কক্সবাজারে ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়া এক রোহিঙ্গার পরিচয় জালিয়াতির শিকার হয়ে দীর্ঘ কারাভোগের পর মুক্তি পেয়েছেন নিরপরাধ সোনা মিয়া। মামলার প্রকৃত আসামি রোহিঙ্গা নাগরিক মোহাম্মদ রমজান নিজের পরিচয় গোপন করে সোনা মিয়ার নাম ব্যবহার করায় এই বিপত্তি ঘটে। আদালতের চার শর্তে জামিন পাওয়ার পর শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা নাগরিক মোহাম্মদ রমজান গ্রেপ্তার হন। ওই সময় নিজের পরিচয় গোপন করে তিনি সোনা মিয়ার জন্মনিবন্ধন সনদ ব্যবহার করেন। পুলিশ ও আদালত সেই ভুল পরিচয়েই মামলা ও অভিযোগপত্র গ্রহণ করে। অথচ প্রকৃত সোনা মিয়া এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত ছিলেন না।
বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত সোনা মিয়ার (ছদ্মনামধারী রমজান) বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। পলাতক আসামি হিসেবে গত ২৪ জুন নিরপরাধ সোনা মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কারাগারে যাওয়ার পর সোনা মিয়া নিজেকে নির্দোষ দাবি করলে বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। পরে আদালতের নির্দেশে পুলিশ নতুন করে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে বেরিয়ে আসে, ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তি মূলত রোহিঙ্গা নাগরিক মোহাম্মদ রমজান। তিনি পরিকল্পিতভাবে সোনা মিয়ার তথ্য ব্যবহার করেছিলেন। পরবর্তীতে সোনা মিয়ার আঙুলের ছাপ ও ছবির সঙ্গে মামলার নথিতে থাকা ছবির মিল না পাওয়ায় ভুল আসামি শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। গত ৫ জুলাই কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, ২০২২ সালের ১৩ জুন সোনা মিয়া পরিচয় দিয়ে মোহাম্মদ রমজান জামিন নিয়ে আত্মগোপন করেন। এরপর তিনি আর আদালতে হাজির হননি।
কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুল মান্নান এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মামলার তদন্ত থেকে অভিযোগপত্র দাখিল পর্যন্ত তদন্ত কর্মকর্তার চরম গাফিলতি ছিল। যার কারণে একজন নিরপরাধ মানুষকে মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে জেল খাটতে হলো।
আপনার মতামত লিখুন