ভারী বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফুলেফেঁপে উঠেছে তিস্তা নদী। লালমনিরহাটের ডালিয়া পয়েন্টে নদীটি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার পাঁচটি উপজেলার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। হঠাৎ আসা বন্যায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নদীপাড়ের মানুষ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত থেকে তিস্তায় পানির প্রবাহ বাড়তে থাকে। বুধবার সকাল ৬টা ও ৯টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ২৮ মিটার, যা বিপৎসীমার (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ১৫ মিটার) ১৩ সেন্টিমিটার ওপরে। পানির প্রবল চাপে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে।
নদীর পানি বাড়ায় জেলার পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার কয়েক হাজার ঘরবাড়ি বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। বিশেষ করে পাটগ্রামের দহগ্রাম; হাতীবান্ধার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সিন্দুর্না; আদিতমারীর মহিষখোঁচা ও সদর উপজেলার খুনিয়াগাছসহ বেশ কিছু ইউনিয়নের মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন।
বন্যাদুর্গত এলাকাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ঘরবাড়িতে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি। অনেক পরিবার ঘরের ভেতর মাচা তৈরি করে সেখানেই রান্নাবান্না ও থাকার কাজ সারছে। গবাদিপশু নিয়ে অনেকেই উঁচু রাস্তা বা বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। পানিবন্দি মানুষের মধ্যে সাপ ও পোকামাকড়ের আতঙ্কও ছড়িয়ে পড়েছে।
মহিষখোঁচা ইউনিয়নের গোবর্ধন গ্রামের আজিজার রহমান বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত থেকে হু হু করে পানি বাড়ছে। চরাঞ্চলের প্রায় সব বাড়িই এখন পানির নিচে। গরু-ছাগল রাখার মতো কোনো শুকনো জায়গা নেই।’ উত্তর ডাউয়ামারী গ্রামের জুয়েল জানান, রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ছোট শিশুদের নিয়ে তারা চরম দুশ্চিন্তায় রাত কাটাচ্ছেন।
আদিতমারীর মহিষখোঁচা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী বলেন, হঠাৎ পানি বাড়ায় নিম্নাঞ্চলের শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তাদের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, ‘উজান থেকে আসা ঢলের কারণে তিস্তায় পানির চাপ বেড়েছে। সকাল থেকে নদীটি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। আমরা পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছি।’
আপনার মতামত লিখুন