সংবাদ

৩০ রুটের গাজীপুরে ডজনের বেশি মৃত্যুফাঁদ


আতিকুর রহমান আমিন, গাজীপুর
আতিকুর রহমান আমিন, গাজীপুর
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম

৩০ রুটের গাজীপুরে ডজনের বেশি মৃত্যুফাঁদ
গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা। ফ্লাইওভারের উপর থেকে ছবিটি নেওয়া। ছবি: প্রতিনিধি

ঢাকার পার্শ্ববর্তী শিল্প অধ্যুষিত এলাকা গাজীপুর মহানগর। এই মহানগরের মধ্য দিয়ে চলে গেছে দেশের অন্যতম ব্যস্ত মহাসড়ক ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কটি। দেশের উত্তরাঞ্চলসহ ৩০টির বেশি রুটের গাড়ি চলাচল করে এ মহাসড়ক ধরে। কিন্ত দিন দিন সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় এ মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের জীবন অনিরাপদ হয়ে উঠছে। প্রতিদিন সড়কে ঝরছে প্রাণ।

এই মহাসড়কে একের পর এক পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনা। গত সাত মাসে ৯১টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৮০ জনের। আহত হয়েছেন শতাধিক। 

গত ৪ জুন মহানগরীর বাসন সড়ক এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় ঢাকা থেকে ময়মনসিংহগামী একটি বাস বেপরোয়া গতিতে চলাচলের সময় সুজন প্রামাণিক ও প্রদীপ চন্দ্রকে ধাক্কা দিলে তারা ঘটনাস্থলেই মারা যায়। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন আলমগীর ও সাহাবুল নামের দুইজন। এসময় ঢাকা থেকে গাজীপুরগামী একটি বাস তাদের সজোরে ধাক্কা দিলে আলমগীর ঘটনাস্থলে মারা যায় ও সাহাবুল মারাত্মক আহত হয়। 

সর্বশেষ গেল ৮ আগস্ট গাজীপুর বাসসট্যান্ড এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় পিকআপ ভ্যানের আঘাতে মারা যায় তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইয়াসিন । সাত মাস বয়সে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর মায়ের সাথেই ছিল ইয়াসিন। তাকে ঘিরেই সব স্বপ্ন ছিল তার মা শাপলা আক্তারের। গার্মেন্টস কর্মী তার মায়ের অফিসের সামনেই রাস্তা পারাপারের সময় সে চলন্ত বাসের আঘাতে ঘটনস্থলেই প্রাণ হারায়। পরের দিন হাজার হাজার ছাত্র ফ্লাইওভার নির্মাণের দাবিতে সাড়ে তিন ঘণ্টা ওই মহসড়ক অবরোধ করে রাখে।

শুধু ইয়াসিন কিংবা আলমগীরই নয়, সড়ক দুর্ঘটনার বলি হয়ে প্রতিনিয়ত এভাবেই ঝরছে অনেক প্রাণ। পরিবার হারাচ্ছে তাদের প্রিয়জন বা একমাত্র অবলম্বন।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে নয়টি দুর্ঘটনায় মারা যান ৬ জন, আহত হন ২ জন। ফেব্রুয়ারি মাসে ৪টি দুর্ঘটনায় মারা যান ৩ জন, আহত হন ১জন।মার্চ মাসে ১৩টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ১২ জন, আহত হন ৯ জন। এপ্রিল মাসে ১৮টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ২১ জন। মে মাসে ১৮টি দুর্ঘটনায় মারা যান ১৬ জন, আহত হন ৭ জন। জুন মাসে ১৬টি দুর্ঘটনায় মারা যান ১৩ জন, আহত হন ৯ জন। জুলাই মাসে ১৩টি দুর্ঘটনায় মারা যান ৯ জন আহত হন ৩ জন।

মে মাসে দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়ে দাড়ায় ১৮টিতে। জুনে দুর্ঘটনা কিছুটা কমে ১৯টিতে নামলেও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে হয় ২৯। ছয় মাসের মধ্যে জুনেই সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। জুলাইয়ে ১৩টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ৯ জন, আহত ৩ জন। একই স্থানে বারবার দুর্ঘটনার স্থানগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী কলেজ গেইট, চেরাগ আলী, সাইনবোর্ড, বোর্ড বাজার এলাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটছে। এছাড়া দুর্ঘঘটনাপ্রবণ এলাকার মধ্যে রয়েছে, গাছা, কলম্বিয়া, তেলিপাড়া, রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা, পোড়াবাড়ী, নগপাড়া, সালনা এলাকা।

চালকদের বেপরোয়া গতি ও বিপজ্জনক ওভারটেকিং, রাস্তায় পর্যাপ্ত আলো না থাকা এবং ফুটওভার ব্রিজ না থাকায় দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি কিছু জায়গায় বিপজ্জনক বাঁক ও সড়কের কাঠামোগত ত্রুটিও রয়েছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন সংবাদকে বলেন, জানুয়ারি থেকে জল পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের ঘটনা বিশ্লেষণ করলে এটা বলা যায় যে বিশাল বড় ভয়াবহতা। বিআরটি-এর ছয়টি লেন থাকার কারণে সমস্যা হচ্ছে। লক্ষ্য করে দেখবেন রাস্তায় পর্যাপ্ত আলো নেই। যখন হাইস্পিডে গাড়ি আসে তখন ধাঁধায় পড়ে যায়।  হতবিহ্বল হয়ে গেলে দুর্ঘটনায় পড়ে যায়। 

গাজীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভোগরা বাইপাস এলাকা। ছবি: প্রতিনিধি

রাস্তার মধ্যে যদি ফ্যানসিং দেওয়া যায়, তাহলে সহসাই রাস্তার একপাশ থেকে অপর পাশে যেতে পারবে না। পর্যাপ্ত ফুটওভার ব্রিজ নেই। এছাড়া গাড়িচালকদের সচেতন হতে হবে। এজন্য মালিক পরিচালকদের সাথে আলাপ আলোচনা করে কী করা যায়, সেটা আমাদের ভাবতে হবে।

এছাড়া গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের জন্য। সংশ্লিষ্ট সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে আলোচনা করে আমাদের করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। এছাড়া পুলিশের পর্যাপ্ত জনবলের অভাবকেও দায়ী করেছেন তিনি।

এ ব্যাপারে গাজীপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ সংবাদকে বলেন, এখনো মহাসড়কের কোন ডেঞ্জার জুন চিহ্নিত করা নেই। ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে ১০ টা ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের জন্য অলরেডি দরপত্র আহবান করা হয়েছে।ইভালুয়েশন শেষ হয়ে ঠিকাদার নিয়োগ হলে কাজটা কমপ্লিট হবে।

বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে বিআরটিএর কি ব্যবস্থা আছে এমন প্রশ্নের জবাবে বিআরটিএ গাজীপুরের সহকারি পরিচালক এএসএম মাহফুজুর রহমান জানান, আমরা পুলিশের সহযোগিতা, মেট্রোপলিটন প্রশাসনের সহযোগিতায় একসাথে কাজ করছি। বিভিন্ন কোম্পানির মালিক ও মালিক সমিতির নেতাদের ডাকানো হয়েছে। তাদের বলা হয়েছে এবং কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন যাদের রুট পারমিট নেই, ড্রাইভার ভালো নেই, ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই তাদের দিয়ে গাড়ি না চালায়। এছাড়া নিয়মিত মামলা হচ্ছে, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। পুলিশ কমিশনার, জেলা পুলিশসহ মোবাইল কোর্ট এবং ডাম্পিং অব্যাহত আছে। জরিমানা অব্যাহত আছে।

গাজীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ডজনেরও বেশি স্থান দুর্ঘটনাপ্রবণ।

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে কি পদক্ষেপ নেওয়া যায় এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আবু তৈয়ব বলেন, এই মহাসড়কের বড় একটি প্রবলেম হচ্ছে এটা অনেক বড় চওড়া রাস্তা কিন্তু পারাপারের কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। চওড়া রাস্তা হলে মধ্যে রুট ডিভাইডার থাকে যাতে একজন লোক অর্ধেক রাস্তা পার হয়ে একটু দাঁড়াতে পারে। সেই সুযোগটা এখানে নাই।

অধ্যাপক আবু তৈয়ব আরও বলেন, রাস্তা পার হওয়ার জন্য কোনো ওভার পাস নেই। এ কারণে রিকশা নিয়েই মানুষ রাস্তা পারাপার হচ্ছে। মহাসড়কে অটোরিকশা অনেক বেড়ে গেছে এবং এদের স্পিড অনেক। এখানে ট্রাফিক রুলস মানার অভাব রয়েছে। এটাও একটা অন্যতম কারণ। অন্যদিকে লোকজন এত রিস্ক নিয়ে পারাপার করে এ ব্যাপারে লোকজনের সচেতনতা না থাকাও অন্যতম কারণ। এত চওড়া রাস্তা পার হতে গেলে অবশ্যই ফুটওভার ব্রিজ, ওভারব্রিজ ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬


৩০ রুটের গাজীপুরে ডজনের বেশি মৃত্যুফাঁদ

প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ঢাকার পার্শ্ববর্তী শিল্প অধ্যুষিত এলাকা গাজীপুর মহানগর। এই মহানগরের মধ্য দিয়ে চলে গেছে দেশের অন্যতম ব্যস্ত মহাসড়ক ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কটি। দেশের উত্তরাঞ্চলসহ ৩০টির বেশি রুটের গাড়ি চলাচল করে এ মহাসড়ক ধরে। কিন্ত দিন দিন সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় এ মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের জীবন অনিরাপদ হয়ে উঠছে। প্রতিদিন সড়কে ঝরছে প্রাণ।

এই মহাসড়কে একের পর এক পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনা। গত সাত মাসে ৯১টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৮০ জনের। আহত হয়েছেন শতাধিক। 

গত ৪ জুন মহানগরীর বাসন সড়ক এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় ঢাকা থেকে ময়মনসিংহগামী একটি বাস বেপরোয়া গতিতে চলাচলের সময় সুজন প্রামাণিক ও প্রদীপ চন্দ্রকে ধাক্কা দিলে তারা ঘটনাস্থলেই মারা যায়। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন আলমগীর ও সাহাবুল নামের দুইজন। এসময় ঢাকা থেকে গাজীপুরগামী একটি বাস তাদের সজোরে ধাক্কা দিলে আলমগীর ঘটনাস্থলে মারা যায় ও সাহাবুল মারাত্মক আহত হয়। 

সর্বশেষ গেল ৮ আগস্ট গাজীপুর বাসসট্যান্ড এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় পিকআপ ভ্যানের আঘাতে মারা যায় তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইয়াসিন । সাত মাস বয়সে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর মায়ের সাথেই ছিল ইয়াসিন। তাকে ঘিরেই সব স্বপ্ন ছিল তার মা শাপলা আক্তারের। গার্মেন্টস কর্মী তার মায়ের অফিসের সামনেই রাস্তা পারাপারের সময় সে চলন্ত বাসের আঘাতে ঘটনস্থলেই প্রাণ হারায়। পরের দিন হাজার হাজার ছাত্র ফ্লাইওভার নির্মাণের দাবিতে সাড়ে তিন ঘণ্টা ওই মহসড়ক অবরোধ করে রাখে।

শুধু ইয়াসিন কিংবা আলমগীরই নয়, সড়ক দুর্ঘটনার বলি হয়ে প্রতিনিয়ত এভাবেই ঝরছে অনেক প্রাণ। পরিবার হারাচ্ছে তাদের প্রিয়জন বা একমাত্র অবলম্বন।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে নয়টি দুর্ঘটনায় মারা যান ৬ জন, আহত হন ২ জন। ফেব্রুয়ারি মাসে ৪টি দুর্ঘটনায় মারা যান ৩ জন, আহত হন ১জন।মার্চ মাসে ১৩টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ১২ জন, আহত হন ৯ জন। এপ্রিল মাসে ১৮টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ২১ জন। মে মাসে ১৮টি দুর্ঘটনায় মারা যান ১৬ জন, আহত হন ৭ জন। জুন মাসে ১৬টি দুর্ঘটনায় মারা যান ১৩ জন, আহত হন ৯ জন। জুলাই মাসে ১৩টি দুর্ঘটনায় মারা যান ৯ জন আহত হন ৩ জন।

মে মাসে দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়ে দাড়ায় ১৮টিতে। জুনে দুর্ঘটনা কিছুটা কমে ১৯টিতে নামলেও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে হয় ২৯। ছয় মাসের মধ্যে জুনেই সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। জুলাইয়ে ১৩টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ৯ জন, আহত ৩ জন। একই স্থানে বারবার দুর্ঘটনার স্থানগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী কলেজ গেইট, চেরাগ আলী, সাইনবোর্ড, বোর্ড বাজার এলাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটছে। এছাড়া দুর্ঘঘটনাপ্রবণ এলাকার মধ্যে রয়েছে, গাছা, কলম্বিয়া, তেলিপাড়া, রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা, পোড়াবাড়ী, নগপাড়া, সালনা এলাকা।

চালকদের বেপরোয়া গতি ও বিপজ্জনক ওভারটেকিং, রাস্তায় পর্যাপ্ত আলো না থাকা এবং ফুটওভার ব্রিজ না থাকায় দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি কিছু জায়গায় বিপজ্জনক বাঁক ও সড়কের কাঠামোগত ত্রুটিও রয়েছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন সংবাদকে বলেন, জানুয়ারি থেকে জল পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের ঘটনা বিশ্লেষণ করলে এটা বলা যায় যে বিশাল বড় ভয়াবহতা। বিআরটি-এর ছয়টি লেন থাকার কারণে সমস্যা হচ্ছে। লক্ষ্য করে দেখবেন রাস্তায় পর্যাপ্ত আলো নেই। যখন হাইস্পিডে গাড়ি আসে তখন ধাঁধায় পড়ে যায়।  হতবিহ্বল হয়ে গেলে দুর্ঘটনায় পড়ে যায়। 

গাজীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভোগরা বাইপাস এলাকা। ছবি: প্রতিনিধি

রাস্তার মধ্যে যদি ফ্যানসিং দেওয়া যায়, তাহলে সহসাই রাস্তার একপাশ থেকে অপর পাশে যেতে পারবে না। পর্যাপ্ত ফুটওভার ব্রিজ নেই। এছাড়া গাড়িচালকদের সচেতন হতে হবে। এজন্য মালিক পরিচালকদের সাথে আলাপ আলোচনা করে কী করা যায়, সেটা আমাদের ভাবতে হবে।

এছাড়া গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের জন্য। সংশ্লিষ্ট সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে আলোচনা করে আমাদের করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। এছাড়া পুলিশের পর্যাপ্ত জনবলের অভাবকেও দায়ী করেছেন তিনি।

এ ব্যাপারে গাজীপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ সংবাদকে বলেন, এখনো মহাসড়কের কোন ডেঞ্জার জুন চিহ্নিত করা নেই। ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে ১০ টা ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের জন্য অলরেডি দরপত্র আহবান করা হয়েছে।ইভালুয়েশন শেষ হয়ে ঠিকাদার নিয়োগ হলে কাজটা কমপ্লিট হবে।

বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে বিআরটিএর কি ব্যবস্থা আছে এমন প্রশ্নের জবাবে বিআরটিএ গাজীপুরের সহকারি পরিচালক এএসএম মাহফুজুর রহমান জানান, আমরা পুলিশের সহযোগিতা, মেট্রোপলিটন প্রশাসনের সহযোগিতায় একসাথে কাজ করছি। বিভিন্ন কোম্পানির মালিক ও মালিক সমিতির নেতাদের ডাকানো হয়েছে। তাদের বলা হয়েছে এবং কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন যাদের রুট পারমিট নেই, ড্রাইভার ভালো নেই, ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই তাদের দিয়ে গাড়ি না চালায়। এছাড়া নিয়মিত মামলা হচ্ছে, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। পুলিশ কমিশনার, জেলা পুলিশসহ মোবাইল কোর্ট এবং ডাম্পিং অব্যাহত আছে। জরিমানা অব্যাহত আছে।

গাজীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ডজনেরও বেশি স্থান দুর্ঘটনাপ্রবণ।

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে কি পদক্ষেপ নেওয়া যায় এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আবু তৈয়ব বলেন, এই মহাসড়কের বড় একটি প্রবলেম হচ্ছে এটা অনেক বড় চওড়া রাস্তা কিন্তু পারাপারের কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। চওড়া রাস্তা হলে মধ্যে রুট ডিভাইডার থাকে যাতে একজন লোক অর্ধেক রাস্তা পার হয়ে একটু দাঁড়াতে পারে। সেই সুযোগটা এখানে নাই।

অধ্যাপক আবু তৈয়ব আরও বলেন, রাস্তা পার হওয়ার জন্য কোনো ওভার পাস নেই। এ কারণে রিকশা নিয়েই মানুষ রাস্তা পারাপার হচ্ছে। মহাসড়কে অটোরিকশা অনেক বেড়ে গেছে এবং এদের স্পিড অনেক। এখানে ট্রাফিক রুলস মানার অভাব রয়েছে। এটাও একটা অন্যতম কারণ। অন্যদিকে লোকজন এত রিস্ক নিয়ে পারাপার করে এ ব্যাপারে লোকজনের সচেতনতা না থাকাও অন্যতম কারণ। এত চওড়া রাস্তা পার হতে গেলে অবশ্যই ফুটওভার ব্রিজ, ওভারব্রিজ ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত