মোবাইল অ্যাপে সামান্য বিনিয়োগেই মিলবে মোটা অঙ্কের সাপ্তাহিক লভ্যাংশ–এমনই লোভনীয় প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। বিশ্বাস করে সঞ্চিত টাকা ঢেলেছিলেন তিন শতাধিক মানুষ। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। প্রায় তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে রাতারাতি উধাও হয়ে গেছে প্রতারক চক্রটি। ময়মনসিংহের নান্দাইলে ঘটেছে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা। মূলধন হারিয়ে এখন দিশেহারা ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
ভুক্তভোগীদের বিবরণ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১ নভেম্বর নান্দাইল পৌরসভার চণ্ডীপাশা এলাকায় সিনেমা হল সংলগ্ন একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে চক্রটি। স্থানীয় কুরাটি গ্রামের ইছমত জাহান তাপসী নামের এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে ‘জেএমজে’ (JMJ) নামের একটি বিদেশি অ্যাপের প্রচারণা চালানো হয়। মূল লক্ষ্য ছিল এলাকার স্মার্টফোন ব্যবহারকারী তরুণ-তরুণী ও সাধারণ মানুষ। প্রতারক চক্রটি গ্রাহকদের বোঝায়, ৩ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলে প্রতি সপ্তাহে ১৫৪ টাকা লাভ পাওয়া যাবে। একইভাবে ২৫ হাজার টাকায় ৪৮০ টাকা এবং ১৪ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে সপ্তাহে মিলবে ৫৮ হাজার টাকা লভ্যাংশ! শুরুর দিকে অ্যাপের মাধ্যমে সহজেই টাকা উত্তোলনের (উইথড্র) সুবিধা দিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করে তারা।গ্রাহকদের বিশ্বাস আরও মজবুত করতে দেড় মাস আগে চণ্ডীপাশা মহল্লায় ‘জেএমজে কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট সেন্টার’ নামে নতুন একটি অফিস চালু করা হয়। সেখানে নিয়মিত সভা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে দ্রুত গ্রাহক সংখ্যা বাড়ানো হয়।
তবে বিপত্তি ঘটে শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর)। অ্যাপের সার্ভারে জটিলতা দেখা দিয়েছে দাবি করে গ্রাহকদের এড়িয়ে চলতে শুরু করেন চক্রের সদস্যরা। সন্দেহ বাড়লে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে গ্রাহকেরা অফিসে গিয়ে দেখেন মূল ফটকে তালা ঝুলছে। জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখা যায়, ভেতরের আসবাবপত্রসহ সব কিছু নিয়ে চম্পট দিয়েছে প্রতারকেরা। খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই এলাকা জুড়ে শুরু হয় কান্না ও হাহাকার।
মনির মিয়া, জুবায়ের হোসেন ও সুরাইয়া ইয়াসমিন নামের কয়েকজন ভুক্তভোগী আক্ষেপ করে বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানের সদস্য হতে কোনো জাতীয় পরিচয়পত্র বা ছবির প্রয়োজন হতো না। শুধু স্মার্টফোন আর নগদ টাকা দিলেই চলত। বেশি লাভের আশায় আমরা সব পুঁজি ঢেলেছিলাম। এখন অফিস তালাবদ্ধ, অ্যাপও বন্ধ।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রধান অভিযুক্ত ইছমত জাহান তাপসীর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘একটি প্রতারক চক্র মানুষের বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মোবাইল অ্যাপে সামান্য বিনিয়োগেই মিলবে মোটা অঙ্কের সাপ্তাহিক লভ্যাংশ–এমনই লোভনীয় প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। বিশ্বাস করে সঞ্চিত টাকা ঢেলেছিলেন তিন শতাধিক মানুষ। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। প্রায় তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে রাতারাতি উধাও হয়ে গেছে প্রতারক চক্রটি। ময়মনসিংহের নান্দাইলে ঘটেছে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা। মূলধন হারিয়ে এখন দিশেহারা ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
ভুক্তভোগীদের বিবরণ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১ নভেম্বর নান্দাইল পৌরসভার চণ্ডীপাশা এলাকায় সিনেমা হল সংলগ্ন একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে চক্রটি। স্থানীয় কুরাটি গ্রামের ইছমত জাহান তাপসী নামের এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে ‘জেএমজে’ (JMJ) নামের একটি বিদেশি অ্যাপের প্রচারণা চালানো হয়। মূল লক্ষ্য ছিল এলাকার স্মার্টফোন ব্যবহারকারী তরুণ-তরুণী ও সাধারণ মানুষ। প্রতারক চক্রটি গ্রাহকদের বোঝায়, ৩ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলে প্রতি সপ্তাহে ১৫৪ টাকা লাভ পাওয়া যাবে। একইভাবে ২৫ হাজার টাকায় ৪৮০ টাকা এবং ১৪ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে সপ্তাহে মিলবে ৫৮ হাজার টাকা লভ্যাংশ! শুরুর দিকে অ্যাপের মাধ্যমে সহজেই টাকা উত্তোলনের (উইথড্র) সুবিধা দিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করে তারা।গ্রাহকদের বিশ্বাস আরও মজবুত করতে দেড় মাস আগে চণ্ডীপাশা মহল্লায় ‘জেএমজে কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট সেন্টার’ নামে নতুন একটি অফিস চালু করা হয়। সেখানে নিয়মিত সভা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে দ্রুত গ্রাহক সংখ্যা বাড়ানো হয়।
তবে বিপত্তি ঘটে শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর)। অ্যাপের সার্ভারে জটিলতা দেখা দিয়েছে দাবি করে গ্রাহকদের এড়িয়ে চলতে শুরু করেন চক্রের সদস্যরা। সন্দেহ বাড়লে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে গ্রাহকেরা অফিসে গিয়ে দেখেন মূল ফটকে তালা ঝুলছে। জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখা যায়, ভেতরের আসবাবপত্রসহ সব কিছু নিয়ে চম্পট দিয়েছে প্রতারকেরা। খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই এলাকা জুড়ে শুরু হয় কান্না ও হাহাকার।
মনির মিয়া, জুবায়ের হোসেন ও সুরাইয়া ইয়াসমিন নামের কয়েকজন ভুক্তভোগী আক্ষেপ করে বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানের সদস্য হতে কোনো জাতীয় পরিচয়পত্র বা ছবির প্রয়োজন হতো না। শুধু স্মার্টফোন আর নগদ টাকা দিলেই চলত। বেশি লাভের আশায় আমরা সব পুঁজি ঢেলেছিলাম। এখন অফিস তালাবদ্ধ, অ্যাপও বন্ধ।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রধান অভিযুক্ত ইছমত জাহান তাপসীর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘একটি প্রতারক চক্র মানুষের বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন