বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ১৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা মো. সেলিম খানকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত ১১ আগস্ট তাকে অতিরিক্ত সচিব থেকে পদোন্নতি দিয়ে সচিব পদে এই পদায়ন করা হয়। তবে এই নিয়োগের পর থেকেই তার দীর্ঘ সময়ের প্রশাসনিক বঞ্চনা ও ছাত্রজীবনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নব্বইয়ের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলের আবাসিক ছাত্র থাকাকালে সেলিম খান জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তৎকালীন ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি প্রশাসনের অভ্যন্তরেও পরিচিত ছিল।
প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দাবি, ছাত্রজীবনের এই রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বিগত সরকারের দীর্ঘ সময়ে সেলিম খান পেশাগত জীবনে চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও তিনি দীর্ঘ সময় কাঙ্ক্ষিত পদায়ন ও নিয়মিত পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত ছিলেন। চাকরিজীবনের একটি বড় অংশ তাকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) হিসেবে কাটাতে হয়েছে।
কর্মজীবনে সেলিম খান বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি ঠাকুরগাঁও পৌরসভায় প্রায় আট বছর এবং গাজীপুর পৌরসভা ট্রাস্টে প্রায় ছয় বছর দায়িত্ব পালন করেন। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বলছেন, মেধা ও জ্যেষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় তাকে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছিল।
সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনে যে রদবদল ও সংস্কার চলছে, তারই ধারাবাহিকতায় এই কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হলো। তার এই নিয়োগকে প্রশাসনের একটি বড় অংশের কর্মকর্তারা ‘বঞ্চনা অবসানের দৃষ্টান্ত’ হিসেবে দেখছেন।
আপনার মতামত লিখুন