মৌনলতা
একটা গাছ জন্মেছে বাগানে
গাছ না বলে—
অচেনা বুনোলতা বলাই বোধহয় সমীচীন
কারণ দীর্ঘদিন আমি এমন কিছু দেখিনি;
ফুলবিহীন ছিপছিপে সোনার শরীরে
জমাট সবুজের উদ্বাহু পাতার মহিমা
আর পেঁচিয়ে ধরা ছায়াঘন মায়ায়
সে এক অনন্য রূপের গরিমা।
কুমারী মাত্রই অমন জেনেছিলাম আমি
যেখানে স্পর্শবিহীন নরম শরীরবাগিচায়
শুধু পিছলে ওঠে রোদ, চুপচাপ শব্দহীন;
আর বহুবিধ আবিষ্কারের লোভে নরম কিছু বিহঙ্গবায়ু
উত্তাল খেলে বেড়ায় অভিজ্ঞ মানুষের মতো।
তবু সমুখের গাছটিকে চিনতে চিনতে
কুমারী না যুবতী আমি বুঝিনি কোনোদিন।
এভাবে শিশির আর রৌদ্রসুষমায় ভিজে
ক্রমান্বয়ে শ্বাস ও সখ্যের নিঃশব্দ বিচরণে
গাছটির হাত, পা, বুক ও গ্রীবায় জমেছে
ঝলমলে কাতর যৌবন;
চোখে ফুটেছে ছলনার অনিবার্য পরিণতি।
আমার যাবতীয় অভিজ্ঞতাকে ভ্রুকুটি করে
ফুল, পাতা, কাণ্ড, কুঁড়ি, গন্ধসমেত
দিন দিন বেড়ে উঠছিল আপনে সন্তর্পণে
যেন লতা নয়, গুল্ম নয়, নামধারী বৃক্ষও নয়
শুধু মৌনতা হরণ করা আশ্চর্য এক
যৌবনবতী নারীর পরিপূর্ণ শরীর নিয়ে।
আমি তবু প্রশ্রয় দিয়ে গেছি জল ও হাওয়াকে
তারাও এসে ফিসফাস কথা রেখে গেছে
অমন কামনাগন্ধি উজ্জ্বল নিস্পন্দ শরীরে
ব্রত নেওয়া লতার তুমুল প্রাণের কাছে।
একদিন নিজেকেই প্রশ্ন করি, আমার অঙ্গনে
কে রেখে গেল এমন কুমারীবৃক্ষের বীজ?
অপরিচিত আগন্তুক, কোনো প্রাচীন সন্ন্যাসী
নাকি এক দূরগামী হীরামন পাখি?
অচেনা গাছটি শোনো, তোমার নাম নেই কোনো
আমিও এক নিঃসঙ্গ অরণ্যচারী মানুষ
বুকে কথা রেখেছি অনেক, শোনাব বলে একদিন
অকৃপণ মনে তুমি শুধু তোমার কথাটি বলো
সুনসান এই রাতের চরাচরে।
উত্তর নেই, তবু বহুদিন আকাঙ্ক্ষিত থেকেছি
তোমাকে শুধু মৌনলতা নাম দিয়েছি বলে।
এই দহনের দিনে
কোটর থেকে খুলেই ফেলি চোখ
ভিজিয়ে রাখি সাত সমুদ্র জলে
এভাবেই যদি ঘোচে তুমুল শোক
ফিরিয়ে নেবে, সুখের ছলে বলে?
জানো না তো চোখের নানা ব্যাধি
লবণ জলে শুধুই ব্যথার ওম—
সুখের মাঝেই দুখের ভরা নদী
পায় না খুঁজে, সুখ যে ভীষণ কম।
দহন দিনের বীণায় বাজে সুর
দুঃখ-সুখের হিসাব পাথরচাপা
হৃৎ গহীনের দুখের মতিচুর
জীবনজুড়ে হবে দোলনচাঁপা।
ক্ষত
ঘাতে প্রতিঘাতে ডানা ভেঙেছে রোজ
পাখি নামে ডেকো, আর কী দেবে নাম?
পালকের নিচে বিষাদের কোরো খোঁজ
লাল ক্ষতে আঁকা, ব্যথার নীল বোতাম।
আকাশের নামে মিছে পৃথিবীটা যত
সাজিয়ে রাখুক মেঘের বৃক্ষ-শাখা;
ক্ষতে বিক্ষতে সংকট খুব ঘনীভূত
সাহসেরও চাই অযুত লক্ষ পাখা।
ওড়ার শক্তি নিঃশেষ হলেই ক্ষতি
শুশ্রূষা হাতে সোহাগ দিও যে পরম,
সংকোচ নয়, বিহ্বলতা চাই অতি
ক্ষত মুছে দিয়ে ব্যথা কোরো উপশম।
কিছু উপশম কথায় থাকে যে জমা
কিছু জমা থাকে চোখভাঙা নোনাবানে,
হাসিমুখে কিছু করে দিও রোজ ক্ষমা
মানুষ হয়েই ফিরব, সকলে জানে।
চোখ
আমার কিছু চোখ
অহর্নিশি জেগে থাকতে জানে
খুব বিশ্বস্ত কোনো প্রত্যঙ্গের মতো;
ঠিক যতখানি আলো এসে বিচ্ছুরিত হয়
অকপট দৃশ্যগণ্ডির মধ্যে
তার অধিক দেখার নিয়ম নেই তার।
অথচ চোখগুলো জানে
বিশ্বস্ততা ভালো, তবে কোনো দাসত্ব নয়
তাই গোলাকার মুখমণ্ডলে লেগে থাকে ঠিক।
কিন্তু কখনও আবার অন্যের ইচ্ছাধীন হয়ে
পরাভূত হয় অন্ধকারের সময়সংহারে;
লোভের ইশারায় হয়তো বিভ্রান্ত হয়ে ওঠে
অবিশ্বস্ত রাতেরই মতো।
এখানে রাত প্রভুভক্ত কুকুরের ন্যায়
পা কিংবা হাঁটুভাঙা কোলের কাছে
গন্ধ শুঁকে নাক ঘষছে অবিরাম—
বেহিসাবি কিছু আদরের বাহানায়;
রাতের শরীরে প্রহরী বেষ্টিত চোখ
বোধের তরজমায় সতর্ক তখন কিংবা সবকিছু জানে।
হঠাৎ কোথাও জ্বলে ওঠে আগুনের ফুলকি
একটা দুটো তারা খসে পড়ে অদূরের দূরে
নিরাপদ চরাচরের সামান্য অবিশ্বস্ততায়।
রাতও জানে দিনশেষে
সময়ের সঙ্গম ভালো, তবে দাসত্ব নয়
তবু কিছু রাত প্রতিদিন পরাজিত হয়
কারও কারও কাছে মেনে নেয় অন্যায় দাসত্ব।
আলো অন্ধকার নির্বিশেষে
রাতের শরীরে তখন পাপ জাগে
খুব বিশ্বস্ত গোপন ও নিয়মের অনিবার্যতায়।
এমনই নানান ফাঁকির মধ্যে
আমার কিছু করার থাকে না;
নিয়ম করে আজকাল তাই
মুখ থেকে খুলে রাখি যাবতীয় চোখ।
বিশ্বস্ত অথবা অবিশ্বস্ত রাতের কোথাও
আলোর নিঃশর্ত চলাচল রাখি না।
দেখি শুধু মুখমণ্ডলের
কোটরাগত অন্ধকারের মধ্যে
খসে পড়া অন্ধ নক্ষত্রসমূহ
একা বসে জ্বলজ্বল করছে।
উল্টো পৃথিবী
সকালে উঠে দেখি
পৃথিবীটা কেমন আজব হয়ে গেছে;
মানুষের মাটির শরীরগুলো
দিব্যি সাঁতরে বেড়াচ্ছে হাওয়ায়।
পা দুটো তার শূন্যে,
আর মাথাসমেত বাকি শরীরটা
গড়িয়ে যাচ্ছে রাস্তায়।
কাছ থেকে কথা বলে উঠতেই
কেমন মধুর শব্দ হলো
বিদ্যুতের তারে বসা দাঁড়কাকের গলা থেকে;
আমার দিকে তাকিয়ে
ভোরের নামতা গাইতে শুরু করেছে কেবল
যেন সুপ্রাচীন বসন্তকে তারা এনেছে ডেকে
ভোজবাজির এই মানুষের নগরে।
পৃথিবীটা সবে উল্টো হতে চলেছে,
কুৎসিত শরীর নিয়ে মানুষগুলো সব কাক
নদীর মাছগুলো সব গাছ
আর দূরটা হলো যে কাছ
সে কাছের সুলুকসন্ধানে
সকালটা হঠাৎ সন্ধ্যা হয়ে গেল।
আমি তখন কাকের শরীর নিয়ে ভাবছি
কখন ভোরের দেখা পাব।
***
মঈনুল হাসান কথাসাহিত্যিক, জন্ম : ১৯৭৮ সালের ৪ আগস্ট ঢাকার তেজগাঁওয়ে। শিক্ষা : ঢাকার বটমলী হােম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক, চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লােকপ্রশাসন বিভাগ থেকে বিএসএস (সম্মান) ও এমএসএস ডিগ্রি অর্জন। পরবর্তীকালে সরকারি চাকুরিতে প্রবেশের পর যুক্তরাজ্যের University of Bedfordshire MA in International Human Resource Management বিষয়েও ডিগ্রি অর্জন। বর্তমানে উপসচিব হিসেবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষাবিভাগে কর্মরত। প্রকাশনা : ফুলকুড়ানি মেয়ে (ছােটদের কাব্যগ্রন্থ), বাস্তুসাপ (গল্পগ্রন্থ), সন্ধ্যা নামার আগে (গল্পগ্রন্থ), কল্পে গল্পে ইলিশ (সম্পাদিত গল্প সংকলন), জলসংসার (গল্পগ্রন্থ), শরফুন ও এক শহরের বৃত্তান্ত (গল্পগ্রন্থ), রাঙা শালুক (ছড়াগ্রন্থ), (সম্পাদিত গ্রন্থ), বাস্তুসাপ ও শূন্য রথের ঘোড়া।

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬
মৌনলতা
একটা গাছ জন্মেছে বাগানে
গাছ না বলে—
অচেনা বুনোলতা বলাই বোধহয় সমীচীন
কারণ দীর্ঘদিন আমি এমন কিছু দেখিনি;
ফুলবিহীন ছিপছিপে সোনার শরীরে
জমাট সবুজের উদ্বাহু পাতার মহিমা
আর পেঁচিয়ে ধরা ছায়াঘন মায়ায়
সে এক অনন্য রূপের গরিমা।
কুমারী মাত্রই অমন জেনেছিলাম আমি
যেখানে স্পর্শবিহীন নরম শরীরবাগিচায়
শুধু পিছলে ওঠে রোদ, চুপচাপ শব্দহীন;
আর বহুবিধ আবিষ্কারের লোভে নরম কিছু বিহঙ্গবায়ু
উত্তাল খেলে বেড়ায় অভিজ্ঞ মানুষের মতো।
তবু সমুখের গাছটিকে চিনতে চিনতে
কুমারী না যুবতী আমি বুঝিনি কোনোদিন।
এভাবে শিশির আর রৌদ্রসুষমায় ভিজে
ক্রমান্বয়ে শ্বাস ও সখ্যের নিঃশব্দ বিচরণে
গাছটির হাত, পা, বুক ও গ্রীবায় জমেছে
ঝলমলে কাতর যৌবন;
চোখে ফুটেছে ছলনার অনিবার্য পরিণতি।
আমার যাবতীয় অভিজ্ঞতাকে ভ্রুকুটি করে
ফুল, পাতা, কাণ্ড, কুঁড়ি, গন্ধসমেত
দিন দিন বেড়ে উঠছিল আপনে সন্তর্পণে
যেন লতা নয়, গুল্ম নয়, নামধারী বৃক্ষও নয়
শুধু মৌনতা হরণ করা আশ্চর্য এক
যৌবনবতী নারীর পরিপূর্ণ শরীর নিয়ে।
আমি তবু প্রশ্রয় দিয়ে গেছি জল ও হাওয়াকে
তারাও এসে ফিসফাস কথা রেখে গেছে
অমন কামনাগন্ধি উজ্জ্বল নিস্পন্দ শরীরে
ব্রত নেওয়া লতার তুমুল প্রাণের কাছে।
একদিন নিজেকেই প্রশ্ন করি, আমার অঙ্গনে
কে রেখে গেল এমন কুমারীবৃক্ষের বীজ?
