সংবাদ

পনেরো দিনেই সোয়া কোটির সড়কে ধস


প্রতিনিধি, গোয়ালন্দ(রাজবাড়ী)
প্রতিনিধি, গোয়ালন্দ(রাজবাড়ী)
প্রকাশ: ৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:১১ পিএম

পনেরো দিনেই সোয়া কোটির সড়কে ধস
জোড়াতালির বিটুমিনে ভেঙে পড়া রাস্তা। ছবি : সংবাদ

উদ্বোধনের রেশ কাটতে না কাটতেই ধসে পড়ল সোয়া কোটি টাকার সড়ক - রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে টানা বৃষ্টিতে ফাঁস হয়ে গেল নির্মাণকাজের আসল চিত্র।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মিত দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ একটি হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) সড়কের অন্তত ১৫ থেকে ২০টি স্থানে ধস দেখা দিয়েছে। দৌলতদিয়া আক্কাস আলী উচ্চবিদ্যালয়ের পেছন থেকে আশ্রয়ণ প্রকল্প হয়ে রিকাতের দোকান পর্যন্ত বিস্তৃত সড়কটির কাজ শেষ হয় চলতি বছরের ১০ জুন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ সড়ক টেকসইকরণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে কাজটির চুক্তিমূল্য ছিল ১ কোটি ১৯ লাখ ৪৯ হাজার ৭৮৮ টাকা। কার্যাদেশ পায় মেসার্স লাকী এন্টারপ্রাইজ, কাজ শুরু হয় ১২ মার্চ।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের গাইডওয়ালে ফাটল, নিচের অংশ দেবে যাওয়া এবং ইট উঠে যাওয়ায় চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রথম শ্রেণির ইটের বদলে নিম্নমানের ইট ব্যবহার হয়েছে, গাইডওয়ালের নিচে নির্ধারিত ২৫০ মিলিমিটার ইটের গাঁথুনি নেই, আর পুরোনো-ছিদ্রযুক্ত বিটুমিন শিট জোড়াতালি দিয়ে বসানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, নির্মাণকাজ চলাকালেই নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদ করেছিলেন তারা; পিআইও কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশও দিয়েছিলেন, কিন্তু তা কার্যকর হয়নি। কৃষক আলতাফ শেখ বলেন, নিম্নমানের কাজের কারণে অল্প বৃষ্টিতেই রাস্তা নষ্ট হয়ে গেছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা ফাতেমা বেগমের ভাষ্য, কোটি টাকা খরচের পরও সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে। বাসিন্দা দুলাল মোল্লা বলেন, তদারকির অভাবেই প্রকল্প ঝুঁকিতে পড়েছে, অভিযোগের পরও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ঠিকাদারের প্রতিনিধি মো. হাবিবুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নকশা অনুযায়ী কাজ হয়েছে, বৃষ্টিতে ক্ষতি হলে দ্রুত মেরামত করা হবে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আবু বকর জানান, ঠিকাদারকে মান নিশ্চিতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, দ্রুত মেরামতেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; এক বছরের ওয়ারেন্টি থাকায় জামানত ফেরতের আগে ত্রুটি সংশোধন নিশ্চিত করা হবে।

গোয়ালন্দ উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, সড়ক পরিদর্শন করে মান যাচাই করা হবে, তবে তার বদলির কারণে অগ্রগতি হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, শুধু মেরামত নয় - দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও স্বাধীন কারিগরি তদন্ত প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬


পনেরো দিনেই সোয়া কোটির সড়কে ধস

প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

উদ্বোধনের রেশ কাটতে না কাটতেই ধসে পড়ল সোয়া কোটি টাকার সড়ক - রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে টানা বৃষ্টিতে ফাঁস হয়ে গেল নির্মাণকাজের আসল চিত্র।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মিত দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ একটি হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) সড়কের অন্তত ১৫ থেকে ২০টি স্থানে ধস দেখা দিয়েছে। দৌলতদিয়া আক্কাস আলী উচ্চবিদ্যালয়ের পেছন থেকে আশ্রয়ণ প্রকল্প হয়ে রিকাতের দোকান পর্যন্ত বিস্তৃত সড়কটির কাজ শেষ হয় চলতি বছরের ১০ জুন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ সড়ক টেকসইকরণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে কাজটির চুক্তিমূল্য ছিল ১ কোটি ১৯ লাখ ৪৯ হাজার ৭৮৮ টাকা। কার্যাদেশ পায় মেসার্স লাকী এন্টারপ্রাইজ, কাজ শুরু হয় ১২ মার্চ।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের গাইডওয়ালে ফাটল, নিচের অংশ দেবে যাওয়া এবং ইট উঠে যাওয়ায় চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রথম শ্রেণির ইটের বদলে নিম্নমানের ইট ব্যবহার হয়েছে, গাইডওয়ালের নিচে নির্ধারিত ২৫০ মিলিমিটার ইটের গাঁথুনি নেই, আর পুরোনো-ছিদ্রযুক্ত বিটুমিন শিট জোড়াতালি দিয়ে বসানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, নির্মাণকাজ চলাকালেই নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদ করেছিলেন তারা; পিআইও কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশও দিয়েছিলেন, কিন্তু তা কার্যকর হয়নি। কৃষক আলতাফ শেখ বলেন, নিম্নমানের কাজের কারণে অল্প বৃষ্টিতেই রাস্তা নষ্ট হয়ে গেছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা ফাতেমা বেগমের ভাষ্য, কোটি টাকা খরচের পরও সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে। বাসিন্দা দুলাল মোল্লা বলেন, তদারকির অভাবেই প্রকল্প ঝুঁকিতে পড়েছে, অভিযোগের পরও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ঠিকাদারের প্রতিনিধি মো. হাবিবুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নকশা অনুযায়ী কাজ হয়েছে, বৃষ্টিতে ক্ষতি হলে দ্রুত মেরামত করা হবে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আবু বকর জানান, ঠিকাদারকে মান নিশ্চিতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, দ্রুত মেরামতেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; এক বছরের ওয়ারেন্টি থাকায় জামানত ফেরতের আগে ত্রুটি সংশোধন নিশ্চিত করা হবে।

গোয়ালন্দ উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, সড়ক পরিদর্শন করে মান যাচাই করা হবে, তবে তার বদলির কারণে অগ্রগতি হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, শুধু মেরামত নয় - দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও স্বাধীন কারিগরি তদন্ত প্রয়োজন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত