সংবাদ

এলএনজি টার্মিনালে চালু হচ্ছে বয়লার, কমবে সংকট


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৫ আগস্ট ২০২৬, ০২:১৫ পিএম

এলএনজি টার্মিনালে চালু হচ্ছে বয়লার, কমবে সংকট
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) একটি বয়লার বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে চালু হতে পারে। এতে করে দুইশ থেকে আড়াইশ এমএমসিএফটি গ্যাস সরবরাহ বাড়তে পারে।

সকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর নিউ মার্কেট এলাকায় রেলওয়ে স্টেশন প্রাঙ্গনে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদেরএ তথ্য জানান কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. সালাহউদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘এফএসআরইউতে একটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল। দেশি ও বিদেশি প্রকৌশলীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। এটা হয়তো আজকে রাত থেকেই কিছু উন্নতি হবে। এখানে দুটি বয়লার ছিল। তার মধ্যে একটি বয়লার হয়তো চালু হয়ে যাবে আজকে থেকেই।’

প্রকৌশলী সালাহউদ্দিন জানান, বর্তমানে চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রায় ২০০ এমএমসিএফটি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কম। সাধারণত এ অঞ্চলে ২৬০ থেকে ২৭০ এমএমসিএফটি গ্যাস সরবরাহ করা হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা পাইপলাইনের মাধ্যমে আনোয়ারা থেকে গ্যাস গ্রহণ করি। বর্তমানে ২০০ এমএমসিএফটির কাছাকাছি গ্যাস দিচ্ছি।’

কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে গত ২১ জুলাই কারিগরি সমস্যা শুরুর পর থেকেই চট্টগ্রামে গ্যাসের সরবরাহ কমে যায়। শনিবার রাত থেকে সরবরাহ আরও কমানো হয়। এতে সংকট তীব্র আকার ধারণ করে।

কেজিডিসিএলের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম অঞ্চলে স্বাভাবিক সময়ে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফটি)। ২১ জুলাই এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ার পরদিন চট্টগ্রামে জাতীয় গ্রিড থেকে ২৩০ এমএমসিএফটি গ্যাস মিলছিল।

গত ১ আগস্ট তা কমে দাঁড়ায় ২১৭ এমএমসিএফটি। ২ আগস্ট এটি আরও কমে ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটের কাছাকাছি নামে। সবশেষ ৩ আগস্ট গ্যাসের সরবরাহ ছিল ১৯৪ মিলিয়ন ঘনফুট।

গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, বাড়ছে লোডশেডিং। সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গাড়ির লাইন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়েছে। বাসাবাড়িতে চুলা জ্বলছে না। শিল্প কারখানা, সিএনজি ফিলিং স্টেশন, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সার কারখানা এবং বাসাবাড়িতে গ্যাসের সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে গেছে।

কেজিডিসিএল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকা অঞ্চলে সরবরাহ বাড়াতে জাতীয় গ্রিড থেকে সেখানে বেশি পরিমাণে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। এতে চট্টগ্রামের জন্য গ্যাসের বরাদ্দ গত দুদিনে আরও কমেছে।

মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালের একটি বয়লার চালু হলে দুইশ থেকে আড়াইশ এমএমসিএফটি গ্যাস বাড়তি পাওয়া যেতে পারে। এতে চট্টগ্রামসহ আশপাশের এলাকায় গ্যাস সংকট কিছুটা কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও পূর্ণাঙ্গ সমাধানের জন্য দ্বিতীয় বয়লারটিও চালু করতে হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬


এলএনজি টার্মিনালে চালু হচ্ছে বয়লার, কমবে সংকট

প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) একটি বয়লার বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে চালু হতে পারে। এতে করে দুইশ থেকে আড়াইশ এমএমসিএফটি গ্যাস সরবরাহ বাড়তে পারে।

সকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর নিউ মার্কেট এলাকায় রেলওয়ে স্টেশন প্রাঙ্গনে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদেরএ তথ্য জানান কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. সালাহউদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘এফএসআরইউতে একটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল। দেশি ও বিদেশি প্রকৌশলীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। এটা হয়তো আজকে রাত থেকেই কিছু উন্নতি হবে। এখানে দুটি বয়লার ছিল। তার মধ্যে একটি বয়লার হয়তো চালু হয়ে যাবে আজকে থেকেই।’

প্রকৌশলী সালাহউদ্দিন জানান, বর্তমানে চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রায় ২০০ এমএমসিএফটি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কম। সাধারণত এ অঞ্চলে ২৬০ থেকে ২৭০ এমএমসিএফটি গ্যাস সরবরাহ করা হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা পাইপলাইনের মাধ্যমে আনোয়ারা থেকে গ্যাস গ্রহণ করি। বর্তমানে ২০০ এমএমসিএফটির কাছাকাছি গ্যাস দিচ্ছি।’

কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে গত ২১ জুলাই কারিগরি সমস্যা শুরুর পর থেকেই চট্টগ্রামে গ্যাসের সরবরাহ কমে যায়। শনিবার রাত থেকে সরবরাহ আরও কমানো হয়। এতে সংকট তীব্র আকার ধারণ করে।

কেজিডিসিএলের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম অঞ্চলে স্বাভাবিক সময়ে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফটি)। ২১ জুলাই এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ার পরদিন চট্টগ্রামে জাতীয় গ্রিড থেকে ২৩০ এমএমসিএফটি গ্যাস মিলছিল।

গত ১ আগস্ট তা কমে দাঁড়ায় ২১৭ এমএমসিএফটি। ২ আগস্ট এটি আরও কমে ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটের কাছাকাছি নামে। সবশেষ ৩ আগস্ট গ্যাসের সরবরাহ ছিল ১৯৪ মিলিয়ন ঘনফুট।

গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, বাড়ছে লোডশেডিং। সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গাড়ির লাইন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়েছে। বাসাবাড়িতে চুলা জ্বলছে না। শিল্প কারখানা, সিএনজি ফিলিং স্টেশন, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সার কারখানা এবং বাসাবাড়িতে গ্যাসের সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে গেছে।

কেজিডিসিএল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকা অঞ্চলে সরবরাহ বাড়াতে জাতীয় গ্রিড থেকে সেখানে বেশি পরিমাণে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। এতে চট্টগ্রামের জন্য গ্যাসের বরাদ্দ গত দুদিনে আরও কমেছে।

মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালের একটি বয়লার চালু হলে দুইশ থেকে আড়াইশ এমএমসিএফটি গ্যাস বাড়তি পাওয়া যেতে পারে। এতে চট্টগ্রামসহ আশপাশের এলাকায় গ্যাস সংকট কিছুটা কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও পূর্ণাঙ্গ সমাধানের জন্য দ্বিতীয় বয়লারটিও চালু করতে হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত