সাতক্ষীরায় তিনটি সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শনের ব্যস্ত সূচির মধ্যেই এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী উচ্চশিক্ষিত তরুণীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী এলাকার বাসিন্দা শারমিন আক্তারের মেধা ও জীবনসংগ্রামের কথা শুনে তাকে আগামী ১ আগস্ট থেকে চাকরিতে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
রোববার (২৬ জুলাই) বিকেলে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে শারমিনের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি শারমিনের পড়াশোনা, পারিবারিক অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার খোঁজ নেন। শারমিনের সংগ্রামী জীবনের কথা শুনে মুগ্ধ হয়ে মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের শারমিনের কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
চাকরির আশ্বাস পেয়ে আবেগাপ্লুত শারমিন আক্তার বলেন, ‘আমি খুবই আনন্দিত। এখন আমি আমার অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারব। মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমাকে যে সুযোগ দিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদের প্রশাসকসহ যারা আমাকে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতিও ধন্যবাদ জানাই।’
জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম বলেন, শারমিন সুন্দরবন উপকূলের এক দরিদ্র পরিবারের সন্তান। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও সে কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। তার মেধার মূল্যায়ন করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা সমাজের অন্য প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা।
এর আগে দিনভর পরিদর্শনে মন্ত্রী তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঘুরে দেখেন। এ সময় তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসি চুরির ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক নিরাপত্তাকর্মী এবং কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
মন্ত্রীর পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক কাওসার আজিজ, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কুদরতি খোদা, সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালামসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন