সংবাদ

ব্যাংক হিসাব শূন্য ও এক অভিশপ্ত প্রবাস


প্রতিনিধি, পাথরঘাটা (বরগুনা)
প্রতিনিধি, পাথরঘাটা (বরগুনা)
প্রকাশ: ৪ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম

ব্যাংক হিসাব শূন্য ও এক অভিশপ্ত প্রবাস
ছবি : সংগৃহীত

প্রবাসের তপ্ত মরুভূমিতে হাড়ভাঙা খাটুনি আর রক্ত জল করা পরিশ্রমে অর্জিত প্রতিটি পয়সা পাঠিয়েছিলেন জীবনসঙ্গিনীর কাছে। স্বপ্ন ছিল রঙিন ভবিষ্যতের। কিন্তু দেশে ফিরে দেখলেন সব শেষ। নিজের ঘর নেই, ব্যাংক হিসাব শূন্য, এমনকি নেই সেই আপন মানুষটিও। পাথরঘাটার দুই প্রবাসী ভাই রফিকুল ইসলাম ও মাইদুল ইসলামের কাছে এখন বেঁচে থাকার সম্বল কেবল চোখের পানি আর আদালতের বারান্দা।

দীর্ঘ প্রবাস জীবনের কষ্টার্জিত এক কোটি টাকা ও ২০ ভরি স্বর্ণ আত্মসাতের অভিযোগে স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এই দুই ভাই। ভুক্তভোগী মো. রফিকুল ইসলাম ও মো. মাইদুল ইসলাম পাথরঘাটা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের দুই স্ত্রী, শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছেন। আদালত একটি মামলায় বরগুনা সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং অপর মামলায় সমন জারির আদেশ দিয়েছেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, পাথরঘাটার চরদুয়ানি ইউনিয়নের তাফালবাড়িয়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম কুয়েতে এবং মাইদুল ইসলাম দুবাইয়ে কাজ করতেন। তারা একই উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের ছোনবুনিয়া গ্রামের দুই বোন মিতু শারমিন ও মহিমাকে বিয়ে করেছিলেন। দীর্ঘ প্রবাস জীবনে উপার্জিত সব অর্থ তারা স্ত্রীদের ব্যাংক হিসাবে পাঠাতেন। এমনকি তাদের টাকায় শ্বশুরবাড়িতে আলিশান পাকা ভবনও নির্মাণ করা হয়।

সম্প্রতি দেশে ফিরে রফিকুল জানতে পারেন, তার অজান্তেই স্ত্রী তাকে ডিভোর্স দিয়েছেন। অন্যদিকে মাইদুলের স্ত্রীও একই প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাঁদের অর্থ ও স্বর্ণ হাতিয়ে নেওয়ার পর এখন তাদের জীবন থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রুস্তম আলী হাওলাদার ও চরদুয়ানি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও বিবাদী পক্ষ তাতে অংশ নেয়নি। প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে তারা মন্তব্য করেন। অভিযুক্ত দুই বোন মিতু ও মহিমার বাড়িতে গিয়ে কাউকে না পাওয়ায় তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬


ব্যাংক হিসাব শূন্য ও এক অভিশপ্ত প্রবাস

প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

প্রবাসের তপ্ত মরুভূমিতে হাড়ভাঙা খাটুনি আর রক্ত জল করা পরিশ্রমে অর্জিত প্রতিটি পয়সা পাঠিয়েছিলেন জীবনসঙ্গিনীর কাছে। স্বপ্ন ছিল রঙিন ভবিষ্যতের। কিন্তু দেশে ফিরে দেখলেন সব শেষ। নিজের ঘর নেই, ব্যাংক হিসাব শূন্য, এমনকি নেই সেই আপন মানুষটিও। পাথরঘাটার দুই প্রবাসী ভাই রফিকুল ইসলাম ও মাইদুল ইসলামের কাছে এখন বেঁচে থাকার সম্বল কেবল চোখের পানি আর আদালতের বারান্দা।

দীর্ঘ প্রবাস জীবনের কষ্টার্জিত এক কোটি টাকা ও ২০ ভরি স্বর্ণ আত্মসাতের অভিযোগে স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এই দুই ভাই। ভুক্তভোগী মো. রফিকুল ইসলাম ও মো. মাইদুল ইসলাম পাথরঘাটা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের দুই স্ত্রী, শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছেন। আদালত একটি মামলায় বরগুনা সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং অপর মামলায় সমন জারির আদেশ দিয়েছেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, পাথরঘাটার চরদুয়ানি ইউনিয়নের তাফালবাড়িয়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম কুয়েতে এবং মাইদুল ইসলাম দুবাইয়ে কাজ করতেন। তারা একই উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের ছোনবুনিয়া গ্রামের দুই বোন মিতু শারমিন ও মহিমাকে বিয়ে করেছিলেন। দীর্ঘ প্রবাস জীবনে উপার্জিত সব অর্থ তারা স্ত্রীদের ব্যাংক হিসাবে পাঠাতেন। এমনকি তাদের টাকায় শ্বশুরবাড়িতে আলিশান পাকা ভবনও নির্মাণ করা হয়।

সম্প্রতি দেশে ফিরে রফিকুল জানতে পারেন, তার অজান্তেই স্ত্রী তাকে ডিভোর্স দিয়েছেন। অন্যদিকে মাইদুলের স্ত্রীও একই প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাঁদের অর্থ ও স্বর্ণ হাতিয়ে নেওয়ার পর এখন তাদের জীবন থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রুস্তম আলী হাওলাদার ও চরদুয়ানি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও বিবাদী পক্ষ তাতে অংশ নেয়নি। প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে তারা মন্তব্য করেন। অভিযুক্ত দুই বোন মিতু ও মহিমার বাড়িতে গিয়ে কাউকে না পাওয়ায় তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত