সংবাদ

কচুরিপানায় আটকা হাজারো কৃষকের ভাগ্য


প্রতিনিধি, চিতলমারী (বাগেরহাট)
প্রতিনিধি, চিতলমারী (বাগেরহাট)
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম

কচুরিপানায় আটকা হাজারো কৃষকের ভাগ্য
ছবি : সংবাদ

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বুক ঘেঁষে বয়ে যাওয়া একসময়ের খরস্রোতা বলেশ্বর নদী এখন নাব্য হারিয়ে মৃতপ্রায়। নদীর বুকে এখন কেবল ধুধু চরের রাজত্ব আর ঘন কচুরিপানার স্তূপ। বছরের পর বছর নদীটি খনন না করায় সেচকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন নদীপাড়ের ১০-১২টি গ্রামের হাজারো কৃষক।

স্থানীয় চাষি মুকুন্দ বাওয়ালী ও আনন্দ বালা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দীর্ঘদিন ধরে নদী খননের আশ্বাস শুনলেও বাস্তবে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির অভাবে খেতের ফসল শুকিয়ে নষ্ট হয়, আবার বর্ষায় কচুরিপানার কারণে নৌকা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। নদীর ওপর নির্ভরশীল শত শত জেলে পরিবারও এখন কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।

একসময় এ নদী দিয়ে বড় বড় লঞ্চ ও স্টিমার চলত বলে জানান উপজেলা কৃষক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক পঙ্কজ রায়। তিনি বলেন, ‘বলেশ্বর ছিল এই অঞ্চলের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। কিন্তু আজ কচুরিপানা ও নাব্যসংকটে এটি কৃষকের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

এ বিষয়ে চিতলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সিফাত-আল-মারুফ বলেন, ‘অঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থা সচল রাখতে বলেশ্বর নদী পুনঃখনন করা এখন সময়ের দাবি। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে গুরুত্বের সাথে জানিয়েছি।’

বাগেরহাট জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত পাল জানান, দ্রুত কচুরিপানা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নদীটি পুনঃখননের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬


কচুরিপানায় আটকা হাজারো কৃষকের ভাগ্য

প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বুক ঘেঁষে বয়ে যাওয়া একসময়ের খরস্রোতা বলেশ্বর নদী এখন নাব্য হারিয়ে মৃতপ্রায়। নদীর বুকে এখন কেবল ধুধু চরের রাজত্ব আর ঘন কচুরিপানার স্তূপ। বছরের পর বছর নদীটি খনন না করায় সেচকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন নদীপাড়ের ১০-১২টি গ্রামের হাজারো কৃষক।

স্থানীয় চাষি মুকুন্দ বাওয়ালী ও আনন্দ বালা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দীর্ঘদিন ধরে নদী খননের আশ্বাস শুনলেও বাস্তবে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির অভাবে খেতের ফসল শুকিয়ে নষ্ট হয়, আবার বর্ষায় কচুরিপানার কারণে নৌকা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। নদীর ওপর নির্ভরশীল শত শত জেলে পরিবারও এখন কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।

একসময় এ নদী দিয়ে বড় বড় লঞ্চ ও স্টিমার চলত বলে জানান উপজেলা কৃষক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক পঙ্কজ রায়। তিনি বলেন, ‘বলেশ্বর ছিল এই অঞ্চলের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। কিন্তু আজ কচুরিপানা ও নাব্যসংকটে এটি কৃষকের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

এ বিষয়ে চিতলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সিফাত-আল-মারুফ বলেন, ‘অঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থা সচল রাখতে বলেশ্বর নদী পুনঃখনন করা এখন সময়ের দাবি। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে গুরুত্বের সাথে জানিয়েছি।’

বাগেরহাট জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত পাল জানান, দ্রুত কচুরিপানা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নদীটি পুনঃখননের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত