সংবাদ

দুর্গম পাহাড়ে ১০ হাজার মানুষের জন্য সুখবর


সোহেল কান্তি নাথ, বান্দরবান
সোহেল কান্তি নাথ, বান্দরবান
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম

দুর্গম পাহাড়ে ১০ হাজার মানুষের জন্য সুখবর
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে বিশাল পানির ট্যাংক। ছবি : সংবাদ

বান্দরবান সদর উপজেলার কুহালং ও রাজবিলা ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি জনপদে দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের ফলে ডলুপাড়া ও ইসলামপুর এলাকার অন্তত পাঁচ শতাধিক পরিবারের ১০ হাজার মানুষ সরাসরি সুপেয় পানির আওতায় আসছে।

ভৌগোলিক কারণে এই পাহাড়ি জনপদে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা বরাবরই কঠিন। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে ঝিরি ও ছড়ার পানি শুকিয়ে গেলে তীব্র সংকট দেখা দেয়। তখন নারী ও শিশুদের মাইলের পর মাইল পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে নিচ থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। এই ভোগান্তি দূর করতে ডলুপাড়া ও ইসলামপুর গ্রামে স্থাপন করা হচ্ছে দুটি গভীর নলকূপ এবং ৪০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার দুটি বিশাল পানির ট্যাংক (হাউস)।

ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা বাদশা মিয়া বলেন, ‘আমাদের এখানে পাঁচটি গ্রাম আছে। গরমকাল এলে পানির জন্য প্রতিদিন যুদ্ধ করতে হতো। এখন হাউস তৈরি হচ্ছে, আশা করছি পানির কষ্ট আর থাকবে না।’

ডলুপাড়ার বাসিন্দা উচপ্রু মারমা জানান, আগে কুয়া থেকে পানি সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। পাইপলাইনে পানি সরবরাহের উদ্যোগ আসায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এরই মধ্যে গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে এবং ট্যাংক নির্মাণের কাজ প্রায় ৩০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে পাইপলাইনের মাধ্যমে মানুষের ঘরের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে নিরাপদ পানি।

বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে বলেন, ‘শুষ্ক মৌসুমে এই এলাকায় পানির জন্য হাহাকার থাকে। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ১০ হাজার মানুষের সুপেয় পানির ভোগান্তি যেমন লাঘব হবে, তেমনি তাদের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬


দুর্গম পাহাড়ে ১০ হাজার মানুষের জন্য সুখবর

প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বান্দরবান সদর উপজেলার কুহালং ও রাজবিলা ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি জনপদে দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের ফলে ডলুপাড়া ও ইসলামপুর এলাকার অন্তত পাঁচ শতাধিক পরিবারের ১০ হাজার মানুষ সরাসরি সুপেয় পানির আওতায় আসছে।

ভৌগোলিক কারণে এই পাহাড়ি জনপদে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা বরাবরই কঠিন। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে ঝিরি ও ছড়ার পানি শুকিয়ে গেলে তীব্র সংকট দেখা দেয়। তখন নারী ও শিশুদের মাইলের পর মাইল পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে নিচ থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। এই ভোগান্তি দূর করতে ডলুপাড়া ও ইসলামপুর গ্রামে স্থাপন করা হচ্ছে দুটি গভীর নলকূপ এবং ৪০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার দুটি বিশাল পানির ট্যাংক (হাউস)।

ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা বাদশা মিয়া বলেন, ‘আমাদের এখানে পাঁচটি গ্রাম আছে। গরমকাল এলে পানির জন্য প্রতিদিন যুদ্ধ করতে হতো। এখন হাউস তৈরি হচ্ছে, আশা করছি পানির কষ্ট আর থাকবে না।’

ডলুপাড়ার বাসিন্দা উচপ্রু মারমা জানান, আগে কুয়া থেকে পানি সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। পাইপলাইনে পানি সরবরাহের উদ্যোগ আসায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এরই মধ্যে গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে এবং ট্যাংক নির্মাণের কাজ প্রায় ৩০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে পাইপলাইনের মাধ্যমে মানুষের ঘরের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে নিরাপদ পানি।

বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে বলেন, ‘শুষ্ক মৌসুমে এই এলাকায় পানির জন্য হাহাকার থাকে। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ১০ হাজার মানুষের সুপেয় পানির ভোগান্তি যেমন লাঘব হবে, তেমনি তাদের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত