সংবাদ

বন্যায় সব হারানো পারভীন পেলেন নতুন ঠিকানা


প্রতিনিধি, ফেনী
প্রতিনিধি, ফেনী
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম

বন্যায় সব হারানো পারভীন পেলেন নতুন ঠিকানা
ছবি : সংবাদ

চব্বিশের সেই প্রলয়ংকরী বন্যার স্মৃতি এখনো পারভীন আক্তারের চোখেমুখে আতঙ্ক জাগায়। স্বামীহারা এই নারী তিন মেয়েকে নিয়ে কোনোমতে মাথা গোঁজার একটি ঠাঁই করেছিলেন ফেনীর দাগনভূঞার চাঁদপুর গ্রামে। কিন্তু সেই বন্যায় চোখের নিমেষেই ধসে পড়েছিল তার ঘরটি।

গত দুটি বছর খেয়ে না-খেয়ে, রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে অন্যের আশ্রয়ে চরম কষ্টে দিন কেটেছে তার। তবে শনিবার (১৫ আগস্ট) সেই কষ্টের দিনগুলোতে পূর্ণচ্ছেদ পড়ল। স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ‘আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম’-এর ফেনী জেলা শাখার সহায়তায় নতুন একটি ঠিকানা পেলেন পারভীন।

শনিবার দুপুরে চাঁদপুর গ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে পারভীনের হাতে তার নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়। প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই আধাপাকা ঘরটি এখন পারভীন ও তার তিন মেয়ের নিরাপদ আশ্রয়।

চাবি হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত পারভীন আক্তার বলেন, ‘বন্যার পর সব হারাইয়া নিঃস্ব হইয়া গেছিলাম। স্বামী নেই, তিন মেয়ে নিয়ে কোথায় থাকব, কী করব-কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। দুই বছর অনেক কষ্টে কেটেছে। আজ নতুন ঘর পেয়ে মনে হচ্ছে বড় এক বোঝা নামল। আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া।’

ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আল আমিন সরকার। তিনি বলেন, ‘আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম ঘরটি নির্মাণ করে দিয়ে একটি চমৎকার মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই ধারা অব্যাহত থাকুক।’

আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম ফেনী শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক ভূঁইয়া বেলাল, ম্যানেজার এফ এম ফয়জুর রহমান এবং ঘর নির্মাণ সমন্বয়কারী আসাদুজ্জামান দারা। অনুষ্ঠান শেষে পারভীনের পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।

আঞ্জুমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত আরও কিছু পরিবারের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। পারভীনের মতো যারা ঘর হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন, তাদের মুখে হাসি ফোটাতেই এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬


বন্যায় সব হারানো পারভীন পেলেন নতুন ঠিকানা

প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

চব্বিশের সেই প্রলয়ংকরী বন্যার স্মৃতি এখনো পারভীন আক্তারের চোখেমুখে আতঙ্ক জাগায়। স্বামীহারা এই নারী তিন মেয়েকে নিয়ে কোনোমতে মাথা গোঁজার একটি ঠাঁই করেছিলেন ফেনীর দাগনভূঞার চাঁদপুর গ্রামে। কিন্তু সেই বন্যায় চোখের নিমেষেই ধসে পড়েছিল তার ঘরটি।

গত দুটি বছর খেয়ে না-খেয়ে, রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে অন্যের আশ্রয়ে চরম কষ্টে দিন কেটেছে তার। তবে শনিবার (১৫ আগস্ট) সেই কষ্টের দিনগুলোতে পূর্ণচ্ছেদ পড়ল। স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ‘আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম’-এর ফেনী জেলা শাখার সহায়তায় নতুন একটি ঠিকানা পেলেন পারভীন।

শনিবার দুপুরে চাঁদপুর গ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে পারভীনের হাতে তার নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়। প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই আধাপাকা ঘরটি এখন পারভীন ও তার তিন মেয়ের নিরাপদ আশ্রয়।

চাবি হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত পারভীন আক্তার বলেন, ‘বন্যার পর সব হারাইয়া নিঃস্ব হইয়া গেছিলাম। স্বামী নেই, তিন মেয়ে নিয়ে কোথায় থাকব, কী করব-কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। দুই বছর অনেক কষ্টে কেটেছে। আজ নতুন ঘর পেয়ে মনে হচ্ছে বড় এক বোঝা নামল। আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া।’

ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আল আমিন সরকার। তিনি বলেন, ‘আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম ঘরটি নির্মাণ করে দিয়ে একটি চমৎকার মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই ধারা অব্যাহত থাকুক।’

আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম ফেনী শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক ভূঁইয়া বেলাল, ম্যানেজার এফ এম ফয়জুর রহমান এবং ঘর নির্মাণ সমন্বয়কারী আসাদুজ্জামান দারা। অনুষ্ঠান শেষে পারভীনের পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।

আঞ্জুমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত আরও কিছু পরিবারের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। পারভীনের মতো যারা ঘর হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন, তাদের মুখে হাসি ফোটাতেই এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত