সিলেটে আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় বাবুল নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ বলছে, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বাড়ির তরুণী গৃহকর্মীকে কেন্দ্র করে সম্পর্ক ও অনৈতিক সম্পর্কের চেষ্টাকে ঘিরে বিরোধের সূত্রপাত। সেই বিরোধের জেরেই একে একে তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহতদের মধ্যে আব্দুস সাত্তার স্থানীয় আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলে জানা গেছে। তার সঙ্গে তার স্ত্রী সুরাইয়া এবং গৃহকর্মীকেও এই ঘটনায় নিহত হয়েছেন।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত: প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাবুল প্রথমে গৃহকর্মীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন। বিষয়টি নিয়ে বিরোধ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ওই তরুণী গৃহকর্মীকে হত্যা করা হয় বলে জানা গেছে।
তরুণীর চিৎকার শুনে আব্দুস সাত্তার ঘটনাটি টের পেয়ে এগিয়ে আসেন। তখন বাবুল তাকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।
এরপর ঘটনাস্থলে থাকা আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী সুরাইয়াকেও হত্যা করা হয়। অল্প সময়ের ব্যবধানে একই ঘটনায় তিনজনের প্রাণহানিতে এলাকায় নেমে আসে শোক ও আতঙ্ক।
নিহত আব্দুস সাত্তার স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তার এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। একই ঘটনায় তার স্ত্রী ও বাড়ির কাজের মেয়ের মৃত্যুর বিষয়টি ঘটনাটিকে আরও মর্মান্তিক করে তুলেছে।
ধারালো অস্ত্র হাতে হেঁটে চলে যাওয়া: হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে একজন ব্যক্তির হেঁটে চলে যাওয়ার ভিডিও সামনে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি হাতে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করছেন বলে মনে হচ্ছে। এই ভিডিও হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
আটক বাবুল পেশায় রাজমিস্ত্রি।এর আগে কসাইয়ের কাজও করতেন বলে জানা গেছে। ফলে ধারালো অস্ত্র ব্যবহারে তার অভিজ্ঞতা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
অনৈতিক সম্পর্ক নাকি অন্য কিছু: কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মাইনুল জাকির জানান, প্রাথমিক তদন্তে গৃহকর্মীর সঙ্গে বাবুলের প্রেমের সম্পর্ক ও অনৈতিক সম্পর্কের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে বিরোধের কথা সামনে এসেছে। তবে ঠিক কী কারণে প্রথমে কাজের মেয়েকে হত্যা করা হলো, আব্দুস সাত্তার কীভাবে ঘটনাস্থলে জড়িয়ে পড়লেন এবং তার স্ত্রী সুরাইয়াকে কেন হত্যা করা হলো- এসব প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ উত্তর এখনো তদন্তাধীন।
এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত ছিল কি না এবং আটক বাবুলের সঙ্গে নিহতদের পূর্ব কোনো বিরোধ ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
।
আসামি বাবুল। ইনসেটে স্বামী-স্ত্রী
একই ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া ও গৃহকর্মীর মৃত্যুতে সিলেটে যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে, আসামি আটকের পর তদন্তে এসেছে নতুন মোড়। এখন অপেক্ষা- এই নির্মম ট্রিপল মার্ডারের নেপথ্যে আসলে কী ঘটেছিল, তার পূর্ণাঙ্গ সত্য উদঘাটনের।

বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬
সিলেটে আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় বাবুল নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ বলছে, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বাড়ির তরুণী গৃহকর্মীকে কেন্দ্র করে সম্পর্ক ও অনৈতিক সম্পর্কের চেষ্টাকে ঘিরে বিরোধের সূত্রপাত। সেই বিরোধের জেরেই একে একে তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহতদের মধ্যে আব্দুস সাত্তার স্থানীয় আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলে জানা গেছে। তার সঙ্গে তার স্ত্রী সুরাইয়া এবং গৃহকর্মীকেও এই ঘটনায় নিহত হয়েছেন।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত: প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাবুল প্রথমে গৃহকর্মীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন। বিষয়টি নিয়ে বিরোধ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ওই তরুণী গৃহকর্মীকে হত্যা করা হয় বলে জানা গেছে।
তরুণীর চিৎকার শুনে আব্দুস সাত্তার ঘটনাটি টের পেয়ে এগিয়ে আসেন। তখন বাবুল তাকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।
এরপর ঘটনাস্থলে থাকা আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী সুরাইয়াকেও হত্যা করা হয়। অল্প সময়ের ব্যবধানে একই ঘটনায় তিনজনের প্রাণহানিতে এলাকায় নেমে আসে শোক ও আতঙ্ক।
নিহত আব্দুস সাত্তার স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তার এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। একই ঘটনায় তার স্ত্রী ও বাড়ির কাজের মেয়ের মৃত্যুর বিষয়টি ঘটনাটিকে আরও মর্মান্তিক করে তুলেছে।
ধারালো অস্ত্র হাতে হেঁটে চলে যাওয়া: হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে একজন ব্যক্তির হেঁটে চলে যাওয়ার ভিডিও সামনে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি হাতে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করছেন বলে মনে হচ্ছে। এই ভিডিও হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
আটক বাবুল পেশায় রাজমিস্ত্রি।এর আগে কসাইয়ের কাজও করতেন বলে জানা গেছে। ফলে ধারালো অস্ত্র ব্যবহারে তার অভিজ্ঞতা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
অনৈতিক সম্পর্ক নাকি অন্য কিছু: কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মাইনুল জাকির জানান, প্রাথমিক তদন্তে গৃহকর্মীর সঙ্গে বাবুলের প্রেমের সম্পর্ক ও অনৈতিক সম্পর্কের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে বিরোধের কথা সামনে এসেছে। তবে ঠিক কী কারণে প্রথমে কাজের মেয়েকে হত্যা করা হলো, আব্দুস সাত্তার কীভাবে ঘটনাস্থলে জড়িয়ে পড়লেন এবং তার স্ত্রী সুরাইয়াকে কেন হত্যা করা হলো- এসব প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ উত্তর এখনো তদন্তাধীন।
এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত ছিল কি না এবং আটক বাবুলের সঙ্গে নিহতদের পূর্ব কোনো বিরোধ ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
।
আসামি বাবুল। ইনসেটে স্বামী-স্ত্রী
একই ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া ও গৃহকর্মীর মৃত্যুতে সিলেটে যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে, আসামি আটকের পর তদন্তে এসেছে নতুন মোড়। এখন অপেক্ষা- এই নির্মম ট্রিপল মার্ডারের নেপথ্যে আসলে কী ঘটেছিল, তার পূর্ণাঙ্গ সত্য উদঘাটনের।

আপনার মতামত লিখুন