সংবাদ

পুরস্কারজয়ী কণ্ঠ এখন ঝুপড়ি ঘরে: ভালো নেই আব্দুল হেলিম বয়াতি


প্রতিনিধি, কেন্দুয়া (নেত্রকোনা)
প্রতিনিধি, কেন্দুয়া (নেত্রকোনা)
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম

পুরস্কারজয়ী কণ্ঠ এখন ঝুপড়ি ঘরে: ভালো নেই আব্দুল হেলিম বয়াতি
জারিগানের শিল্পী আব্দুল হেলিম বয়াতি।

একসময় তার দরাজ কণ্ঠের জারিগানে মুখরিত হতো হাজারো মানুষের আসর। বিষাদ-সিন্ধুর করুণ সুর আর মরমী গানে রাতভর মুগ্ধ হয়ে থাকতেন শ্রোতারা। গুণী এই শিল্পী তার কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন জেলা শিল্পকলা পদকসহ অসংখ্য সম্মাননা। তবে দীর্ঘ এক যুগের অসুস্থতা আর দারিদ্র্য আজ তাকে ঠেলে দিয়েছে এক অন্ধকার কোণে। নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার প্রবীণ সেই জারিগানের শিল্পী আব্দুল হেলিম বয়াতি এখন এক ভাঙাচোরা ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।

উপজেলার কান্দিউড়া ইউনিয়নের দীঘলকুর্শা (রাজিবপুর) গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হেলিম বয়াতি। তিনি কেবল একজন প্রথিতযশা শিল্পীই নন, বরং জারিগানের একজন গুরুত্বপূর্ণ পালাকারও। প্রায় ১২ বছর ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে শয্যাশায়ী। অসুস্থ শরীর নিয়ে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি কেবল লোকসংস্কৃতির এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার আকুতি জানাচ্ছেন।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে নিজ বাড়িতে আলাপকালে এই প্রবীণ শিল্পী স্মৃতিচারণা করেন তার সোনালি দিনগুলোর। তিনি বলেন, একসময় গ্রামবাংলায় জারিগানের লড়াই ছিল বিনোদনের প্রধান অনুষঙ্গ। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ সেই আসর শুনতে আসত। এখন আধুনিক বিনোদনের জোয়ারে হারিয়ে যাচ্ছে সেই জারিগান ও পুঁথিপাঠ।

ক্ষোভ ও আক্ষেপের সুরে এই শিল্পী বলেন, নতুন প্রজন্ম এই অমূল্য ঐতিহ্যের কথা জানেই না। নিয়মিত সাংস্কৃতিক আয়োজন না থাকায় লোকসংস্কৃতির এই ধারাগুলো বিলুপ্তির পথে। তার দাবি, প্রবীণ শিল্পীদের সংগৃহীত পালা ও গানগুলো যেন সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সম্মাননা ও পুরস্কারে আলমারি সাজানো থাকলেও বাস্তব জীবনে কোনো সচ্ছলতা আসেনি এই শিল্পীর। ঝুপড়ি ঘরের এক কোণে পড়ে থাকা আব্দুল হেলিম বয়াতির বর্তমান অবস্থা আমাদের লোকসংস্কৃতির প্রতি সমাজের অবহেলার এক করুণ চিত্র ফুটিয়ে তোলে। তার প্রত্যাশা, শেষ বয়সে অন্তত হারানো লোকগানের ঐতিহ্য সংরক্ষণে যেন যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬


পুরস্কারজয়ী কণ্ঠ এখন ঝুপড়ি ঘরে: ভালো নেই আব্দুল হেলিম বয়াতি

প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

একসময় তার দরাজ কণ্ঠের জারিগানে মুখরিত হতো হাজারো মানুষের আসর। বিষাদ-সিন্ধুর করুণ সুর আর মরমী গানে রাতভর মুগ্ধ হয়ে থাকতেন শ্রোতারা। গুণী এই শিল্পী তার কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন জেলা শিল্পকলা পদকসহ অসংখ্য সম্মাননা। তবে দীর্ঘ এক যুগের অসুস্থতা আর দারিদ্র্য আজ তাকে ঠেলে দিয়েছে এক অন্ধকার কোণে। নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার প্রবীণ সেই জারিগানের শিল্পী আব্দুল হেলিম বয়াতি এখন এক ভাঙাচোরা ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।

উপজেলার কান্দিউড়া ইউনিয়নের দীঘলকুর্শা (রাজিবপুর) গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হেলিম বয়াতি। তিনি কেবল একজন প্রথিতযশা শিল্পীই নন, বরং জারিগানের একজন গুরুত্বপূর্ণ পালাকারও। প্রায় ১২ বছর ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে শয্যাশায়ী। অসুস্থ শরীর নিয়ে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি কেবল লোকসংস্কৃতির এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার আকুতি জানাচ্ছেন।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে নিজ বাড়িতে আলাপকালে এই প্রবীণ শিল্পী স্মৃতিচারণা করেন তার সোনালি দিনগুলোর। তিনি বলেন, একসময় গ্রামবাংলায় জারিগানের লড়াই ছিল বিনোদনের প্রধান অনুষঙ্গ। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ সেই আসর শুনতে আসত। এখন আধুনিক বিনোদনের জোয়ারে হারিয়ে যাচ্ছে সেই জারিগান ও পুঁথিপাঠ।

ক্ষোভ ও আক্ষেপের সুরে এই শিল্পী বলেন, নতুন প্রজন্ম এই অমূল্য ঐতিহ্যের কথা জানেই না। নিয়মিত সাংস্কৃতিক আয়োজন না থাকায় লোকসংস্কৃতির এই ধারাগুলো বিলুপ্তির পথে। তার দাবি, প্রবীণ শিল্পীদের সংগৃহীত পালা ও গানগুলো যেন সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সম্মাননা ও পুরস্কারে আলমারি সাজানো থাকলেও বাস্তব জীবনে কোনো সচ্ছলতা আসেনি এই শিল্পীর। ঝুপড়ি ঘরের এক কোণে পড়ে থাকা আব্দুল হেলিম বয়াতির বর্তমান অবস্থা আমাদের লোকসংস্কৃতির প্রতি সমাজের অবহেলার এক করুণ চিত্র ফুটিয়ে তোলে। তার প্রত্যাশা, শেষ বয়সে অন্তত হারানো লোকগানের ঐতিহ্য সংরক্ষণে যেন যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত