দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামীকাল রোববার (১৬ আগস্ট) কিশোরগঞ্জ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এই আগমনকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়নের নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। জনদুর্ভোগ নিরসন, যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একগুচ্ছ দাবি তুলে ধরেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা।
কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র আলহাজ তোফাজ্জল হোসেন খান দিলিপ জানান, কটিয়াদীবাসীর প্রধান দাবি এখন গ্যাস সংযোগ বাস্তবায়ন। এ ছাড়া ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করা, কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ডে ওভারব্রিজ নির্মাণ এবং একটি আধুনিক স্টেডিয়ামের দাবিও করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ৬০০ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য ‘ঢাকের হাটের’ আধুনিকায়ন ও কটিয়াদী মহাশ্মশান ঘাট সংস্কারের দাবিও রয়েছে তার।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন কটিয়াদীতে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্র ও আড়িয়াল খাঁ নদীতীরবর্তী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। এ ছাড়া কটিয়াদী পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় সরকারি করার দাবিটি এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে।’ এসব দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও তিনি জানান।
কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন, কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়ার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে আমরা বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। তিনি মনি কান্দা থেকে দত্তের বাজার সেতু, মঠখোলা থেকে আড়ালিয়া সেতুসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কালভার্ট ও সড়ক সংস্কারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন। তিনি মনে করেন, এই অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে এ অঞ্চলের কৃষিপণ্য পরিবহন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
সফরের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী পাকুন্দিয়ার মির্জাপুরে চেয়ারম্যান ঘাটে ব্রহ্মপুত্র নদে পোনামাছ অবমুক্ত করবেন। এরপর কটিয়াদী কার্প হ্যাচারি পরিদর্শন এবং আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষের’ উদ্বোধন করবেন। সেখানে তিনি সেরা মৎস্যজীবীদের হাতে পুরস্কার ও সনদ তুলে দেবেন।
বিকেলের কর্মসূচিতে রয়েছে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং জেলা ছাত্রদলের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ। এরপর তিনি কিশোরগঞ্জ সার্কিট হাউসে যাত্রাবিরতি করবেন। দিনশেষে কিশোরগঞ্জ পুরাতন স্টেডিয়ামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়ার পাড়া-মহল্লায় এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। দীর্ঘ সময় পর প্রধানমন্ত্রীকে কাছ থেকে দেখতে এবং বরণ করে নিতে মুখিয়ে আছেন সাধারণ মানুষ। ব্যানার, ফেস্টুন আর তোরণে ছেয়ে গেছে পুরো নির্বাচনী এলাকা। স্থানীয় জনগণের আশা, দীর্ঘদিনের অবহেলিত এই জনপদে প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
আপনার মতামত লিখুন