে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন সতর্ক করেছেন যে, জরুরি তহবিল না পেলে সেনাদের বেতন দেওয়া সম্ভব হলেও সামরিক সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ ও ভবিষ্যৎ সক্ষমতা অর্জনে পেন্টাগনকে হিমশিম খেতে হবে।

সূত্র : রয়টার্স 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬


ইরানে যুদ্ধের ব্যয় ৩৭৫০ কোটি ডলার, আরও তহবিল চায় পেন্টাগন

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬

featured Image

ইরানে চলমান যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এখন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৭৫০ কোটি (৩৭.৫ বিলিয়ন) ডলার। এই ব্যয় মেটাতে এবং সামরিক কার্যক্রম সচল রাখতে মার্কিন কংগ্রেসের কাছে জরুরি ভিত্তিতে আরও তহবিল চেয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তবে যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোদ মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যেই তীব্র সংশয় দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ওয়াশিংটনে এক শুনানিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সম্ভাব্য ব্যয়সহ এই ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলারের হিসাব করা হয়েছে। এ সময় তিনি ২০২৭ সালের জন্য ১.৫ ট্রিলিয়ন (দেড় লাখ কোটি) ডলারের বিশাল বাজেট প্রস্তাব পেশ করেন এবং একে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র ৬ মাস আগে যুদ্ধের এই ব্যয় নিয়ে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজনীতি। জনমত জরিপে এগিয়ে থাকা ডেমোক্র্যাটরা এই ‘অজনপ্রিয়’ যুদ্ধ ও এর ব্যয় নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করছে।

শুনানিতে সিনেটর প্যাটি মারে অভিযোগ করে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধের তীব্রতা বাড়িয়ে যুদ্ধাপরাধের হুমকি দিচ্ছেন। এটি আরেকটি ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধের’ ইঙ্গিত দিচ্ছে।” আরেক ডেমোক্র্যাট সিনেটর কারস্টেন গিলিব্র্যান্ড প্রশাসনের অসংলগ্ন বক্তব্যের সমালোচনা করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

পেন্টাগনের তথ্যমতে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৪৩০ জন আহত হয়েছেন। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে সাময়িক অস্ত্রবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর প্রতিদিন পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত সপ্তাহে ইরানের জ্বালানি কেন্দ্র, সেতু এবং খারিগ দ্বীপের তেল হাব দখলের হুমকি দিয়েছেন। এমনকি ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামক একটি ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবারের শুনানিতে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই ওই স্থাপনা ধ্বংস করবে।

তবে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন সতর্ক করেছেন যে, জরুরি তহবিল না পেলে সেনাদের বেতন দেওয়া সম্ভব হলেও সামরিক সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ ও ভবিষ্যৎ সক্ষমতা অর্জনে পেন্টাগনকে হিমশিম খেতে হবে।

সূত্র : রয়টার্স 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত