সংবাদ

নিজ দেশে ফিরতে চান পুশইনের শিকার ভারতীয় নারী


প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রকাশ: ১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম

নিজ দেশে ফিরতে চান পুশইনের শিকার ভারতীয় নারী
শাহিদা ফকির। ছবি : সংবাদ

ভারতের মুম্বাই থেকে আটক করে এক নারীকে আসাম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ‘পুশইন’ (জোরপূর্বক পাঠিয়ে দেওয়া) করার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে ভারতের ওই নারী সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার একটি গ্রামে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। ভারতে তার দুই সন্তান রয়েছে জানিয়ে যেকোনো মূল্যে নিজের দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন তিনি।

ভুক্তভোগী নারীর নাম শাহিদা ফকির। তিনি জানান, তিনি বাংলাদেশের নাগরিক নন; বরং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার স্থায়ী বাসিন্দা। গত দুই দশক ধরে তিনি স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে মুম্বাইয়ে বসবাস করছিলেন।

শাহিদা বলেন, গত ১৮ বা ১৯ জুলাই রাতে মুম্বাইয়ের একটি বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সিআইডি পরিচয়ে কয়েকজন তাকে আটক করেন। তার মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে মুম্বাইয়ের চেম্বুর ডিটেনশন ক্যাম্পে চার দিন আটকে রাখা হয়। এরপর তাকে আসাম সীমান্তে নিয়ে আসা হয় এবং আরও কয়েকজনের সঙ্গে জোরপূর্বক বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে দেওয়া হয়।

সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর অসুস্থ ও দিশেহারা অবস্থায় বেনাপোল পৌঁছান শাহিদা। সেখানে তার কান্নাকাটি দেখে মানবিক কারণে তাকে আশ্রয় দেন সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ভাদিয়ালি গ্রামের কৃষক আবুল বাশার। বর্তমানে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।

শাহিদা ফকির আরও জানান, নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় সব ভারতীয় সরকারি নথি তার কাছে রয়েছে। ভারতে তার ২৩ ও ১৪ বছর বয়সী দুটি সন্তান রয়েছে। শাহিদা বলেন, ‘সন্তানদের ছেড়ে সীমান্তের এপারে আটকে আছি। দিন-রাত শুধু ওদের চিন্তায় কাটছে। আমি দ্রুত সন্তানদের কাছে ফিরে যেতে চাই।’

এ বিষয়ে কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন জানান, বিষয়টি সম্পর্কে পুলিশ অবগত হয়েছে। পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬


নিজ দেশে ফিরতে চান পুশইনের শিকার ভারতীয় নারী

প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ভারতের মুম্বাই থেকে আটক করে এক নারীকে আসাম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ‘পুশইন’ (জোরপূর্বক পাঠিয়ে দেওয়া) করার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে ভারতের ওই নারী সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার একটি গ্রামে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। ভারতে তার দুই সন্তান রয়েছে জানিয়ে যেকোনো মূল্যে নিজের দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন তিনি।

ভুক্তভোগী নারীর নাম শাহিদা ফকির। তিনি জানান, তিনি বাংলাদেশের নাগরিক নন; বরং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার স্থায়ী বাসিন্দা। গত দুই দশক ধরে তিনি স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে মুম্বাইয়ে বসবাস করছিলেন।

শাহিদা বলেন, গত ১৮ বা ১৯ জুলাই রাতে মুম্বাইয়ের একটি বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সিআইডি পরিচয়ে কয়েকজন তাকে আটক করেন। তার মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে মুম্বাইয়ের চেম্বুর ডিটেনশন ক্যাম্পে চার দিন আটকে রাখা হয়। এরপর তাকে আসাম সীমান্তে নিয়ে আসা হয় এবং আরও কয়েকজনের সঙ্গে জোরপূর্বক বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে দেওয়া হয়।

সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর অসুস্থ ও দিশেহারা অবস্থায় বেনাপোল পৌঁছান শাহিদা। সেখানে তার কান্নাকাটি দেখে মানবিক কারণে তাকে আশ্রয় দেন সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ভাদিয়ালি গ্রামের কৃষক আবুল বাশার। বর্তমানে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।

শাহিদা ফকির আরও জানান, নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় সব ভারতীয় সরকারি নথি তার কাছে রয়েছে। ভারতে তার ২৩ ও ১৪ বছর বয়সী দুটি সন্তান রয়েছে। শাহিদা বলেন, ‘সন্তানদের ছেড়ে সীমান্তের এপারে আটকে আছি। দিন-রাত শুধু ওদের চিন্তায় কাটছে। আমি দ্রুত সন্তানদের কাছে ফিরে যেতে চাই।’

এ বিষয়ে কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন জানান, বিষয়টি সম্পর্কে পুলিশ অবগত হয়েছে। পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত