আফগানিস্তানে আল-কায়েদার অবস্থান ও সক্ষমতায় বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং সংগঠনটির ভারতীয় উপমহাদেশীয় শাখা আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (একিউআইএস) বড় ইউনিটের বদলে ছোট ও বিচ্ছিন্ন সেলভিত্তিক কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে। এসব সেলের মাধ্যমে রসদ সংগ্রহ, অর্থের জোগান ও যোগাযোগের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশকেও এই তৎপরতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ‘অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিম-এর মূল্যায়নে এ নিয়ে উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। সদস্যরাষ্ট্রগুলোর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদন শুক্রবার (১৪ আগস্ট) প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একিউআইএস একটি খণ্ডিত গোষ্ঠী থেকে ধীরে ধীরে আঞ্চলিক নেটওয়ার্কে রূপ নেওয়ার চেষ্টা করছে। সংগঠনটির তৎপরতার ধরনেও পরিবর্তন এসেছে- বড় ও দৃশ্যমান সাংগঠনিক কাঠামোর পরিবর্তে ছোট, বিচ্ছিন্ন ও তুলনামূলকভাবে শনাক্ত করা কঠিন সেল গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব বাড়ছে।
বাংলাদেশকে ঘিরে উদ্বেগের জায়গাটিও এখানেই। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, একিউআইএস নিজেদের স্বার্থে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহারের চেষ্টা করছে। দেশে সেল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের আশঙ্কা রয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশে সংগঠনটির একটি শক্তিশালী বা প্রকাশ্য সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি হয়েছে। বরং উদ্বেগটি সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক, যোগাযোগ ও সহায়ক কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা নিয়ে।
জাতিসংঘের আগের মূল্যায়নগুলোও আল-কায়েদার জন্য আফগানিস্তানকে গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত মনিটরিং টিম-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, আল-কায়েদা আফগানিস্তানের তালেবান কর্তৃপক্ষের পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে আসছে। অন্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর জন্য প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘সার্ভিস প্রোভাইডার’ হিসেবে কাজ করছে। একিউআইএস দক্ষিণ-পূর্ব আফগানিস্তানে সক্রিয়। সংগঠনটির শীর্ষ নেতা ও উপনেতা কাবুলে অবস্থান করছেন বলে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এর আগের জাতিসংঘের মূল্যায়নেও আফগানিস্তানে আল-কায়েদার উপস্থিতির কথা ধারাবাহিকভাবে উঠে এসেছে। ২০২০ সালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, একিউআইএস আফগানিস্তানের তালেবান-নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর আওতায় নিমরুজ, হেলমান্দ ও কান্দাহারে সক্রিয় ছিল এবং বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার ও পাকিস্তানের সদস্যদের নিয়ে তাদের একটি আঞ্চলিক ভিত্তি ছিল।
অর্থাৎ একিউআইএস-এর ক্ষেত্রে আফগানিস্তান শুধু আশ্রয়ের জায়গা নয়; দক্ষিণ এশিয়ায় যোগাযোগ, মতাদর্শ, প্রশিক্ষণ ও নেটওয়ার্ক তৈরির জন্যও দেশটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে- এমন একটি ধারাবাহিক চিত্র জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনে পাওয়া যায়।সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর কর্মকৌশলে ছোট সেল নতুন কিছু নয়। তবে একিউআইএস-এর ক্ষেত্রে এই কৌশল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কারণ বড় সাংগঠনিক কাঠামো নিরাপত্তা সংস্থার নজরে তুলনামূলক দ্রুত আসে। ছোট ও বিচ্ছিন্ন সেল ব্যবহার করলে নেতৃত্ব, অর্থ, রসদ ও মাঠপর্যায়ের সদস্যদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ কম রাখা সম্ভব হয়।
জাতিসংঘের ২০২৬ সালের মূল্যায়নে একিউআইএস-এর বিদেশে অভিযান চালানোর আগ্রহ বাড়ছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য এসব অভিযান এমনভাবে পরিচালিত হতে পারে, যাতে সংগঠনটি সরাসরি দায় স্বীকার না করে বা অন্য কোনো ছাতার সংগঠনের নামে তা চালানো যায়। এখানেই দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে আফগানিস্তানের যোগসূত্রটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা এবং তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) ঘিরে বিরোধ দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। জাতিসংঘের মূল্যায়নে দীর্ঘদিন ধরে আল-কায়েদা, একিউআইএস ও টিটিপি-এর মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতার বিষয়টি উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে আল-কায়েদাকে টিটিপি-কে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তের অস্থিতিশীলতা শুধু দুই দেশের সমস্যা হয়ে থাকছে না। এর প্রভাব পড়তে পারে ভারত, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর ওপরও। কারণ সীমান্ত অস্থিরতা, অনলাইন উগ্রবাদী প্রচার, অবৈধ অর্থপ্রবাহ ও ছোট সেলের বিস্তার- এসব একে অন্যকে শক্তিশালী করতে পারে।
