মানিকগঞ্জের সাতটি উপজেলায় পাটের ভালো দাম পেয়ে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। বাজারে নতুন পাট ওঠার শুরুতেই প্রত্যাশার চেয়ে বেশি দাম মেলায় চাষিদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি নানামুখী উদ্যোগ ও পরিবেশ রক্ষায় পাটের ব্যবহার বাড়ায় দীর্ঘ বছর পর সোনালি আঁশের সেই পুরনো ঐতিহ্য আবারও ফিরে আসছে।
স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতি মণ দেশি পাট ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৭০০ টাকা এবং তোষা পাট ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভালো দাম পাওয়ায় এখন জেলার ঘিওর, দৌলতপুর, শিবালয়, হরিরামপুর, সিঙ্গাইর ও সাটুরিয়া এলাকার কৃষকেরা পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
ব্যবসায়ী ও কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, একসময় মানিকগঞ্জ ছিল পাটের জন্য বিখ্যাত। ঘিওর, বরংগাইল, তরা ও ঝিটকা হাটে একসময় হাজার হাজার মণ পাট কেনাবেচা হতো। মাঝে পাটের দরপতন ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় চাষিরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন। তবে বর্তমানে সার, চিনি, সিমেন্টসহ বিভিন্ন পণ্যের মোড়কীকরণে পাটের ব্যাগের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করায় বাজারে পাটের চাহিদা ও দাম দুটোই বেড়েছে।
ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী গ্রামের কৃষক আলমাস মিয়া বলেন, ‘এবার ২ বিঘা জমিতে পাট আবাদ করেছি। প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। ফলন হয়েছে বিঘায় ১০ থেকে ১২ মণ। পাটের যে দাম পাচ্ছি, তাতে খরচ বাদ দিয়ে বেশ ভালো লাভ থাকবে। এমনকি পাটখড়ির দামও এখন বেশ ভালো।’
ঘিওর বাজারের পাট ব্যবসায়ী রতন সাহা জানান, মিলগুলোতে পাটের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। দাম ভালো থাকায় কৃষকদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও লাভবান হচ্ছেন। সরকারিভাবে পাট ক্রয় কেন্দ্রগুলো পুরোদমে চালু হলে কৃষকেরা আরও বেশি উপকৃত হতেন বলে মনে করেন তিনি।
মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (খামারবাড়ি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ৫৩০ হেক্টর। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ৫৭৬ হেক্টর জমিতে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও হয়েছে চমৎকার। গ্রামীণ অর্থনীতিতে পাটের এই চড়া দাম নতুন করে প্রাণের সঞ্চার করেছে।

শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬
মানিকগঞ্জের সাতটি উপজেলায় পাটের ভালো দাম পেয়ে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। বাজারে নতুন পাট ওঠার শুরুতেই প্রত্যাশার চেয়ে বেশি দাম মেলায় চাষিদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি নানামুখী উদ্যোগ ও পরিবেশ রক্ষায় পাটের ব্যবহার বাড়ায় দীর্ঘ বছর পর সোনালি আঁশের সেই পুরনো ঐতিহ্য আবারও ফিরে আসছে।
স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতি মণ দেশি পাট ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৭০০ টাকা এবং তোষা পাট ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভালো দাম পাওয়ায় এখন জেলার ঘিওর, দৌলতপুর, শিবালয়, হরিরামপুর, সিঙ্গাইর ও সাটুরিয়া এলাকার কৃষকেরা পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
ব্যবসায়ী ও কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, একসময় মানিকগঞ্জ ছিল পাটের জন্য বিখ্যাত। ঘিওর, বরংগাইল, তরা ও ঝিটকা হাটে একসময় হাজার হাজার মণ পাট কেনাবেচা হতো। মাঝে পাটের দরপতন ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় চাষিরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন। তবে বর্তমানে সার, চিনি, সিমেন্টসহ বিভিন্ন পণ্যের মোড়কীকরণে পাটের ব্যাগের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করায় বাজারে পাটের চাহিদা ও দাম দুটোই বেড়েছে।
ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী গ্রামের কৃষক আলমাস মিয়া বলেন, ‘এবার ২ বিঘা জমিতে পাট আবাদ করেছি। প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। ফলন হয়েছে বিঘায় ১০ থেকে ১২ মণ। পাটের যে দাম পাচ্ছি, তাতে খরচ বাদ দিয়ে বেশ ভালো লাভ থাকবে। এমনকি পাটখড়ির দামও এখন বেশ ভালো।’
ঘিওর বাজারের পাট ব্যবসায়ী রতন সাহা জানান, মিলগুলোতে পাটের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। দাম ভালো থাকায় কৃষকদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও লাভবান হচ্ছেন। সরকারিভাবে পাট ক্রয় কেন্দ্রগুলো পুরোদমে চালু হলে কৃষকেরা আরও বেশি উপকৃত হতেন বলে মনে করেন তিনি।
মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (খামারবাড়ি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ৫৩০ হেক্টর। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ৫৭৬ হেক্টর জমিতে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও হয়েছে চমৎকার। গ্রামীণ অর্থনীতিতে পাটের এই চড়া দাম নতুন করে প্রাণের সঞ্চার করেছে।

আপনার মতামত লিখুন