সংবাদ

নিষিদ্ধ জালে উজাড় হচ্ছে দেশীয় মাছ


প্রতিনিধি, ফরিদপুর
প্রতিনিধি, ফরিদপুর
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম

নিষিদ্ধ জালে উজাড় হচ্ছে দেশীয় মাছ
নিষিদ্ধ জালের দাপটে আজ অস্তিত্বের সংকটে ফরিদপুরের জেলেরা। ছবি : সংবাদ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীসহ বিভিন্ন জলাশয়ে নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি’ জালের অবাধ ব্যবহারে দেশীয় প্রজাতির মাছ ও পোনা নিধন চলছে। প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাব এবং রহস্যজনক নীরবতার সুযোগে অসাধু চক্র নির্বিচারে এই ধ্বংসাত্মক জাল ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে পদ্মার ঐতিহ্যবাহী মৎস্য সম্পদ ও জলজ পরিবেশ চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পদ্মার বিভিন্ন পয়েন্ট ছাড়াও চরাঞ্চলের নিচু এলাকা ও খাল-বিলে দিন-রাত প্রকাশ্যে এসব জাল দিয়ে মাছ ধরা হচ্ছে। ‘চায়না দুয়ারি’ জাল অত্যন্ত সূক্ষ্ম হওয়ায় ছোট-বড় বা মা মাছ–কোনো কিছুই এর থেকে বের হতে পারে না। ফলে প্রজনন মৌসুমে রুই, কাতলা থেকে শুরু করে নানা জাতের দেশীয় ছোট মাছের পোনা ব্যাপক হারে মারা পড়ছে।

মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী এই ধরনের সূক্ষ্ম জাল ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও তার তোয়াক্কা করছে না অসাধু চক্রটি। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝেমধ্যে লোকদেখানো অভিযান চালানো হলেও এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে অভিযানের খবর আগেভাগেই জেলেদের কাছে পৌঁছে যায়, ফলে তারা সটকে পড়ার সুযোগ পায়।

চরভদ্রাসনের সচেতন নাগরিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মৎস্য বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা না থাকায় অসাধু চক্রটি দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে অচিরেই পদ্মা থেকে দেশীয় মাছের অনেক প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

এদিকে নিষিদ্ধ জালের দাপটে বিপাকে পড়েছেন বৈধ উপায়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা প্রকৃত জেলেরা। তাঁরা জানান, চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহারকারীরা একবারে সব মাছ তুলে নেওয়ায় সাধারণ জালে আর কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। এতে সাধারণ জেলেদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় জেলেরা ও সচেতন মহল কেবল অভিযান নয়, বরং এসব জালের উৎপাদন, বিক্রি ও ব্যবহারের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬


নিষিদ্ধ জালে উজাড় হচ্ছে দেশীয় মাছ

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীসহ বিভিন্ন জলাশয়ে নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি’ জালের অবাধ ব্যবহারে দেশীয় প্রজাতির মাছ ও পোনা নিধন চলছে। প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাব এবং রহস্যজনক নীরবতার সুযোগে অসাধু চক্র নির্বিচারে এই ধ্বংসাত্মক জাল ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে পদ্মার ঐতিহ্যবাহী মৎস্য সম্পদ ও জলজ পরিবেশ চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পদ্মার বিভিন্ন পয়েন্ট ছাড়াও চরাঞ্চলের নিচু এলাকা ও খাল-বিলে দিন-রাত প্রকাশ্যে এসব জাল দিয়ে মাছ ধরা হচ্ছে। ‘চায়না দুয়ারি’ জাল অত্যন্ত সূক্ষ্ম হওয়ায় ছোট-বড় বা মা মাছ–কোনো কিছুই এর থেকে বের হতে পারে না। ফলে প্রজনন মৌসুমে রুই, কাতলা থেকে শুরু করে নানা জাতের দেশীয় ছোট মাছের পোনা ব্যাপক হারে মারা পড়ছে।

মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী এই ধরনের সূক্ষ্ম জাল ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও তার তোয়াক্কা করছে না অসাধু চক্রটি। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝেমধ্যে লোকদেখানো অভিযান চালানো হলেও এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে অভিযানের খবর আগেভাগেই জেলেদের কাছে পৌঁছে যায়, ফলে তারা সটকে পড়ার সুযোগ পায়।

চরভদ্রাসনের সচেতন নাগরিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মৎস্য বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা না থাকায় অসাধু চক্রটি দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে অচিরেই পদ্মা থেকে দেশীয় মাছের অনেক প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

এদিকে নিষিদ্ধ জালের দাপটে বিপাকে পড়েছেন বৈধ উপায়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা প্রকৃত জেলেরা। তাঁরা জানান, চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহারকারীরা একবারে সব মাছ তুলে নেওয়ায় সাধারণ জালে আর কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। এতে সাধারণ জেলেদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় জেলেরা ও সচেতন মহল কেবল অভিযান নয়, বরং এসব জালের উৎপাদন, বিক্রি ও ব্যবহারের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত