পটুয়াখালীর দুমকিতে আমন ধানের চারা রোপণে এখন দম ফেলার ফুসরত নেই কৃষকদের। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে আমন চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। মৌসুমের শুরুতে অতিবৃষ্টির কারণে বীজতলা তৈরিতে কিছুটা বিলম্ব হলেও এখন মাঠের অবস্থা দেখে হাসি ফুটেছে চাষিদের মুখে।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে দুমকিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ হাজার ৬৪০ হেক্টর। তবে মাঠের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে কৃষি কর্মকর্তারা আশা করছেন, এবার আবাদ ৬ হাজার ৬৮০ হেক্টর ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সরেজমিনে উপজেলার পাঙ্গাশিয়া, লেবুখালী, আঙ্গারিয়া ও শ্রীরামপুরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চাষিরা কেউ ট্রাক্টর বা পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি তৈরি করছেন, কেউবা বীজতলা থেকে চারা তুলছেন। শ্রাবণ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই উঁচু জমিতে চারা রোপণ শুরু হয়েছে। ভাদ্র মাসের মধ্যে রোপণের কাজ শেষ করতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন তারা।
দক্ষিণ শ্রীরামপুর স্যানের চর এলাকার প্রবীণ কৃষক সুলতান ফকির (৭০) বলেন, ‘একই জমিতে বোরো আবাদ করেছিলাম। সেই ধান কাটার পর এখন আবার আমনের চারা রোপণ করছি। বছরে তিনবার ফসল ফলে এমন জমিতেই আমাদের ব্যস্ততা বেশি।’ তবে খরচ নিয়ে চিন্তার কথা জানালেন দক্ষিণ মুরাদিয়ার কৃষক সুশীল মৌয়ালী (৫০)। তিনি বলেন, ‘ডিজেলের দাম আর শ্রমিকের মজুরি অনেক বেড়েছে। বেশি খরচ দিয়ে চাষাবাদ করতে গিয়ে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ইমরান হোসেন বলেন, মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির জন্য বীজ বুনতে কষ্ট হলেও বর্তমানে চারার অবস্থা বেশ ভালো। তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় জাতের পাশাপাশি আমরা কৃষকদের উচ্চফলনশীল ব্রি-ধান ১০৩ চাষে পরামর্শ দিচ্ছি। এ ছাড়া ব্রি-ধান ৪৯, ৭৫, ৮০, ৯৮ এবং বিনা ধান ৭, ১৭ ও ২৬ আবাদ করছেন চাষিরা। মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন।’
সব মিলিয়ে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আমনের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬
পটুয়াখালীর দুমকিতে আমন ধানের চারা রোপণে এখন দম ফেলার ফুসরত নেই কৃষকদের। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে আমন চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। মৌসুমের শুরুতে অতিবৃষ্টির কারণে বীজতলা তৈরিতে কিছুটা বিলম্ব হলেও এখন মাঠের অবস্থা দেখে হাসি ফুটেছে চাষিদের মুখে।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে দুমকিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ হাজার ৬৪০ হেক্টর। তবে মাঠের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে কৃষি কর্মকর্তারা আশা করছেন, এবার আবাদ ৬ হাজার ৬৮০ হেক্টর ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সরেজমিনে উপজেলার পাঙ্গাশিয়া, লেবুখালী, আঙ্গারিয়া ও শ্রীরামপুরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চাষিরা কেউ ট্রাক্টর বা পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি তৈরি করছেন, কেউবা বীজতলা থেকে চারা তুলছেন। শ্রাবণ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই উঁচু জমিতে চারা রোপণ শুরু হয়েছে। ভাদ্র মাসের মধ্যে রোপণের কাজ শেষ করতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন তারা।
দক্ষিণ শ্রীরামপুর স্যানের চর এলাকার প্রবীণ কৃষক সুলতান ফকির (৭০) বলেন, ‘একই জমিতে বোরো আবাদ করেছিলাম। সেই ধান কাটার পর এখন আবার আমনের চারা রোপণ করছি। বছরে তিনবার ফসল ফলে এমন জমিতেই আমাদের ব্যস্ততা বেশি।’ তবে খরচ নিয়ে চিন্তার কথা জানালেন দক্ষিণ মুরাদিয়ার কৃষক সুশীল মৌয়ালী (৫০)। তিনি বলেন, ‘ডিজেলের দাম আর শ্রমিকের মজুরি অনেক বেড়েছে। বেশি খরচ দিয়ে চাষাবাদ করতে গিয়ে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ইমরান হোসেন বলেন, মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির জন্য বীজ বুনতে কষ্ট হলেও বর্তমানে চারার অবস্থা বেশ ভালো। তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় জাতের পাশাপাশি আমরা কৃষকদের উচ্চফলনশীল ব্রি-ধান ১০৩ চাষে পরামর্শ দিচ্ছি। এ ছাড়া ব্রি-ধান ৪৯, ৭৫, ৮০, ৯৮ এবং বিনা ধান ৭, ১৭ ও ২৬ আবাদ করছেন চাষিরা। মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন।’
সব মিলিয়ে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আমনের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

আপনার মতামত লিখুন