শিক্ষকসংকটে নাজুক হয়ে পড়েছে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান কার্যক্রম। ১৮২টি বিদ্যালয়ে প্রধান ও সহকারী শিক্ষকের ১৬২টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের ৫৫টি এবং সহকারী শিক্ষকের ১০৭টি পদ শূন্য। ফলে অনেক বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষককে একাধিক শ্রেণির পাঠদান সামলাতে হচ্ছে। কোথাও আবার শিক্ষকসংকটের কারণে দুই শিফটে ক্লাস নিতে হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৮২টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত ১৮২টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১২৭ জন। তাঁদের মধ্যে ৯৯ জন পূর্ণ দায়িত্বে এবং ২৮ জন চলতি দায়িত্বে আছেন। সহকারী শিক্ষকের ৮৪১টি পদের বিপরীতে কর্মরত ৭৩৪ জন। সব মিলিয়ে ১ হাজার ২৩টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৮৬১ জন।
শিক্ষকসংকটের সবচেয়ে প্রকট চিত্র গজনাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। আটটি পদের বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র দুজন। বিদ্যালয়টির ১৩২ শিক্ষার্থী ও সাতটি শ্রেণির পাঠদান তাদেরই সামলাতে হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক ডলি রানী দেব বলেন, মাত্র দুজন শিক্ষক দিয়ে সব শ্রেণির পাঠদান পরিচালনা করতে গিয়ে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বৈঠাখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নয়টি পদের বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন চারজন। ২৫০ শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে দুই শিফটে। রাধাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আটটি পদের বিপরীতে শিক্ষক চারজন। সেখানেও ৩০৯ শিক্ষার্থীর পাঠদান দুই শিফটে চলছে। গাবদেব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৩৯ শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক রয়েছেন তিনজন।
এ ছাড়া দীঘলবাক এসএস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চারটি, নতুন কসবা এসআই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চারটি, ভরারী ও বনগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চারটি করে এবং দিঘীরপাড় বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুটি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে।
অভিভাবক ও সচেতন মহলের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন শিক্ষকসংকট চলতে থাকলে প্রাথমিক শিক্ষার মান ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে গ্রামীণ বিদ্যালয়গুলোতে দ্রুত শূন্য পদ পূরণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক পদায়নের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
নবীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রিপন চন্দ্র সরকার সংবাদকে বলেন, শিক্ষকসংকটের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে। শূন্য পদের তথ্য নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে। নতুন নিয়োগ সম্পন্ন হলে সংকট কেটে যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিক্ষকসংকটে নাজুক হয়ে পড়েছে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান কার্যক্রম। ১৮২টি বিদ্যালয়ে প্রধান ও সহকারী শিক্ষকের ১৬২টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের ৫৫টি এবং সহকারী শিক্ষকের ১০৭টি পদ শূন্য। ফলে অনেক বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষককে একাধিক শ্রেণির পাঠদান সামলাতে হচ্ছে। কোথাও আবার শিক্ষকসংকটের কারণে দুই শিফটে ক্লাস নিতে হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৮২টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত ১৮২টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১২৭ জন। তাঁদের মধ্যে ৯৯ জন পূর্ণ দায়িত্বে এবং ২৮ জন চলতি দায়িত্বে আছেন। সহকারী শিক্ষকের ৮৪১টি পদের বিপরীতে কর্মরত ৭৩৪ জন। সব মিলিয়ে ১ হাজার ২৩টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৮৬১ জন।
শিক্ষকসংকটের সবচেয়ে প্রকট চিত্র গজনাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। আটটি পদের বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র দুজন। বিদ্যালয়টির ১৩২ শিক্ষার্থী ও সাতটি শ্রেণির পাঠদান তাদেরই সামলাতে হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক ডলি রানী দেব বলেন, মাত্র দুজন শিক্ষক দিয়ে সব শ্রেণির পাঠদান পরিচালনা করতে গিয়ে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বৈঠাখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নয়টি পদের বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন চারজন। ২৫০ শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে দুই শিফটে। রাধাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আটটি পদের বিপরীতে শিক্ষক চারজন। সেখানেও ৩০৯ শিক্ষার্থীর পাঠদান দুই শিফটে চলছে। গাবদেব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৩৯ শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক রয়েছেন তিনজন।
এ ছাড়া দীঘলবাক এসএস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চারটি, নতুন কসবা এসআই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চারটি, ভরারী ও বনগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চারটি করে এবং দিঘীরপাড় বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুটি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে।
অভিভাবক ও সচেতন মহলের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন শিক্ষকসংকট চলতে থাকলে প্রাথমিক শিক্ষার মান ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে গ্রামীণ বিদ্যালয়গুলোতে দ্রুত শূন্য পদ পূরণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক পদায়নের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
নবীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রিপন চন্দ্র সরকার সংবাদকে বলেন, শিক্ষকসংকটের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে। শূন্য পদের তথ্য নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে। নতুন নিয়োগ সম্পন্ন হলে সংকট কেটে যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন