সংবাদ

সীমান্ত পাহারার পাশাপাশি উদ্যোক্তা গড়ছে বিজিবি


প্রতিনিধি, সাপাহার (নওগাঁ)
প্রতিনিধি, সাপাহার (নওগাঁ)
প্রকাশ: ৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৫ পিএম

সীমান্ত পাহারার পাশাপাশি উদ্যোক্তা গড়ছে বিজিবি
ছবি : সংবাদ

সীমান্ত পাহারার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার তরুণদের দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক অনগ্রসরতার সুযোগ নিয়ে তরুণরা যেন সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে, সেই লক্ষ্যে নওগাঁর সাপাহারে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।

রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ১০টায় ১৬ বিজিবির ব্যবস্থাপনায় সাপাহার উপজেলার আইহাই ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে ‘সীমান্ত টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। একই সঙ্গে কেন্দ্রটির প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফিতা কেটে কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম।

প্রথম ব্যাচে সীমান্তসংলগ্ন বিভিন্ন গ্রামের ৩০ জন সম্ভাবনাময় তরুণকে বাছাই করে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। মাসব্যাপী এ প্রশিক্ষণে আধুনিক মোবাইল সার্ভিসিং, ডিভাইস অপারেটিং ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারিক শিক্ষা দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যবসা পরিচালনা ও আত্মকর্মসংস্থান সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সীমান্ত এলাকার বেকারত্ব অনেক সময় স্থানীয় যুবসমাজকে চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দিকে ঠেলে দেয়। তাই নিরাপত্তার পাশাপাশি তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে অপরাধ কমার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, ‘সীমান্তে স্থায়ী শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে যুবসমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করা জরুরি। বেকারত্ব দূর করে তরুণদের কারিগরি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ করে দিতে পারলে তারা অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, বিজিবির এ উদ্যোগ শুধু অপরাধ কমাতেই নয়, বরং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। প্রশিক্ষণ শেষে তরুণরা স্বাবলম্বী হয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাপাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমানা রিয়াজ, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, আইহাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউজ্জামান টিটু এবং ১৬ বিজিবির সহকারী পরিচালক মিলটন আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। অতিথিরা বিজিবির এই কর্মমুখী উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, এ ধরনের কর্মসূচি সীমান্ত এলাকায় একটি স্বাবলম্বী ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা রাখবে। 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬


সীমান্ত পাহারার পাশাপাশি উদ্যোক্তা গড়ছে বিজিবি

প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সীমান্ত পাহারার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার তরুণদের দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক অনগ্রসরতার সুযোগ নিয়ে তরুণরা যেন সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে, সেই লক্ষ্যে নওগাঁর সাপাহারে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।

রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ১০টায় ১৬ বিজিবির ব্যবস্থাপনায় সাপাহার উপজেলার আইহাই ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে ‘সীমান্ত টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। একই সঙ্গে কেন্দ্রটির প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফিতা কেটে কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম।

প্রথম ব্যাচে সীমান্তসংলগ্ন বিভিন্ন গ্রামের ৩০ জন সম্ভাবনাময় তরুণকে বাছাই করে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। মাসব্যাপী এ প্রশিক্ষণে আধুনিক মোবাইল সার্ভিসিং, ডিভাইস অপারেটিং ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারিক শিক্ষা দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যবসা পরিচালনা ও আত্মকর্মসংস্থান সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সীমান্ত এলাকার বেকারত্ব অনেক সময় স্থানীয় যুবসমাজকে চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দিকে ঠেলে দেয়। তাই নিরাপত্তার পাশাপাশি তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে অপরাধ কমার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, ‘সীমান্তে স্থায়ী শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে যুবসমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করা জরুরি। বেকারত্ব দূর করে তরুণদের কারিগরি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ করে দিতে পারলে তারা অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, বিজিবির এ উদ্যোগ শুধু অপরাধ কমাতেই নয়, বরং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। প্রশিক্ষণ শেষে তরুণরা স্বাবলম্বী হয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাপাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমানা রিয়াজ, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, আইহাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউজ্জামান টিটু এবং ১৬ বিজিবির সহকারী পরিচালক মিলটন আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। অতিথিরা বিজিবির এই কর্মমুখী উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, এ ধরনের কর্মসূচি সীমান্ত এলাকায় একটি স্বাবলম্বী ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা রাখবে। 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত