সংবাদ

আলমারিতে জমানো ২ লাখ টাকা খেলো ইঁদুর-উইপোকা


প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
প্রকাশ: ৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৮ এএম

আলমারিতে জমানো ২ লাখ টাকা খেলো ইঁদুর-উইপোকা
ছবি : সংগৃহীত

স্ত্রী-সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নে কষ্ট করে একটু একটু করে জমিয়েছিলেন টাকা। কাঠের আলমারিতে যত্ন করে তুলে রাখা সেই ভবিষ্যৎ শেষ করে দিল ইঁদুর আর উইপোকা। গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় এক কৃষকের দুই লাখ টাকা খেয়ে ফেলেছে ইঁদুর আর উইপোকা।

উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের উত্তর ধুমাইটারি গ্রামের কৃষক তোফাজ্জল হোসেন ভাটিয়ার ঘরে ঘটে এই ঘটনা। শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকালে আলমারি খুলে নিঃস্ব হওয়ার এই দৃশ্য দেখে আহাজারি করে ভেঙে পড়েন কৃষক তোফাজ্জল। দহবন্দ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের এই বাসিন্দা দীর্ঘ ১০-১২ বছর ধরে জমি চাষ করে সংসার চালান।

শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের ধুমাইটারি ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ছোবেদ আলী। তিনি জানান, তোফাজ্জল ভাই ছেলে-মেয়ের বিয়ের জন্য আর সংসারের জরুরি কাজের জন্য টাকা জমাচ্ছিলেন। ব্যাংকে না রেখে আলমারিতে নগদ রেখেছিলেন। শুক্রবার আলমারি খুলে দেখেন ভেতরের সব টাকা ইঁদুর ও উইপোকায় কেটে কুটি কুটি করে ফেলেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৃষক তোফাজ্জল হোসেন দীর্ঘদিন থেকে নিজ গ্রামে কৃষি কাজ করে আসছেন। এর আগে ঢাকায় রিকশা চালিয়ে কিছু টাকা জমিয়ে রেখেছিলেন। স্ত্রী ও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এই টাকা তিনি একটি কাঠের আলমারিতে জমা করেছিলেন।

তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘তিন মেয়ে ও সহধর্মিণীর ভবিষ্যৎ চিন্তা করে এই টাকা জমাচ্ছিলাম। টাকাগুলো ছিল জমিন বন্ধকের। কিন্তু কে জানত এরকম ঘটবে। আমার এই অর্থ শুধু টাকা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা ও অনেক দিনের পরিশ্রম। আমার কষ্ট কেউ বুঝবে না, আমার স্বপ্ন উইপোকা কেটে নষ্ট করল। সরকারের কাছে দাবি, এই টাকাগুলোর জন্য আমাকে যেন নতুন টাকা দেওয়া হয়; তা না হলে আমি একদম নিঃস্ব।’

খলিল নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘বাড়িতে নগদ টাকা সংরক্ষণ করলে অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করে রাখতে হবে। কাঠের পুরানো আলমারিতে রাখার কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান সময়ে টাকার অভাব আর টাকার দাম। এভাবে তার টাকা উইপোকায় নষ্ট হওয়ায় আমরাও খুব কষ্ট পেয়েছি। এই কৃষকের টাকাগুলো তার স্বপ্ন ছিল, লুকানো ছিল ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যৎ। উইপোকা সব স্বপ্নই নষ্ট করে দিল। সরকারের কাছে দাবি, এই বৃদ্ধ কৃষকের প্রতি সুদৃষ্টি দেওয়া হোক।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬


আলমারিতে জমানো ২ লাখ টাকা খেলো ইঁদুর-উইপোকা

প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

স্ত্রী-সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নে কষ্ট করে একটু একটু করে জমিয়েছিলেন টাকা। কাঠের আলমারিতে যত্ন করে তুলে রাখা সেই ভবিষ্যৎ শেষ করে দিল ইঁদুর আর উইপোকা। গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় এক কৃষকের দুই লাখ টাকা খেয়ে ফেলেছে ইঁদুর আর উইপোকা।

উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের উত্তর ধুমাইটারি গ্রামের কৃষক তোফাজ্জল হোসেন ভাটিয়ার ঘরে ঘটে এই ঘটনা। শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকালে আলমারি খুলে নিঃস্ব হওয়ার এই দৃশ্য দেখে আহাজারি করে ভেঙে পড়েন কৃষক তোফাজ্জল। দহবন্দ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের এই বাসিন্দা দীর্ঘ ১০-১২ বছর ধরে জমি চাষ করে সংসার চালান।

শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের ধুমাইটারি ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ছোবেদ আলী। তিনি জানান, তোফাজ্জল ভাই ছেলে-মেয়ের বিয়ের জন্য আর সংসারের জরুরি কাজের জন্য টাকা জমাচ্ছিলেন। ব্যাংকে না রেখে আলমারিতে নগদ রেখেছিলেন। শুক্রবার আলমারি খুলে দেখেন ভেতরের সব টাকা ইঁদুর ও উইপোকায় কেটে কুটি কুটি করে ফেলেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৃষক তোফাজ্জল হোসেন দীর্ঘদিন থেকে নিজ গ্রামে কৃষি কাজ করে আসছেন। এর আগে ঢাকায় রিকশা চালিয়ে কিছু টাকা জমিয়ে রেখেছিলেন। স্ত্রী ও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এই টাকা তিনি একটি কাঠের আলমারিতে জমা করেছিলেন।

তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘তিন মেয়ে ও সহধর্মিণীর ভবিষ্যৎ চিন্তা করে এই টাকা জমাচ্ছিলাম। টাকাগুলো ছিল জমিন বন্ধকের। কিন্তু কে জানত এরকম ঘটবে। আমার এই অর্থ শুধু টাকা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা ও অনেক দিনের পরিশ্রম। আমার কষ্ট কেউ বুঝবে না, আমার স্বপ্ন উইপোকা কেটে নষ্ট করল। সরকারের কাছে দাবি, এই টাকাগুলোর জন্য আমাকে যেন নতুন টাকা দেওয়া হয়; তা না হলে আমি একদম নিঃস্ব।’

খলিল নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘বাড়িতে নগদ টাকা সংরক্ষণ করলে অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করে রাখতে হবে। কাঠের পুরানো আলমারিতে রাখার কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান সময়ে টাকার অভাব আর টাকার দাম। এভাবে তার টাকা উইপোকায় নষ্ট হওয়ায় আমরাও খুব কষ্ট পেয়েছি। এই কৃষকের টাকাগুলো তার স্বপ্ন ছিল, লুকানো ছিল ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যৎ। উইপোকা সব স্বপ্নই নষ্ট করে দিল। সরকারের কাছে দাবি, এই বৃদ্ধ কৃষকের প্রতি সুদৃষ্টি দেওয়া হোক।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত