ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ তৃণভূমি (স্তেপ) থেকে এখন শুরু হয়েছে এক নতুন ধরনের যুদ্ধ। সেখানে বসে একদল ইউক্রেনীয় সেনা ধূসর রঙের মসৃণ ড্রোনের গায়ে লিখে দিচ্ছেন রাশিয়ার জন্য বিদ্রূপাত্মক সব বার্তা। কিছু সময় পরই ড্রোনগুলো উড়ে যাচ্ছে কৃষ্ণসাগরের নীল জলরাশির দিকে, যেখানে তাদের লক্ষ্য রাশিয়ার শক্তিশালী নৌবহর। ক্রিমিয়াকে বিচ্ছিন্ন করতে এবং রাশিয়ার রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে দিতে ইউক্রেন এখন এই ড্রোন যুদ্ধকেই প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে।
ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর ‘মাগিয়ার্স বার্ডস’ ব্রিগেডের নবম ব্যাটালিয়ন ‘কাইরোস’ এই অভিযানের অগ্রভাগে রয়েছে। চলতি জুলাই মাসের প্রথম ৩ সপ্তাহেই তারা কৃষ্ণসাগর ও আজভ সাগরে রাশিয়ার ১৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। যুদ্ধের পঞ্চম বছরে এসে কিয়েভ এখন রাশিয়ার অধিকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে কেন্দ্র করে তাদের আক্রমণের কৌশল পরিবর্তন করেছে।
ব্যাটালিয়ন কমান্ডার ‘রে’ (ছদ্মনাম) জানান, তারা দিনরাত ২৪ ঘণ্টা কাজ করছেন। তাদের লক্ষ্য রাশিয়ার নৌ-আধিপত্যের দাপট চূর্ণ করা। সম্প্রতি তাদের ইউনিট কৃষ্ণসাগরে একটি মালবাহী জাহাজ ও একটি ভাসমান ক্রেনে সফলভাবে আঘাত করেছে। এছাড়া দক্ষিণ ক্রিমিয়ার একটি বিদ্যুৎ সাবস্টেশনেও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
ইউক্রেনের এই বিশেষ অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘মলোচকো’। এর অর্থ হলো-‘ক্রিমিয়ার কারণেই মস্কোর পতন ঘটবে।’ মূলত এই অভিযানের মাধ্যমে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে ক্রিমিয়ার সংযোগকারী সড়ক ও রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা চলছে। এর ফলে ক্রিমিয়ায় ইতিমধ্যে জ্বালানি সংকট ও জরুরি অবস্থা দেখা দিয়েছে। ড্রোন ইউনিটের কমান্ডার রবার্ট ‘মাগিয়ার’ ব্রোভডির দেওয়া তথ্যমতে, তাঁরা প্রতিদিন গড়ে ছয়টি রুশ নৌযানে আঘাত হানছেন। এতে রাশিয়ার কের্চ ফেরি পারাপারের সক্ষমতা প্রায় ৭৫ শতাংশ কমে গেছে।
তবে ইউক্রেনের এই সফলতার পাল্টা জবাব দিচ্ছে রাশিয়াও। গত কয়েক সপ্তাহে ওডেসা ও মাইকোলাইভ বন্দরে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তীব্রতর হয়েছে। বিশেষ করে শস্যবাহী আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে মস্কো। গত রোববার ওডেসা বন্দরে গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী একটি শস্যবাহী জাহাজে রুশ হামলায় ১০ জন নাবিক নিহত হয়েছেন। এর ফলে সাময়িকভাবে শস্য রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইউক্রেনীয় বাহিনীর ব্যবহৃত ড্রোনগুলো প্রধানত দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি। এফপি-১ ও এফপি-২ মডেলের এই ড্রোনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্যস্থলের কাছাকাছি পৌঁছে যায়, এরপর অনেক দূর থেকে পাইলটরা চূড়ান্ত আঘাত হানেন। যুদ্ধের এই পর্যায়ে ড্রোন দলগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করে। রুশ বাহিনীর পাল্টা আক্রমণ থেকে বাঁচতে তাঁরা প্রতিবার ড্রোন উৎক্ষেপণের পরই দ্রুত নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করেন।
রণকৌশল বিশেষজ্ঞ সিদার্থ কৌশল বলেন, ইউক্রেন স্থলপথে রাশিয়ার রসদ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় রাশিয়া এখন আজভ সাগর দিয়ে বেশি পণ্য পরিবহণ করছে। আর ইউক্রেনও ঠিক সেই সুযোগটিই নিচ্ছে সাগরে ড্রোন হামলা বাড়িয়ে।
সূত্র : রয়টার্স
/

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬
ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ তৃণভূমি (স্তেপ) থেকে এখন শুরু হয়েছে এক নতুন ধরনের যুদ্ধ। সেখানে বসে একদল ইউক্রেনীয় সেনা ধূসর রঙের মসৃণ ড্রোনের গায়ে লিখে দিচ্ছেন রাশিয়ার জন্য বিদ্রূপাত্মক সব বার্তা। কিছু সময় পরই ড্রোনগুলো উড়ে যাচ্ছে কৃষ্ণসাগরের নীল জলরাশির দিকে, যেখানে তাদের লক্ষ্য রাশিয়ার শক্তিশালী নৌবহর। ক্রিমিয়াকে বিচ্ছিন্ন করতে এবং রাশিয়ার রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে দিতে ইউক্রেন এখন এই ড্রোন যুদ্ধকেই প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে।
ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর ‘মাগিয়ার্স বার্ডস’ ব্রিগেডের নবম ব্যাটালিয়ন ‘কাইরোস’ এই অভিযানের অগ্রভাগে রয়েছে। চলতি জুলাই মাসের প্রথম ৩ সপ্তাহেই তারা কৃষ্ণসাগর ও আজভ সাগরে রাশিয়ার ১৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। যুদ্ধের পঞ্চম বছরে এসে কিয়েভ এখন রাশিয়ার অধিকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে কেন্দ্র করে তাদের আক্রমণের কৌশল পরিবর্তন করেছে।
ব্যাটালিয়ন কমান্ডার ‘রে’ (ছদ্মনাম) জানান, তারা দিনরাত ২৪ ঘণ্টা কাজ করছেন। তাদের লক্ষ্য রাশিয়ার নৌ-আধিপত্যের দাপট চূর্ণ করা। সম্প্রতি তাদের ইউনিট কৃষ্ণসাগরে একটি মালবাহী জাহাজ ও একটি ভাসমান ক্রেনে সফলভাবে আঘাত করেছে। এছাড়া দক্ষিণ ক্রিমিয়ার একটি বিদ্যুৎ সাবস্টেশনেও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
ইউক্রেনের এই বিশেষ অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘মলোচকো’। এর অর্থ হলো-‘ক্রিমিয়ার কারণেই মস্কোর পতন ঘটবে।’ মূলত এই অভিযানের মাধ্যমে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে ক্রিমিয়ার সংযোগকারী সড়ক ও রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা চলছে। এর ফলে ক্রিমিয়ায় ইতিমধ্যে জ্বালানি সংকট ও জরুরি অবস্থা দেখা দিয়েছে। ড্রোন ইউনিটের কমান্ডার রবার্ট ‘মাগিয়ার’ ব্রোভডির দেওয়া তথ্যমতে, তাঁরা প্রতিদিন গড়ে ছয়টি রুশ নৌযানে আঘাত হানছেন। এতে রাশিয়ার কের্চ ফেরি পারাপারের সক্ষমতা প্রায় ৭৫ শতাংশ কমে গেছে।
তবে ইউক্রেনের এই সফলতার পাল্টা জবাব দিচ্ছে রাশিয়াও। গত কয়েক সপ্তাহে ওডেসা ও মাইকোলাইভ বন্দরে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তীব্রতর হয়েছে। বিশেষ করে শস্যবাহী আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে মস্কো। গত রোববার ওডেসা বন্দরে গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী একটি শস্যবাহী জাহাজে রুশ হামলায় ১০ জন নাবিক নিহত হয়েছেন। এর ফলে সাময়িকভাবে শস্য রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইউক্রেনীয় বাহিনীর ব্যবহৃত ড্রোনগুলো প্রধানত দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি। এফপি-১ ও এফপি-২ মডেলের এই ড্রোনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্যস্থলের কাছাকাছি পৌঁছে যায়, এরপর অনেক দূর থেকে পাইলটরা চূড়ান্ত আঘাত হানেন। যুদ্ধের এই পর্যায়ে ড্রোন দলগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করে। রুশ বাহিনীর পাল্টা আক্রমণ থেকে বাঁচতে তাঁরা প্রতিবার ড্রোন উৎক্ষেপণের পরই দ্রুত নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করেন।
রণকৌশল বিশেষজ্ঞ সিদার্থ কৌশল বলেন, ইউক্রেন স্থলপথে রাশিয়ার রসদ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় রাশিয়া এখন আজভ সাগর দিয়ে বেশি পণ্য পরিবহণ করছে। আর ইউক্রেনও ঠিক সেই সুযোগটিই নিচ্ছে সাগরে ড্রোন হামলা বাড়িয়ে।
সূত্র : রয়টার্স
/

আপনার মতামত লিখুন