রংপুর বিভাগীয় নগরীতে তীব্র আকার ধারণ করেছে যানজট। প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাব আর অবৈধ যানবাহনের দাপটে পুরো ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী।
রংপুর সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, নগরীতে চলাচলের জন্য অনুমোদিত অটো রিকশার সংখ্যা ৮ হাজার। অথচ প্রতিদিন সড়কে চলাচল করছে অন্তত ৭০ থেকে ৮০ হাজার অটো রিকশা। একইভাবে দুই হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার লাইসেন্স থাকলেও সড়ক দখল করে চলছে লাখেরও বেশি। চার লেনের প্রধান সড়ক হলেও দুই পাশে হকারদের দোকানপাট, ফুটপাত দখল ও যত্রতত্র বাইক বা ভ্যান পার্কিং করায় সড়কগুলো সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে ট্রাফিক বিভাগের তীব্র জনবল সংকট। ২০০ বর্গকিলোমিটারের বিশাল এই নগরীতে ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট পদমর্যাদার কর্মকর্তা আছেন মাত্র আটজন। তাদের মধ্যে নিয়মিত ছুটিতে থাকেন দু-একজন। মাত্র পাঁচ থেকে ছয়জন সার্জেন্ট দিয়ে পুরো নগরীর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
দীর্ঘ যানজটে আটকে আছে শত শত গাড়ি।
সরেজমিনে দেখা যায়, মেডিকেল মোড় থেকে ধাপ, সিটি বাজার, জাহাজ কোম্পানির মোড় এবং শাপলা চত্বর হয়ে স্টেশন ও লালবাগ সড়ক পর্যন্ত সড়কগুলোতে প্রতিদিন স্থবিরতা নেমে আসছে। বিশেষ করে সিটি বাজার থেকে জাহাজ কোম্পানির মোড় পর্যন্ত সকাল থেকে রাত ৯-১০টা পর্যন্ত টানা জট লেগে থাকে।
সিটি বাজারে কেনাকাটা করতে আসা চাকরিজীবী রবিউল ইসলাম ও মমতাজ বেগম বলেন, ‘বাজার থেকে বের হয়ে জাহাজ কোম্পানির মোড় পার হতেই ৩০ থেকে ৫০ মিনিট লেগে যায়। সড়কে যেন কোনো শৃঙ্খলা নেই।’ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজনীন ও শাম্মী জানায়, ছুটির পর দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকতে হয়, এমনকি স্কুলে যাওয়ার সময়ও নির্ধারিত সূচি রক্ষা করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
অবসরপ্রাপ্ত নগর পরিকল্পনাবিদ হাসান সোবহান বলেন, ‘যে সড়কের ধারণক্ষমতা ১০ হাজার যানবাহনের, সেখানে চলছে লাখের বেশি যানবাহন। অবৈধ যান বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে যানজট কমানো সম্ভব নয়।’
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার মারুফ আহাম্মেদ জনবল সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, মাত্র আটজন সার্জেন্ট দিয়ে বিশাল এই নগরীর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় লোকবল চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রংপুর বিভাগীয় নগরীতে তীব্র আকার ধারণ করেছে যানজট। প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাব আর অবৈধ যানবাহনের দাপটে পুরো ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী।
রংপুর সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, নগরীতে চলাচলের জন্য অনুমোদিত অটো রিকশার সংখ্যা ৮ হাজার। অথচ প্রতিদিন সড়কে চলাচল করছে অন্তত ৭০ থেকে ৮০ হাজার অটো রিকশা। একইভাবে দুই হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার লাইসেন্স থাকলেও সড়ক দখল করে চলছে লাখেরও বেশি। চার লেনের প্রধান সড়ক হলেও দুই পাশে হকারদের দোকানপাট, ফুটপাত দখল ও যত্রতত্র বাইক বা ভ্যান পার্কিং করায় সড়কগুলো সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে ট্রাফিক বিভাগের তীব্র জনবল সংকট। ২০০ বর্গকিলোমিটারের বিশাল এই নগরীতে ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট পদমর্যাদার কর্মকর্তা আছেন মাত্র আটজন। তাদের মধ্যে নিয়মিত ছুটিতে থাকেন দু-একজন। মাত্র পাঁচ থেকে ছয়জন সার্জেন্ট দিয়ে পুরো নগরীর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
দীর্ঘ যানজটে আটকে আছে শত শত গাড়ি।
সরেজমিনে দেখা যায়, মেডিকেল মোড় থেকে ধাপ, সিটি বাজার, জাহাজ কোম্পানির মোড় এবং শাপলা চত্বর হয়ে স্টেশন ও লালবাগ সড়ক পর্যন্ত সড়কগুলোতে প্রতিদিন স্থবিরতা নেমে আসছে। বিশেষ করে সিটি বাজার থেকে জাহাজ কোম্পানির মোড় পর্যন্ত সকাল থেকে রাত ৯-১০টা পর্যন্ত টানা জট লেগে থাকে।
সিটি বাজারে কেনাকাটা করতে আসা চাকরিজীবী রবিউল ইসলাম ও মমতাজ বেগম বলেন, ‘বাজার থেকে বের হয়ে জাহাজ কোম্পানির মোড় পার হতেই ৩০ থেকে ৫০ মিনিট লেগে যায়। সড়কে যেন কোনো শৃঙ্খলা নেই।’ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজনীন ও শাম্মী জানায়, ছুটির পর দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকতে হয়, এমনকি স্কুলে যাওয়ার সময়ও নির্ধারিত সূচি রক্ষা করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
অবসরপ্রাপ্ত নগর পরিকল্পনাবিদ হাসান সোবহান বলেন, ‘যে সড়কের ধারণক্ষমতা ১০ হাজার যানবাহনের, সেখানে চলছে লাখের বেশি যানবাহন। অবৈধ যান বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে যানজট কমানো সম্ভব নয়।’
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার মারুফ আহাম্মেদ জনবল সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, মাত্র আটজন সার্জেন্ট দিয়ে বিশাল এই নগরীর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় লোকবল চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন