সংবাদ

রাতের আঁধারে গুটিয়ে গেল ঐতিহ্য


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
প্রকাশ: ২ আগস্ট ২০২৬, ০১:২৭ পিএম

রাতের আঁধারে গুটিয়ে গেল ঐতিহ্য
ছবি : সংবাদ

প্রায় পাঁচ দশকের ঐতিহ্যবাহী শাপলা সিনেমা হল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই শুক্রবার (৩১ জুলাই) গভীর রাতে ট্রাকে করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে হলটির আসবাবপত্র ও প্রদর্শন সরঞ্জাম। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর রংপুরের সাধারণ দর্শকসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, ১৯৭৮ সালে রংপুর নগরীর শাপলা চত্বর এলাকায় শাপলা সিনেমা টকিজ নামে এই সিনেমা হলের যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে এটি উত্তরাঞ্চলের অন্যতম জনপ্রিয় প্রেক্ষাগৃহ হিসেবে পরিচিত ছিল। সময়ের সঙ্গে দর্শক কিছুটা কমলেও কার্যক্রম চলছিল বেশ ভালোভাবেই। জনপ্রিয় সিনেমা দেখতে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যেত। রংপুর নগরীর পাঁচটি সিনেমা হল আগেই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শাপলা টকিজই ছিল সাধারণ মানুষের বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম। তবে সাম্প্রতিক সময়ে হলটিকে ঘিরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠার জেরে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই শনিবার (১ আগস্ট) বিকেল থেকে হলটির সব কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়া হয়। সব মালামাল, আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনা জানাজানি হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেকে ভিড় করেন সিনেমা হলের প্রধান ফটকের সামনে। তবে মালিকপক্ষ ভেতর থেকে তালা মেরে বন্ধ করে দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপস্থিত অনেকেই।

এ বিষয়ে শাপলা টকিজের মালিক মো. রিন্টু বলেন, “আমরা হলটি বছরভিত্তিক লিজ দিয়েছিলাম। সম্প্রতি সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠার পর হলটি ঘিরে নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এরপর হল পরিচালনা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ভবন ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। শনিবার সব মালামাল নিয়ে গেছে তারা। আমরা আর সিনেমা হল চালাতে ইচ্ছুক নই, অন্য কোনো ব্যবসা করার কথা ভাবছি।”

তবে বিভাগীয় নগরীর একমাত্র সিনেমা হলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংস্কৃতিক কর্মী জহির আলম নয়ন বলেন, ঐতিহ্য ধ্বংস না করে আধুনিক ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় সিনেমা হলটি চালু রাখা উচিত।

অন্যদিকে সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ, বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী রেজেকা সুলতানা ফেন্সি অ্যাডভোকেট বলেন, ঠুনকো অভিযোগে রংপুরের একমাত্র সিনেমা হলটি বন্ধ করে দেওয়া ঠিক হয়নি। কোনো অভিযোগ থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেত, তাই বলে হলটি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া উচিত হয়নি। তিনি হলটি পুনরায় চালুর দাবি জানান।

রংপুরের পাঁচটি সিনেমা হল বন্ধ হওয়ার পর শাপলা টকিজও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দর্শকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। অবিলম্বে সিনেমা হলটি চালুর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬


রাতের আঁধারে গুটিয়ে গেল ঐতিহ্য

প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

প্রায় পাঁচ দশকের ঐতিহ্যবাহী শাপলা সিনেমা হল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই শুক্রবার (৩১ জুলাই) গভীর রাতে ট্রাকে করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে হলটির আসবাবপত্র ও প্রদর্শন সরঞ্জাম। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর রংপুরের সাধারণ দর্শকসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, ১৯৭৮ সালে রংপুর নগরীর শাপলা চত্বর এলাকায় শাপলা সিনেমা টকিজ নামে এই সিনেমা হলের যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে এটি উত্তরাঞ্চলের অন্যতম জনপ্রিয় প্রেক্ষাগৃহ হিসেবে পরিচিত ছিল। সময়ের সঙ্গে দর্শক কিছুটা কমলেও কার্যক্রম চলছিল বেশ ভালোভাবেই। জনপ্রিয় সিনেমা দেখতে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যেত। রংপুর নগরীর পাঁচটি সিনেমা হল আগেই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শাপলা টকিজই ছিল সাধারণ মানুষের বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম। তবে সাম্প্রতিক সময়ে হলটিকে ঘিরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠার জেরে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই শনিবার (১ আগস্ট) বিকেল থেকে হলটির সব কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়া হয়। সব মালামাল, আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনা জানাজানি হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেকে ভিড় করেন সিনেমা হলের প্রধান ফটকের সামনে। তবে মালিকপক্ষ ভেতর থেকে তালা মেরে বন্ধ করে দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপস্থিত অনেকেই।

এ বিষয়ে শাপলা টকিজের মালিক মো. রিন্টু বলেন, “আমরা হলটি বছরভিত্তিক লিজ দিয়েছিলাম। সম্প্রতি সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠার পর হলটি ঘিরে নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এরপর হল পরিচালনা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ভবন ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। শনিবার সব মালামাল নিয়ে গেছে তারা। আমরা আর সিনেমা হল চালাতে ইচ্ছুক নই, অন্য কোনো ব্যবসা করার কথা ভাবছি।”

তবে বিভাগীয় নগরীর একমাত্র সিনেমা হলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংস্কৃতিক কর্মী জহির আলম নয়ন বলেন, ঐতিহ্য ধ্বংস না করে আধুনিক ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় সিনেমা হলটি চালু রাখা উচিত।

অন্যদিকে সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ, বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী রেজেকা সুলতানা ফেন্সি অ্যাডভোকেট বলেন, ঠুনকো অভিযোগে রংপুরের একমাত্র সিনেমা হলটি বন্ধ করে দেওয়া ঠিক হয়নি। কোনো অভিযোগ থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেত, তাই বলে হলটি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া উচিত হয়নি। তিনি হলটি পুনরায় চালুর দাবি জানান।

রংপুরের পাঁচটি সিনেমা হল বন্ধ হওয়ার পর শাপলা টকিজও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দর্শকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। অবিলম্বে সিনেমা হলটি চালুর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত