সংবাদ

নিবেদিত কবিতা

আজও কি রাত নেমেছে


মাহফুজ আল-হোসেন
মাহফুজ আল-হোসেন
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০১:২১ এএম

আজও কি রাত নেমেছে
কবি পাবলো নেরুদা

(কবি পাবলো নেরুদাকে নিবেদিত)

আজও সম্ভবত এখানে রাত নেমেছে— যদিও এই রাত কারো অনুপস্থিতির দুষ্পাঠ্য হায়ারোগ্লিফিক্সে লেখা।

অনতিদূরের বাঁশঝাড়ে হাওয়া যেন অন্য কারো নাম ধরে ডাকে, অথচ আমি শুনি তোমারই দেয়া আমারই এক সংগোপিত নাম; আর তার প্রতিধ্বনি আমার বুকের গহীনে রায়টার লোকাল ট্রেনের মতো পুনর্বার ফিরে ফিরে আসে...

রাতের আকাশে চেয়ে দেখি চাঁদ নেই— রয়েছে অগুনতি তারা। গড়চাপড়ার পুকুরঘাটে কাজল ধোয়া জলের উপরে ওদের টলমলে নাক্ষত্রিক সংসার। ভাবি, এতোটা আলো নিয়ে ওরাই-বা কীভাবে বিনিদ্র থাকে সুদূর অতীতের অর্বুদ আলোকবর্ষ থেকে আজ অবধি, অথচ অর্বাচীন প্রেমিকের মনভাঙা হৃদয় নিমেষেই হারিয়ে যায় নিরালোক কৃষ্ণগহ্বরে।

এমনই এক পুকুরপাড়েই তো একদিন তোমার হাত ধরেছিলাম, যেমন কৃষক আষাঢ়ের প্রথম মেঘ দেখে পরম নির্ভরতার দীর্ঘশ্বাস ফেলে। আজ কি সেই দাতব্য মেঘ কল্যাণকামী হয়ে অন্য কোনো জনপদের মাঠে বৃষ্টিধারা হয়ে ঝরে পড়ছে।

অশ্রুভেজা বাতাসে থেকে থেকে কদমের উন্মাতাল সৌগন্ধ ভেসে আসছে। সেও কি একইভাবে ভালোবাসার সমিল কবিতাগুলো পুরোনো নোটবুকে লিখে রেখেছে।

জানি মুখচেনা পার্বণে প্রগলভ পঙ্ক্তিগুলোও অনভ্যস্ততার দোহাই দিয়ে ক্রমশ এক দুই তিন করে মাত্রা হারিয়ে যুক্ত হয় অতি পর্বে।

আর তখনই রাত আরও গভীর হয় অগভীর মাথাভাঙা নদীর মতো। দূরে মতলবি খেঁকশিয়ালের ডাক, আবার কোথাও একটানা অনুগত ঝিঁঝিঁর কোরাস; আর আমার আধখোলা জানালায় জ্যোৎস্না এসে বসে থাকে এক অবাঞ্ছিত অতিথির মতো।

জানি শরৎবাবুর বড়প্রেমও তো সমুদ্রে সাইক্লোন প্রত্যাশী হয়েও এমনই এক অসহ্য জোৎস্নায় হারিয়ে যায় অব্যক্ত বেদনার খাঁ খাঁ বালুচরে।

আচ্ছা, আজও কি এখানে রাত নেমেছে? 

*** 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬


আজও কি রাত নেমেছে

প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image



(কবি পাবলো নেরুদাকে নিবেদিত)

আজও সম্ভবত এখানে রাত নেমেছে— যদিও এই রাত কারো অনুপস্থিতির দুষ্পাঠ্য হায়ারোগ্লিফিক্সে লেখা।

অনতিদূরের বাঁশঝাড়ে হাওয়া যেন অন্য কারো নাম ধরে ডাকে, অথচ আমি শুনি তোমারই দেয়া আমারই এক সংগোপিত নাম; আর তার প্রতিধ্বনি আমার বুকের গহীনে রায়টার লোকাল ট্রেনের মতো পুনর্বার ফিরে ফিরে আসে...

রাতের আকাশে চেয়ে দেখি চাঁদ নেই— রয়েছে অগুনতি তারা। গড়চাপড়ার পুকুরঘাটে কাজল ধোয়া জলের উপরে ওদের টলমলে নাক্ষত্রিক সংসার। ভাবি, এতোটা আলো নিয়ে ওরাই-বা কীভাবে বিনিদ্র থাকে সুদূর অতীতের অর্বুদ আলোকবর্ষ থেকে আজ অবধি, অথচ অর্বাচীন প্রেমিকের মনভাঙা হৃদয় নিমেষেই হারিয়ে যায় নিরালোক কৃষ্ণগহ্বরে।

এমনই এক পুকুরপাড়েই তো একদিন তোমার হাত ধরেছিলাম, যেমন কৃষক আষাঢ়ের প্রথম মেঘ দেখে পরম নির্ভরতার দীর্ঘশ্বাস ফেলে। আজ কি সেই দাতব্য মেঘ কল্যাণকামী হয়ে অন্য কোনো জনপদের মাঠে বৃষ্টিধারা হয়ে ঝরে পড়ছে।

অশ্রুভেজা বাতাসে থেকে থেকে কদমের উন্মাতাল সৌগন্ধ ভেসে আসছে। সেও কি একইভাবে ভালোবাসার সমিল কবিতাগুলো পুরোনো নোটবুকে লিখে রেখেছে।

জানি মুখচেনা পার্বণে প্রগলভ পঙ্ক্তিগুলোও অনভ্যস্ততার দোহাই দিয়ে ক্রমশ এক দুই তিন করে মাত্রা হারিয়ে যুক্ত হয় অতি পর্বে।

আর তখনই রাত আরও গভীর হয় অগভীর মাথাভাঙা নদীর মতো। দূরে মতলবি খেঁকশিয়ালের ডাক, আবার কোথাও একটানা অনুগত ঝিঁঝিঁর কোরাস; আর আমার আধখোলা জানালায় জ্যোৎস্না এসে বসে থাকে এক অবাঞ্ছিত অতিথির মতো।

জানি শরৎবাবুর বড়প্রেমও তো সমুদ্রে সাইক্লোন প্রত্যাশী হয়েও এমনই এক অসহ্য জোৎস্নায় হারিয়ে যায় অব্যক্ত বেদনার খাঁ খাঁ বালুচরে।

আচ্ছা, আজও কি এখানে রাত নেমেছে? 

*** 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত