নওগাঁয় এক শিক্ষক শিক্ষাগত যোগ্যতার জাল সনদ দিয়ে ২৯ বছর ধরে চাকরি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযুক্ত শিক্ষক হলেন নওগাঁ সদর উপজেলার চকপ্রসাদ ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ বি এম আব্দুল কাদের। তার জাল বিরুদ্ধে জাল সনদে চাকরি করার পাশাপাশি এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো-২০২৬ লঙ্ঘন করে শিক্ষকতার পাশাপাশি মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) হিসেবে দায়িত্ব পালন করার অভিযোগ রয়েছে।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এ বি এম আব্দুল কাদের ওই মাদ্রাসায় ১৯৯৭ সালে চকপ্রসাদ ইসলামিয়া মাদ্রাসায় একতেদায়ী শাখায় সহকারী মৌলভী পদে যোগদান করেন। তিনি যোগদানের কিছু দিন পর ওই মাদ্রাসায় আলিম শাখা খোলার এবং শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৯৯৭ সালে ৩ জুলাই মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটি রেজুলেশন করে আব্দুল কাদেরকে বিধি বহির্ভূতভাবে এবতেদায়ী সহকারী মৌলভী থেকে সমন্বয় করে সরাসরি আলিম শাখায় আরবী প্রভাষক হিসেবে পদায়ন করে।
শিক্ষকতা করার পাশাপাশি এক দশকের বেশি সময় ধরে আব্দুল কাদের নওগাঁ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। নওগাঁ সদর উপজেলার মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার সমিতির সভাপতি কাজী রফিকুল ইসলাম ২০২৪ সালে আব্দুল কাদেরের দাখিল ও আলিম মাদ্রাসার সনদ যাচাইয়ের জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করেন।
তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর চিঠি দিয়ে জানায় আব্দুল কাদেরের দাখিল ও আলিম সনদ দুটি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড থেকে ইস্যুকৃত নয়। তার ১৯৮১ সালের দাখিল পরীক্ষার (রোল-৮৪৪৯, রেজি. নম্বর- ৪৫১২) সনদ ও ১৯৮৩ সালের আলিম পরীক্ষার (রোল-৭৪৮৬, রেজি. নম্বর- ৭৯০২) সনদ দুটি জাল। মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডে উল্লিখিত রোল ও নিবন্ধন নম্বরের সনদ ইমান ফকর উদ্দীন নামের এক ব্যক্তির নামে ইস্যু করা।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন আব্দুল কাদের জাল সনদে শিক্ষকতার চাকরি করার পাশাপাশি এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো-২০২৬ এর ১১ দশমিক ১০ (ক) ধারাকে তোয়াক্কা না করে একই সঙ্গে তিনি শিক্ষকতা ও কাজী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। লিখিত অভিযোগে আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চকপ্রসাদ আলিম মাদ্রাসার এক শিক্ষক বলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ বি এম আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি যে জাল সনদে চাকরি করছেন তার প্রমাণপত্র থাকার পরেও তার বিরুদ্ধে রহস্যজনকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে চকপ্রসাদ আলিম মাদ্রাসায় গিয়ে এ বি এম আব্দুল কাদেরকে পাওয়া যায়নি। তবে মুঠোফোনে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার সনদ জালের বিষয়ে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। মাদ্রাসা বোর্ডের নামে ভুয়া চিঠি দেখিয়ে আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে। আবার শুনতেছি আবার নাকি মাদ্রাসা বোর্ড ও জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর নাকি আবার অভিযোগ করা হয়েছে। আমার সনদের বিষয়ে হাইকোর্টেও একটা মামলা চলমান আছে। এসব বিষয়ে আমি তদন্ত কমিটি ও আদালতের কাছেই জবাব দেব।’
শিক্ষকতার পাশাপাশি নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে কাজ করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার মতো অনেকেই সরকারি কিংবা আধাসরকারি চাকরি করে কাজীগিরি করছেন। শিক্ষকতা করলে কাজীগিরি করা যাবে না এ ধরণের কোনো সুস্পষ্ট বিধি নাই।’
এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন বলেন, ‘চকপ্রসাদ আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিগগিরই তদন্তের দিন ঠিক করা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিাযোগের সত্যতা মিললে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬
