সিলেট নগরের রায়নগর এলাকায় প্রবীণ ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার, তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও গৃহকর্মী তাহমিনাকে (১৮) হত্যার ঘটনায় পুলিশের ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। পুলিশ বলছে, তাহমিনার সঙ্গে রংমিস্ত্রি বাবুল মিয়ার প্রেমঘটিত সম্পর্কের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড, কিন্তু মাত্র ২২ দিন আগে গ্রাম থেকে আসা তাহমিনার সঙ্গে ৪০ বছর বয়সী বাবুলের এত অল্প সময়ের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এত বড় ঘটনার ব্যাখ্যা তাঁরা মানতে নারাজ। এর পেছনে সম্পত্তি বা জমি-সংক্রান্ত বিরোধ থাকতে পারে বলে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে নগরীর রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার ‘মিতালী ১১১ নিকুঞ্জ ভিলা’য় নিজ বাসায় খুন হন তিনজনই। ঘটনার দিনই বাবুলকে আটক করে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশের ভাষ্যমতে, বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে বাবুল বাসায় গিয়ে তাহমিনার সঙ্গে একটি কক্ষে প্রবেশ করেন এবং শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে তাঁকে ছুরিকাঘাত করেন। শব্দ শুনে এগিয়ে এলে সুরাইয়া বেগম ও পরে আব্দুস সাত্তারকেও ছুরিকাঘাত করে বাবুল পালিয়ে যান। তবে বৃহস্পতিবার সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, তাহমিনা তাকে গালিগালাজ করায় ক্ষুব্ধ হয়েই বাবুল প্রথমে তাঁকে এবং পরে দম্পতিকে হত্যা করেন। বাবুলের তথ্যেই বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) একটি খালি প্লট থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়।
তবে স্থানীয়রা এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন। মিতালী সমাজকল্যাণ সমিতির সহসভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, এত অল্প সময়ে এমন সম্পর্ক গড়ে ওঠা এবং তা থেকে তিন খুন হওয়ার ঘটনা বিশ্বাসযোগ্য নয়, তাই অন্য কোনো রহস্য খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি। সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক নাজু প্রশ্ন তোলেন, প্রেমঘটিত বিরোধ হলে ঘরের দলিলপত্র ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠছে কেন। সিসিটিভি ফুটেজের সময় নিয়েও গরমিলের অভিযোগ তুলেছেন তারা - বাবুলকে সকাল ৯টা ২২ মিনিটে রাস্তায় হাঁটতে দেখা গেলেও চিৎকারের শব্দ শোনা যায় ৯টা ২৫ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে, যা ফরেনসিক যাচাই ছাড়া স্পষ্ট নয়। ছুরি উদ্ধার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মিতালী সমাজকল্যাণ সমিতির কোষাধ্যক্ষ হুমায়ুন কবির শামীম ও বাসিন্দা আব্দুর রউফ তাফাদার - বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে যে প্লটে কিছু পাওয়া যায়নি, পরদিন সেখান থেকেই ছুরি উদ্ধারের বিষয়টি নিয়ে তাদের সংশয়।
সামনে এসেছে সম্পত্তি বিরোধের বিষয়ও। নিহত আব্দুস সাত্তার সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক ও কয়লা ব্যবসায়ী ছিলেন এবং সিলেট স্টেডিয়ামসংলগ্ন এক জায়গা নিয়ে নির্মাণাধীন ‘ইম্পালস টাওয়ার’-এর মালিক সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে তার মামলা চলছিল। আইনজীবী আজিজুর রহমান মানিক ও মামলাসংশ্লিষ্ট তৌহিদুল ইসলামের দাবি, এ নিয়ে সম্প্রতি হুমকি ও বিরোধের ঘটনাও ঘটেছিল। বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্রঋণবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকও এই বিরোধকে তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান।
সিলেট কোতোয়ালি থানার ওসি খান মো. মঈনুল জাকির বলেন, বাবুল হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করলেও বাসা থেকে মালামাল খোয়া যাওয়ার কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এসএমপির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মনজুরুল আলম বলেন, বাবুলের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ মিললেও এর পেছনে অন্য উদ্দেশ্য আছে কি না, তা তদন্তেই বেরিয়ে আসবে। আজ ১৪ আগস্ট দাফন শেষে নিহত আব্দুস সাত্তারের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের কথা রয়েছে।

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬
সিলেট নগরের রায়নগর এলাকায় প্রবীণ ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার, তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও গৃহকর্মী তাহমিনাকে (১৮) হত্যার ঘটনায় পুলিশের ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। পুলিশ বলছে, তাহমিনার সঙ্গে রংমিস্ত্রি বাবুল মিয়ার প্রেমঘটিত সম্পর্কের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড, কিন্তু মাত্র ২২ দিন আগে গ্রাম থেকে আসা তাহমিনার সঙ্গে ৪০ বছর বয়সী বাবুলের এত অল্প সময়ের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এত বড় ঘটনার ব্যাখ্যা তাঁরা মানতে নারাজ। এর পেছনে সম্পত্তি বা জমি-সংক্রান্ত বিরোধ থাকতে পারে বলে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে নগরীর রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার ‘মিতালী ১১১ নিকুঞ্জ ভিলা’য় নিজ বাসায় খুন হন তিনজনই। ঘটনার দিনই বাবুলকে আটক করে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশের ভাষ্যমতে, বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে বাবুল বাসায় গিয়ে তাহমিনার সঙ্গে একটি কক্ষে প্রবেশ করেন এবং শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে তাঁকে ছুরিকাঘাত করেন। শব্দ শুনে এগিয়ে এলে সুরাইয়া বেগম ও পরে আব্দুস সাত্তারকেও ছুরিকাঘাত করে বাবুল পালিয়ে যান। তবে বৃহস্পতিবার সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, তাহমিনা তাকে গালিগালাজ করায় ক্ষুব্ধ হয়েই বাবুল প্রথমে তাঁকে এবং পরে দম্পতিকে হত্যা করেন। বাবুলের তথ্যেই বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) একটি খালি প্লট থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়।
তবে স্থানীয়রা এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন। মিতালী সমাজকল্যাণ সমিতির সহসভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, এত অল্প সময়ে এমন সম্পর্ক গড়ে ওঠা এবং তা থেকে তিন খুন হওয়ার ঘটনা বিশ্বাসযোগ্য নয়, তাই অন্য কোনো রহস্য খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি। সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক নাজু প্রশ্ন তোলেন, প্রেমঘটিত বিরোধ হলে ঘরের দলিলপত্র ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠছে কেন। সিসিটিভি ফুটেজের সময় নিয়েও গরমিলের অভিযোগ তুলেছেন তারা - বাবুলকে সকাল ৯টা ২২ মিনিটে রাস্তায় হাঁটতে দেখা গেলেও চিৎকারের শব্দ শোনা যায় ৯টা ২৫ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে, যা ফরেনসিক যাচাই ছাড়া স্পষ্ট নয়। ছুরি উদ্ধার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মিতালী সমাজকল্যাণ সমিতির কোষাধ্যক্ষ হুমায়ুন কবির শামীম ও বাসিন্দা আব্দুর রউফ তাফাদার - বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে যে প্লটে কিছু পাওয়া যায়নি, পরদিন সেখান থেকেই ছুরি উদ্ধারের বিষয়টি নিয়ে তাদের সংশয়।
সামনে এসেছে সম্পত্তি বিরোধের বিষয়ও। নিহত আব্দুস সাত্তার সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক ও কয়লা ব্যবসায়ী ছিলেন এবং সিলেট স্টেডিয়ামসংলগ্ন এক জায়গা নিয়ে নির্মাণাধীন ‘ইম্পালস টাওয়ার’-এর মালিক সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে তার মামলা চলছিল। আইনজীবী আজিজুর রহমান মানিক ও মামলাসংশ্লিষ্ট তৌহিদুল ইসলামের দাবি, এ নিয়ে সম্প্রতি হুমকি ও বিরোধের ঘটনাও ঘটেছিল। বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্রঋণবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকও এই বিরোধকে তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান।
সিলেট কোতোয়ালি থানার ওসি খান মো. মঈনুল জাকির বলেন, বাবুল হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করলেও বাসা থেকে মালামাল খোয়া যাওয়ার কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এসএমপির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মনজুরুল আলম বলেন, বাবুলের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ মিললেও এর পেছনে অন্য উদ্দেশ্য আছে কি না, তা তদন্তেই বেরিয়ে আসবে। আজ ১৪ আগস্ট দাফন শেষে নিহত আব্দুস সাত্তারের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের কথা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন