কীর্তনখোলা নদীর তীরে বরিশালের বিআইডব্লিউটিএ নদীবন্দর লঞ্চঘাট টার্মিনালের আধুনিকায়নের কাজ শেষ হলেও এখনো তা যাত্রীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়নি। প্রায় ৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি উদ্বোধনের অপেক্ষায় পড়ে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় যাত্রী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের জুন-জুলাইয়ের দিকে টার্মিনালটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়নি।
যাত্রীদের জন্য নতুন কী থাকছে
নতুন টার্মিনালে যাত্রীদের সুবিধার জন্য রাখা হয়েছে - দূরের যাত্রীদের বিশ্রামের জন্য রেস্ট হাউস, ভিআইপি লাউঞ্জ ও আলাদা অপেক্ষমাণ কক্ষ, নারী-পুরুষের জন্য আলাদা ও পরিচ্ছন্ন আধুনিক ওয়াশরুম, এ ছাড়া রয়েছে অন্যান্য যাত্রীসেবা।
লঞ্চ কমেছে অর্ধেকের বেশি
পাঁচ বছর আগেও বরিশাল-ঢাকা রুটে এই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন পাঁচটি লঞ্চ চলাচল করত। বর্তমানে চলছে মাত্র একটি বা দুটি। যাত্রীসংকটের কারণে অধিকাংশ অপারেটর রুট বন্ধ করে দিয়েছেন বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
তবে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের বিশ্বাস, আধুনিক টার্মিনাল চালু হলে যাত্রীর চাপ আবার বাড়বে এবং বন্ধ হওয়া লঞ্চগুলো ফিরে আসবে।
কর্তৃপক্ষ ও নাগরিকদের ভিন্ন মত
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী সাবিবুর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। জনসংযোগ বিভাগে যোগাযোগ করুন, ওখানেই সব তথ্য পেয়ে যাবেন।”
বরিশাল নাগরিক সুশীল সমাজ কমিটির আহ্বায়ক কাজী মিজানুর রহমান অবশ্য ভিন্ন কথা বলছেন। তিনি বলেন, “যখন হাজার হাজার যাত্রী এই লঞ্চঘাট দিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যেতেন, তখন এই আধুনিক টার্মিনাল হলে কাজে লাগত। এখন তো ঘাটে আগের মতো ভিড় নেই। আধুনিকায়নের আগে নদীর নাব্যতা ফেরাতে চর কাটা ও ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। নদী বাঁচলে লঞ্চও বাঁচবে।”
লঞ্চ মালিক সমিতির নেতারাও বলছেন, শুধু সুন্দর ভবন দিয়ে যাত্রী ফেরানো যাবে না। নদীপথের গভীরতা ও নিয়মিত সার্ভিস নিশ্চিত না করলে এই বিনিয়োগ মুখ থুবড়ে পড়বে।
আধুনিক সুবিধাসংবলিত টার্মিনালটি কবে নাগাদ উদ্বোধন হবে এবং যাত্রীরা কবে থেকে এর সুবিধা পাবেন, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানায়নি কর্তৃপক্ষ।

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬
কীর্তনখোলা নদীর তীরে বরিশালের বিআইডব্লিউটিএ নদীবন্দর লঞ্চঘাট টার্মিনালের আধুনিকায়নের কাজ শেষ হলেও এখনো তা যাত্রীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়নি। প্রায় ৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি উদ্বোধনের অপেক্ষায় পড়ে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় যাত্রী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের জুন-জুলাইয়ের দিকে টার্মিনালটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়নি।
যাত্রীদের জন্য নতুন কী থাকছে
নতুন টার্মিনালে যাত্রীদের সুবিধার জন্য রাখা হয়েছে - দূরের যাত্রীদের বিশ্রামের জন্য রেস্ট হাউস, ভিআইপি লাউঞ্জ ও আলাদা অপেক্ষমাণ কক্ষ, নারী-পুরুষের জন্য আলাদা ও পরিচ্ছন্ন আধুনিক ওয়াশরুম, এ ছাড়া রয়েছে অন্যান্য যাত্রীসেবা।
লঞ্চ কমেছে অর্ধেকের বেশি
পাঁচ বছর আগেও বরিশাল-ঢাকা রুটে এই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন পাঁচটি লঞ্চ চলাচল করত। বর্তমানে চলছে মাত্র একটি বা দুটি। যাত্রীসংকটের কারণে অধিকাংশ অপারেটর রুট বন্ধ করে দিয়েছেন বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
তবে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের বিশ্বাস, আধুনিক টার্মিনাল চালু হলে যাত্রীর চাপ আবার বাড়বে এবং বন্ধ হওয়া লঞ্চগুলো ফিরে আসবে।
কর্তৃপক্ষ ও নাগরিকদের ভিন্ন মত
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী সাবিবুর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। জনসংযোগ বিভাগে যোগাযোগ করুন, ওখানেই সব তথ্য পেয়ে যাবেন।”
বরিশাল নাগরিক সুশীল সমাজ কমিটির আহ্বায়ক কাজী মিজানুর রহমান অবশ্য ভিন্ন কথা বলছেন। তিনি বলেন, “যখন হাজার হাজার যাত্রী এই লঞ্চঘাট দিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যেতেন, তখন এই আধুনিক টার্মিনাল হলে কাজে লাগত। এখন তো ঘাটে আগের মতো ভিড় নেই। আধুনিকায়নের আগে নদীর নাব্যতা ফেরাতে চর কাটা ও ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। নদী বাঁচলে লঞ্চও বাঁচবে।”
লঞ্চ মালিক সমিতির নেতারাও বলছেন, শুধু সুন্দর ভবন দিয়ে যাত্রী ফেরানো যাবে না। নদীপথের গভীরতা ও নিয়মিত সার্ভিস নিশ্চিত না করলে এই বিনিয়োগ মুখ থুবড়ে পড়বে।
আধুনিক সুবিধাসংবলিত টার্মিনালটি কবে নাগাদ উদ্বোধন হবে এবং যাত্রীরা কবে থেকে এর সুবিধা পাবেন, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানায়নি কর্তৃপক্ষ।

আপনার মতামত লিখুন