নওগাঁয় এক শিক্ষক শিক্ষাগত যোগ্যতার জাল সনদ দিয়ে ২৯ বছর ধরে চাকরি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযুক্ত শিক্ষক হলেন নওগাঁ সদর উপজেলার চকপ্রসাদ ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ বি এম আব্দুল কাদের। তার জাল বিরুদ্ধে জাল সনদে চাকরি করার পাশাপাশি এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো-২০২৬ লঙ্ঘন করে শিক্ষকতার পাশাপাশি মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) হিসেবে দায়িত্ব পালন করার অভিযোগ রয়েছে।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এ বি এম আব্দুল কাদের ওই মাদ্রাসায় ১৯৯৭ সালে চকপ্রসাদ ইসলামিয়া মাদ্রাসায় একতেদায়ী শাখায় সহকারী মৌলভী পদে যোগদান করেন। তিনি যোগদানের কিছু দিন পর ওই মাদ্রাসায় আলিম শাখা খোলার এবং শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৯৯৭ সালে ৩ জুলাই মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটি রেজুলেশন করে আব্দুল কাদেরকে বিধি বহির্ভূতভাবে এবতেদায়ী সহকারী মৌলভী থেকে সমন্বয় করে সরাসরি আলিম শাখায় আরবী প্রভাষক হিসেবে পদায়ন করে।
শিক্ষকতা করার পাশাপাশি এক দশকের বেশি সময় ধরে আব্দুল কাদের নওগাঁ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। নওগাঁ সদর উপজেলার মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার সমিতির সভাপতি কাজী রফিকুল ইসলাম ২০২৪ সালে আব্দুল কাদেরের দাখিল ও আলিম মাদ্রাসার সনদ যাচাইয়ের জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করেন।
তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর চিঠি দিয়ে জানায় আব্দুল কাদেরের দাখিল ও আলিম সনদ দুটি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড থেকে ইস্যুকৃত নয়। তার ১৯৮১ সালের দাখিল পরীক্ষার (রোল-৮৪৪৯, রেজি. নম্বর- ৪৫১২) সনদ ও ১৯৮৩ সালের আলিম পরীক্ষার (রোল-৭৪৮৬, রেজি. নম্বর- ৭৯০২) সনদ দুটি জাল। মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডে উল্লিখিত রোল ও নিবন্ধন নম্বরের সনদ ইমান ফকর উদ্দীন নামের এক ব্যক্তির নামে ইস্যু করা।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন আব্দুল কাদের জাল সনদে শিক্ষকতার চাকরি করার পাশাপাশি এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো-২০২৬ এর ১১ দশমিক ১০ (ক) ধারাকে তোয়াক্কা না করে একই সঙ্গে তিনি শিক্ষকতা ও কাজী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। লিখিত অভিযোগে আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চকপ্রসাদ আলিম মাদ্রাসার এক শিক্ষক বলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ বি এম আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি যে জাল সনদে চাকরি করছেন তার প্রমাণপত্র থাকার পরেও তার বিরুদ্ধে রহস্যজনকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে চকপ্রসাদ আলিম মাদ্রাসায় গিয়ে এ বি এম আব্দুল কাদেরকে পাওয়া যায়নি। তবে মুঠোফোনে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার সনদ জালের বিষয়ে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। মাদ্রাসা বোর্ডের নামে ভুয়া চিঠি দেখিয়ে আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে। আবার শুনতেছি আবার নাকি মাদ্রাসা বোর্ড ও জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর নাকি আবার অভিযোগ করা হয়েছে। আমার সনদের বিষয়ে হাইকোর্টেও একটা মামলা চলমান আছে। এসব বিষয়ে আমি তদন্ত কমিটি ও আদালতের কাছেই জবাব দেব।’
শিক্ষকতার পাশাপাশি নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে কাজ করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার মতো অনেকেই সরকারি কিংবা আধাসরকারি চাকরি করে কাজীগিরি করছেন। শিক্ষকতা করলে কাজীগিরি করা যাবে না এ ধরণের কোনো সুস্পষ্ট বিধি নাই।’
এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন বলেন, ‘চকপ্রসাদ আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিগগিরই তদন্তের দিন ঠিক করা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিাযোগের সত্যতা মিললে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আপনার মতামত লিখুন