অপরিচিত আগন্তুক, কোনো প্রাচীন সন্ন্যাসী
নাকি এক দূরগামী হীরামন পাখি?
অচেনা গাছটি শোনো, তোমার নাম নেই কোনো
আমিও এক নিঃসঙ্গ অরণ্যচারী মানুষ
বুকে কথা রেখেছি অনেক, শোনাব বলে একদিন
অকৃপণ মনে তুমি শুধু তোমার কথাটি বলো
সুনসান এই রাতের চরাচরে।
উত্তর নেই, তবু বহুদিন আকাঙ্ক্ষিত থেকেছি
তোমাকে শুধু মৌনলতা নাম দিয়েছি বলে।
এই দহনের দিনে
কোটর থেকে খুলেই ফেলি চোখ
ভিজিয়ে রাখি সাত সমুদ্র জলে
এভাবেই যদি ঘোচে তুমুল শোক
ফিরিয়ে নেবে, সুখের ছলে বলে?
জানো না তো চোখের নানা ব্যাধি
লবণ জলে শুধুই ব্যথার ওম—
সুখের মাঝেই দুখের ভরা নদী
পায় না খুঁজে, সুখ যে ভীষণ কম।
দহন দিনের বীণায় বাজে সুর
দুঃখ-সুখের হিসাব পাথরচাপা
হৃৎ গহীনের দুখের মতিচুর
জীবনজুড়ে হবে দোলনচাঁপা।
ক্ষত
ঘাতে প্রতিঘাতে ডানা ভেঙেছে রোজ
পাখি নামে ডেকো, আর কী দেবে নাম?
পালকের নিচে বিষাদের কোরো খোঁজ
লাল ক্ষতে আঁকা, ব্যথার নীল বোতাম।
আকাশের নামে মিছে পৃথিবীটা যত
সাজিয়ে রাখুক মেঘের বৃক্ষ-শাখা;
ক্ষতে বিক্ষতে সংকট খুব ঘনীভূত
সাহসেরও চাই অযুত লক্ষ পাখা।
ওড়ার শক্তি নিঃশেষ হলেই ক্ষতি
শুশ্রূষা হাতে সোহাগ দিও যে পরম,
সংকোচ নয়, বিহ্বলতা চাই অতি
ক্ষত মুছে দিয়ে ব্যথা কোরো উপশম।
কিছু উপশম কথায় থাকে যে জমা
কিছু জমা থাকে চোখভাঙা নোনাবানে,
হাসিমুখে কিছু করে দিও রোজ ক্ষমা
মানুষ হয়েই ফিরব, সকলে জানে।
চোখ
আমার কিছু চোখ
অহর্নিশি জেগে থাকতে জানে
খুব বিশ্বস্ত কোনো প্রত্যঙ্গের মতো;
ঠিক যতখানি আলো এসে বিচ্ছুরিত হয়
অকপট দৃশ্যগণ্ডির মধ্যে
তার অধিক দেখার নিয়ম নেই তার।
অথচ চোখগুলো জানে
বিশ্বস্ততা ভালো, তবে কোনো দাসত্ব নয়
তাই গোলাকার মুখমণ্ডলে লেগে থাকে ঠিক।
কিন্তু কখনও আবার অন্যের ইচ্ছাধীন হয়ে
পরাভূত হয় অন্ধকারের সময়সংহারে;
লোভের ইশারায় হয়তো বিভ্রান্ত হয়ে ওঠে
অবিশ্বস্ত রাতেরই মতো।
এখানে রাত প্রভুভক্ত কুকুরের ন্যায়
পা কিংবা হাঁটুভাঙা কোলের কাছে
গন্ধ শুঁকে নাক ঘষছে অবিরাম—
বেহিসাবি কিছু আদরের বাহানায়;
রাতের শরীরে প্রহরী বেষ্টিত চোখ
বোধের তরজমায় সতর্ক তখন কিংবা সবকিছু জানে।
হঠাৎ কোথাও জ্বলে ওঠে আগুনের ফুলকি
একটা দুটো তারা খসে পড়ে অদূরের দূরে
নিরাপদ চরাচরের সামান্য অবিশ্বস্ততায়।
রাতও জানে দিনশেষে
সময়ের সঙ্গম ভালো, তবে দাসত্ব নয়
তবু কিছু রাত প্রতিদিন পরাজিত হয়
কারও কারও কাছে মেনে নেয় অন্যায় দাসত্ব।
আলো অন্ধকার নির্বিশেষে
রাতের শরীরে তখন পাপ জাগে
খুব বিশ্বস্ত গোপন ও নিয়মের অনিবার্যতায়।
এমনই নানান ফাঁকির মধ্যে
আমার কিছু করার থাকে না;
নিয়ম করে আজকাল তাই
মুখ থেকে খুলে রাখি যাবতীয় চোখ।
বিশ্বস্ত অথবা অবিশ্বস্ত রাতের কোথাও
আলোর নিঃশর্ত চলাচল রাখি না।
দেখি শুধু মুখমণ্ডলের
কোটরাগত অন্ধকারের মধ্যে
খসে পড়া অন্ধ নক্ষত্রসমূহ
একা বসে জ্বলজ্বল করছে।
উল্টো পৃথিবী
সকালে উঠে দেখি
পৃথিবীটা কেমন আজব হয়ে গেছে;
মানুষের মাটির শরীরগুলো
দিব্যি সাঁতরে বেড়াচ্ছে হাওয়ায়।
পা দুটো তার শূন্যে,
আর মাথাসমেত বাকি শরীরটা
গড়িয়ে যাচ্ছে রাস্তায়।
কাছ থেকে কথা বলে উঠতেই
কেমন মধুর শব্দ হলো
বিদ্যুতের তারে বসা দাঁড়কাকের গলা থেকে;
আমার দিকে তাকিয়ে
ভোরের নামতা গাইতে শুরু করেছে কেবল
যেন সুপ্রাচীন বসন্তকে তারা এনেছে ডেকে
ভোজবাজির এই মানুষের নগরে।
পৃথিবীটা সবে উল্টো হতে চলেছে,
কুৎসিত শরীর নিয়ে মানুষগুলো সব কাক
নদীর মাছগুলো সব গাছ
আর দূরটা হলো যে কাছ
সে কাছের সুলুকসন্ধানে
সকালটা হঠাৎ সন্ধ্যা হয়ে গেল।
আমি তখন কাকের শরীর নিয়ে ভাবছি
কখন ভোরের দেখা পাব।
***
মঈনুল হাসান কথাসাহিত্যিক, জন্ম : ১৯৭৮ সালের ৪ আগস্ট ঢাকার তেজগাঁওয়ে। শিক্ষা : ঢাকার বটমলী হােম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক, চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লােকপ্রশাসন বিভাগ থেকে বিএসএস (সম্মান) ও এমএসএস ডিগ্রি অর্জন। পরবর্তীকালে সরকারি চাকুরিতে প্রবেশের পর যুক্তরাজ্যের University of Bedfordshire MA in International Human Resource Management বিষয়েও ডিগ্রি অর্জন। বর্তমানে উপসচিব হিসেবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষাবিভাগে কর্মরত। প্রকাশনা : ফুলকুড়ানি মেয়ে (ছােটদের কাব্যগ্রন্থ), বাস্তুসাপ (গল্পগ্রন্থ), সন্ধ্যা নামার আগে (গল্পগ্রন্থ), কল্পে গল্পে ইলিশ (সম্পাদিত গল্প সংকলন), জলসংসার (গল্পগ্রন্থ), শরফুন ও এক শহরের বৃত্তান্ত (গল্পগ্রন্থ), রাঙা শালুক (ছড়াগ্রন্থ), (সম্পাদিত গ্রন্থ), বাস্তুসাপ ও শূন্য রথের ঘোড়া।

আপনার মতামত লিখুন