কূটনীতিতে স্থায়ী শত্রু বা স্থায়ী বন্ধু বলে কিছু নেই। থাকে জাতীয় স্বার্থ, পারস্পরিক প্রয়োজন এবং আলোচনার সুযোগ। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সাম্প্রতিক বাস্তবতায় সোমবারের (১০ আগস্ট) একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ সেই পুরোনো কূটনৈতিক সত্যটিকেই নতুন করে সামনে এনেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর এই বৈঠক নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়- বরং এটি দুই দেশের সম্পর্কের জটিলতাকে স্বীকার করে সংলাপের পথে ফেরার একটি সচেতন কূটনৈতিক পদক্ষেপ।
গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কঠিন সময় অতিক্রম করেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। ভিসা কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা, কূটনৈতিক পর্যায়ে পাল্টাপাল্টি তলব, সীমান্তকেন্দ্রিক বিরোধ এবং রাজনৈতিক বক্তব্যে পারস্পরিক আস্থার জায়গাটি দুর্বল হয়েছে।
কিন্তু বাস্তবতা হলো- ভারত থেকে পণ্য আমদানি অব্যাহত, রেমিট্যান্স প্রবাহ যেমন ছিল, তেমনই রয়েছে। অর্থাৎ রাজনৈতিক দূরত্ব বাড়লেও অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমানো সম্ভব হয়নি।
এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়- মতপার্থক্য থাকলেও সম্পর্কের দরজা বন্ধ নয়। দীনেশ ত্রিবেদীকে ভারতের পক্ষ থেকে ঢাকায় হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানোও তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি পেশাদার কূটনীতিক নন; ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা হিসেবে তার নিয়োগ দুই দেশের সম্পর্ককে রাজনৈতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
বৈঠকে পারস্পরিক আস্থা পুনর্নির্মাণ, ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিককরণ, সীমান্ত সমস্যা সমাধান এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। সীমান্তে পুশইন, সীমান্ত হত্যা ও ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে অস্বস্তি থাকলেও আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের পথ খুঁজতে সম্মত হয়েছে উভয় পক্ষ।
বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট—প্রতিবেশীর সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই, কিন্তু তা হতে হবে সমতা, সম্মান ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে। ভারতেরও বুঝতে হবে, বাংলাদেশকে ‘বিগ ব্রাদার’ মনোভাব দিয়ে নয়, সমমর্যাদার অংশীদার হিসেবে দেখতে হবে। সীমান্ত হত্যা, পানি বণ্টন, বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতা-প্রতিটি বিষয়ে পারস্পরিক সংবেদনশীলতায় সমাধান খুঁজতে হবে।
সামনে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া, তিস্তা চুক্তিসহ জটিল ইস্যু রয়েছে। এসব সমাধানে উত্তেজনা নয়, ধারাবাহিক আলোচনাই হতে হবে প্রধান হাতিয়ার। প্রধানমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক সেই পথচলার সূচনা হতে পারে।
বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতির মূল দর্শন হলো- স্বার্থ রক্ষা করেই পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলা। তিক্ততা ভুলে, আগামীর দিকে তাকিয়ে দুই দেশ যদি সেই দর্শন ধারন করে, তবে সম্পর্কের নতুন ইতিবাচক অধ্যায় লেখা সম্ভব।

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬
কূটনীতিতে স্থায়ী শত্রু বা স্থায়ী বন্ধু বলে কিছু নেই। থাকে জাতীয় স্বার্থ, পারস্পরিক প্রয়োজন এবং আলোচনার সুযোগ। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সাম্প্রতিক বাস্তবতায় সোমবারের (১০ আগস্ট) একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ সেই পুরোনো কূটনৈতিক সত্যটিকেই নতুন করে সামনে এনেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর এই বৈঠক নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়- বরং এটি দুই দেশের সম্পর্কের জটিলতাকে স্বীকার করে সংলাপের পথে ফেরার একটি সচেতন কূটনৈতিক পদক্ষেপ।
গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কঠিন সময় অতিক্রম করেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। ভিসা কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা, কূটনৈতিক পর্যায়ে পাল্টাপাল্টি তলব, সীমান্তকেন্দ্রিক বিরোধ এবং রাজনৈতিক বক্তব্যে পারস্পরিক আস্থার জায়গাটি দুর্বল হয়েছে।
কিন্তু বাস্তবতা হলো- ভারত থেকে পণ্য আমদানি অব্যাহত, রেমিট্যান্স প্রবাহ যেমন ছিল, তেমনই রয়েছে। অর্থাৎ রাজনৈতিক দূরত্ব বাড়লেও অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমানো সম্ভব হয়নি।
এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়- মতপার্থক্য থাকলেও সম্পর্কের দরজা বন্ধ নয়। দীনেশ ত্রিবেদীকে ভারতের পক্ষ থেকে ঢাকায় হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানোও তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি পেশাদার কূটনীতিক নন; ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা হিসেবে তার নিয়োগ দুই দেশের সম্পর্ককে রাজনৈতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
বৈঠকে পারস্পরিক আস্থা পুনর্নির্মাণ, ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিককরণ, সীমান্ত সমস্যা সমাধান এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। সীমান্তে পুশইন, সীমান্ত হত্যা ও ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে অস্বস্তি থাকলেও আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের পথ খুঁজতে সম্মত হয়েছে উভয় পক্ষ।
বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট—প্রতিবেশীর সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই, কিন্তু তা হতে হবে সমতা, সম্মান ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে। ভারতেরও বুঝতে হবে, বাংলাদেশকে ‘বিগ ব্রাদার’ মনোভাব দিয়ে নয়, সমমর্যাদার অংশীদার হিসেবে দেখতে হবে। সীমান্ত হত্যা, পানি বণ্টন, বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতা-প্রতিটি বিষয়ে পারস্পরিক সংবেদনশীলতায় সমাধান খুঁজতে হবে।
সামনে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া, তিস্তা চুক্তিসহ জটিল ইস্যু রয়েছে। এসব সমাধানে উত্তেজনা নয়, ধারাবাহিক আলোচনাই হতে হবে প্রধান হাতিয়ার। প্রধানমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক সেই পথচলার সূচনা হতে পারে।
বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতির মূল দর্শন হলো- স্বার্থ রক্ষা করেই পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলা। তিক্ততা ভুলে, আগামীর দিকে তাকিয়ে দুই দেশ যদি সেই দর্শন ধারন করে, তবে সম্পর্কের নতুন ইতিবাচক অধ্যায় লেখা সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন