বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও পরবর্তী টানা বৃষ্টিতে পেঁপেসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা সদরের কম্বনিয়া, আশারতলী, আদর্শ গ্রাম এবং ঘুমধুম, বাইশারী, দোছড়ি ও সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় হাজারো কৃষক আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে তোলা পেঁপে বাগান। এ ছাড়া কলা, মরিচ, বেগুন, ঢ্যাঁড়স, শসা ও অন্যান্য মৌসুমি সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে।
ঘুমধুম ইউনিয়নের রেজু ফাত্রাঝিরি এলাকার কৃষক আবদুর রহিম জানান, চার কানি জমিতে বাণিজ্যিকভাবে পেঁপে চাষ করতে তিনি প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। জমি প্রস্তুত, চারা, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বাবদ এই বিশাল অঙ্কের টাকা ব্যয় হয়। লাভের আশায় করা সেই বাগান বন্যার পানিতে এখন ধ্বংসস্তূপ। এখন পর্যন্ত তিনি মাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার পেঁপে বিক্রি করতে পেরেছেন।
ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে আবদুর রহিম বলেন, ‘ঋণ ও ধারদেনা করে বাগানটি করেছিলাম। বন্যায় সব শেষ হয়ে গেছে। এখন ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। সরকারের কাছে আমরা দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবি জানাই।’
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবারের বন্যায় দীর্ঘ সময় জমি পানিবন্দি থাকায় গাছের গোড়া পচে গেছে। অনেক কৃষক নতুন করে চাষাবাদ শুরু করার মতো পুঁজিও হারিয়েছেন। তাদের দাবি, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা প্রয়োজন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। আমরা তালিকাটি জেলা অফিসে পাঠিয়েছি। বরাদ্দ ও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।’
দ্রুত সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে নাইক্ষ্যংছড়ির কৃষকরা আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন বলে স্থানীয়রা প্রত্যাশা করছেন।

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও পরবর্তী টানা বৃষ্টিতে পেঁপেসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা সদরের কম্বনিয়া, আশারতলী, আদর্শ গ্রাম এবং ঘুমধুম, বাইশারী, দোছড়ি ও সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় হাজারো কৃষক আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে তোলা পেঁপে বাগান। এ ছাড়া কলা, মরিচ, বেগুন, ঢ্যাঁড়স, শসা ও অন্যান্য মৌসুমি সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে।
ঘুমধুম ইউনিয়নের রেজু ফাত্রাঝিরি এলাকার কৃষক আবদুর রহিম জানান, চার কানি জমিতে বাণিজ্যিকভাবে পেঁপে চাষ করতে তিনি প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। জমি প্রস্তুত, চারা, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বাবদ এই বিশাল অঙ্কের টাকা ব্যয় হয়। লাভের আশায় করা সেই বাগান বন্যার পানিতে এখন ধ্বংসস্তূপ। এখন পর্যন্ত তিনি মাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার পেঁপে বিক্রি করতে পেরেছেন।
ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে আবদুর রহিম বলেন, ‘ঋণ ও ধারদেনা করে বাগানটি করেছিলাম। বন্যায় সব শেষ হয়ে গেছে। এখন ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। সরকারের কাছে আমরা দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবি জানাই।’
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবারের বন্যায় দীর্ঘ সময় জমি পানিবন্দি থাকায় গাছের গোড়া পচে গেছে। অনেক কৃষক নতুন করে চাষাবাদ শুরু করার মতো পুঁজিও হারিয়েছেন। তাদের দাবি, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা প্রয়োজন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। আমরা তালিকাটি জেলা অফিসে পাঠিয়েছি। বরাদ্দ ও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।’
দ্রুত সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে নাইক্ষ্যংছড়ির কৃষকরা আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন বলে স্থানীয়রা প্রত্যাশা করছেন।

আপনার মতামত লিখুন