বাংলাদেশের ঝুঁকি
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, একিউআইএস বা আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট কোনো নেটওয়ার্ক নতুন করে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে কি না। অতীতে বাংলাদেশে আল-কায়েদার আদর্শের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় জঙ্গি গোষ্ঠীর তৎপরতা দেখা গেছে। একিউআইএস-এর সঙ্গে বাংলাদেশভিত্তিক আনসার আল-ইসলাম-এর সম্পর্কের কথাও বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা মূল্যায়নে উঠে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার সরকারি নথিতে একিউআইএস-এর সঙ্গে আনসার আল-ইসলাম বাংলাদেশ-এর যোগাযোগ এবং ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের কয়েকটি হত্যাকাণ্ডে একিউআইএস-এর দায় স্বীকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর জন্য অনলাইন প্রচার এখন গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। বাংলাদেশ ও ভারত- দুই দেশেই সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে অনলাইন যোগাযোগের অভিযোগে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটকের ঘটনা ঘটেছে। ভারতে ২০২৬ সালের জুনে একিউআইএস ও ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে বিভিন্ন রাজ্য থেকে ১২ জনকে গ্রেপ্তারের পর তদন্ত জাতীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ) কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ ধরনের ঘটনাই দেখাচ্ছে, সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের কাঠামো এখন শুধু সীমান্ত, মাদ্রাসা, প্রশিক্ষণকেন্দ্র বা গোপন আস্তানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অনলাইন প্রচার, ব্যক্তিগত যোগাযোগ, অর্থ স্থানান্তর ও বিচ্ছিন্ন সেল- সব মিলিয়ে নতুন ধরনের নেটওয়ার্ক তৈরি হতে পারে।

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬
আফগানিস্তানে আল-কায়েদার অবস্থান ও সক্ষমতায় বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং সংগঠনটির ভারতীয় উপমহাদেশীয় শাখা আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (একিউআইএস) বড় ইউনিটের বদলে ছোট ও বিচ্ছিন্ন সেলভিত্তিক কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে। এসব সেলের মাধ্যমে রসদ সংগ্রহ, অর্থের জোগান ও যোগাযোগের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশকেও এই তৎপরতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ‘অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিম-এর মূল্যায়নে এ নিয়ে উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। সদস্যরাষ্ট্রগুলোর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদন শুক্রবার (১৪ আগস্ট) প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একিউআইএস একটি খণ্ডিত গোষ্ঠী থেকে ধীরে ধীরে আঞ্চলিক নেটওয়ার্কে রূপ নেওয়ার চেষ্টা করছে। সংগঠনটির তৎপরতার ধরনেও পরিবর্তন এসেছে- বড় ও দৃশ্যমান সাংগঠনিক কাঠামোর পরিবর্তে ছোট, বিচ্ছিন্ন ও তুলনামূলকভাবে শনাক্ত করা কঠিন সেল গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব বাড়ছে।
বাংলাদেশকে ঘিরে উদ্বেগের জায়গাটিও এখানেই। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, একিউআইএস নিজেদের স্বার্থে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহারের চেষ্টা করছে। দেশে সেল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের আশঙ্কা রয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশে সংগঠনটির একটি শক্তিশালী বা প্রকাশ্য সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি হয়েছে। বরং উদ্বেগটি সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক, যোগাযোগ ও সহায়ক কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা নিয়ে।
জাতিসংঘের আগের মূল্যায়নগুলোও আল-কায়েদার জন্য আফগানিস্তানকে গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত মনিটরিং টিম-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, আল-কায়েদা আফগানিস্তানের তালেবান কর্তৃপক্ষের পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে আসছে। অন্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর জন্য প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘সার্ভিস প্রোভাইডার’ হিসেবে কাজ করছে। একিউআইএস দক্ষিণ-পূর্ব আফগানিস্তানে সক্রিয়। সংগঠনটির শীর্ষ নেতা ও উপনেতা কাবুলে অবস্থান করছেন বলে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এর আগের জাতিসংঘের মূল্যায়নেও আফগানিস্তানে আল-কায়েদার উপস্থিতির কথা ধারাবাহিকভাবে উঠে এসেছে। ২০২০ সালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, একিউআইএস আফগানিস্তানের তালেবান-নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর আওতায় নিমরুজ, হেলমান্দ ও কান্দাহারে সক্রিয় ছিল এবং বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার ও পাকিস্তানের সদস্যদের নিয়ে তাদের একটি আঞ্চলিক ভিত্তি ছিল।
অর্থাৎ একিউআইএস-এর ক্ষেত্রে আফগানিস্তান শুধু আশ্রয়ের জায়গা নয়; দক্ষিণ এশিয়ায় যোগাযোগ, মতাদর্শ, প্রশিক্ষণ ও নেটওয়ার্ক তৈরির জন্যও দেশটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে- এমন একটি ধারাবাহিক চিত্র জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনে পাওয়া যায়।সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর কর্মকৌশলে ছোট সেল নতুন কিছু নয়। তবে একিউআইএস-এর ক্ষেত্রে এই কৌশল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কারণ বড় সাংগঠনিক কাঠামো নিরাপত্তা সংস্থার নজরে তুলনামূলক দ্রুত আসে। ছোট ও বিচ্ছিন্ন সেল ব্যবহার করলে নেতৃত্ব, অর্থ, রসদ ও মাঠপর্যায়ের সদস্যদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ কম রাখা সম্ভব হয়।
জাতিসংঘের ২০২৬ সালের মূল্যায়নে একিউআইএস-এর বিদেশে অভিযান চালানোর আগ্রহ বাড়ছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য এসব অভিযান এমনভাবে পরিচালিত হতে পারে, যাতে সংগঠনটি সরাসরি দায় স্বীকার না করে বা অন্য কোনো ছাতার সংগঠনের নামে তা চালানো যায়। এখানেই দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে আফগানিস্তানের যোগসূত্রটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা এবং তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) ঘিরে বিরোধ দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। জাতিসংঘের মূল্যায়নে দীর্ঘদিন ধরে আল-কায়েদা, একিউআইএস ও টিটিপি-এর মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতার বিষয়টি উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে আল-কায়েদাকে টিটিপি-কে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তের অস্থিতিশীলতা শুধু দুই দেশের সমস্যা হয়ে থাকছে না। এর প্রভাব পড়তে পারে ভারত, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর ওপরও। কারণ সীমান্ত অস্থিরতা, অনলাইন উগ্রবাদী প্রচার, অবৈধ অর্থপ্রবাহ ও ছোট সেলের বিস্তার- এসব একে অন্যকে শক্তিশালী করতে পারে।
বাংলাদেশের ঝুঁকি
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, একিউআইএস বা আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট কোনো নেটওয়ার্ক নতুন করে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে কি না। অতীতে বাংলাদেশে আল-কায়েদার আদর্শের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় জঙ্গি গোষ্ঠীর তৎপরতা দেখা গেছে। একিউআইএস-এর সঙ্গে বাংলাদেশভিত্তিক আনসার আল-ইসলাম-এর সম্পর্কের কথাও বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা মূল্যায়নে উঠে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার সরকারি নথিতে একিউআইএস-এর সঙ্গে আনসার আল-ইসলাম বাংলাদেশ-এর যোগাযোগ এবং ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের কয়েকটি হত্যাকাণ্ডে একিউআইএস-এর দায় স্বীকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর জন্য অনলাইন প্রচার এখন গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। বাংলাদেশ ও ভারত- দুই দেশেই সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে অনলাইন যোগাযোগের অভিযোগে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটকের ঘটনা ঘটেছে। ভারতে ২০২৬ সালের জুনে একিউআইএস ও ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে বিভিন্ন রাজ্য থেকে ১২ জনকে গ্রেপ্তারের পর তদন্ত জাতীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ) কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ ধরনের ঘটনাই দেখাচ্ছে, সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের কাঠামো এখন শুধু সীমান্ত, মাদ্রাসা, প্রশিক্ষণকেন্দ্র বা গোপন আস্তানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অনলাইন প্রচার, ব্যক্তিগত যোগাযোগ, অর্থ স্থানান্তর ও বিচ্ছিন্ন সেল- সব মিলিয়ে নতুন ধরনের নেটওয়ার্ক তৈরি হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন