সংবাদ

তৃণমূলের ২০ ‘বিদ্রোহী’ সাংসদকে নিয়ে কী হচ্ছে?


দীপক মুখার্জী
দীপক মুখার্জী প্রতিনিধি, কলকাতা
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২১ পিএম

তৃণমূলের ২০ ‘বিদ্রোহী’ সাংসদকে নিয়ে কী হচ্ছে?
ছবি : সংগৃহীত

লোকসভার ২০ জন কথিত বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ-বিরোধী আইন (সংবিধানের দশম তফসিল) অনুযায়ী অযোগ্য ঘোষণার আবেদন করা হয়েছে। অভিযোগ, দলীয় অবস্থানের বিরুদ্ধে গিয়ে তারা কাজ করেছেন। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, প্রায় দুই মাস আগে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে এই বিষয়ে আবেদন জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে গেলে কী হতে পারে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।

দশম তফসিল কী বলছে?

সংবিধানের দশম তফসিল বা অ্যান্টি ডিফেকশন ল’ অনুযায়ী, কোনও সাংসদ বা বিধায়ক যদি স্বেচ্ছায় দলের সদস্যপদ ত্যাগ করেন অথবা দলের হুইপ অমান্য করে ভোট দেন বা দলবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত হন, তাহলে তাকে অযোগ্য ঘোষণা করা যেতে পারে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট সদনের স্পিকারের হাতে ন্যস্ত।

স্পিকারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কি নির্দিষ্ট সময়সীমা আছে?

সংবিধানে বা দশম তফসিলে স্পিকারের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ নেই। তবে ২০২০ সালের “কেশাম মেঘাচন্দ্র সিংহ বনাম স্পিকার, মণিপুর লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলি” মামলায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণ করে যে, ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি না থাকলে তিন মাসের মধ্যে দলত্যাগ সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তি করা উচিত। আদালত আরও জানায়, অযৌক্তিক বিলম্ব দশম তফসিলের উদ্দেশ্যকেই ব্যর্থ করে দিতে পারে।

পরবর্তী একাধিক মামলায়ও সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে, স্পিকারের নিষ্ক্রিয়তা বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার বাইরে নয়। এমনকি ২০২৫ সালে তেলঙ্গানা বিধানসভার স্পিকারকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে আদালত নির্দেশ দিয়েছিল।

সুপ্রিম কোর্টে গেলে কী হতে পারে?

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে এবং দেখাতে পারে যে স্পিকার অযৌক্তিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করছেন, তাহলে আদালত কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে পারে—

স্পিকারকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে (যেমন তিন মাস বা তারও কম সময়ে) আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ দিতে পারে।

আদালত পর্যবেক্ষণ করতে পারে যে, বিলম্বের মাধ্যমে দশম তফসিলের উদ্দেশ্য ব্যাহত করা যাবে না।

স্পিকারকে দ্রুত শুনানি সম্পন্ন করার নির্দেশ দিতে পারে এবং অপ্রয়োজনীয় স্থগিতাদেশ এড়াতে বলতে পারে।

আদালতের নির্দেশ অমান্য করা হলে পরবর্তী পর্যায়ে অবমাননার প্রশ্নও উঠতে পারে।

আদালত কি সরাসরি সাংসদদের অযোগ্য ঘোষণা করতে পারে?

সাধারণ নিয়মে না। দশম তফসিল অনুযায়ী প্রথম সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা স্পিকারের। তবে স্পিকার দীর্ঘদিন সিদ্ধান্ত না নিলে সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করে তাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করতে পারে। স্পিকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরে বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার আওতায় আসতে পারে।

তৃণমূল যদি ইতিমধ্যেই দল থেকে বহিষ্কার করে থাকে?

কেবল দল থেকে বহিষ্কার করা এবং দশম তফসিলের অধীনে সাংসদপদ খারিজ- দুটি ভিন্ন বিষয়। দলীয় শৃঙ্খলাজনিত ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাংসদের সদস্যপদ বাতিল করে না। সাংসদপদ খারিজের জন্য স্পিকারের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

আইন বিশেষজ্ঞদের অভিমত

সংবিধান বিশেষজ্ঞদের বড় অংশের মত, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সুপ্রিম কোর্টের অবস্থান স্পষ্ট- স্পিকার সাংবিধানিক পদে থাকলেও দলত্যাগ সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি একটি ‘কোয়াশি জুডিশিয়াল অথরিটি’ হিসেবে কাজ করেন। ফলে তার ট্রান্সফারস বা অযৌক্তিক বিলম্ব বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার বাইরে নয়। আদালত বারবার বলেছে, অনির্দিষ্টকালের জন্য আবেদন ঝুলিয়ে রাখা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

রাজনৈতিক বাস্তবতা ও আইনি গুরুত্ব

এই বিতর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দিকও রয়েছে।  অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ২০ জন সাংসদ এখনও প্রকাশ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় পতাকা, ব্যানার ও পরিচিতি ব্যবহার করছেন। কারণ, তাঁরা যে আসনগুলি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন, সেখানে অধিকাংশ ভোটার তাদের ব্যক্তিগত পরিচয়ের চেয়ে তৃণমূলের প্রতীক, সংগঠন এবং দলীয় নেতৃত্বের উপর আস্থা রেখেই ভোট দিয়েছিলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, যদি ওই সাংসদরা প্রকাশ্যে দলীয় পরিচয় ছেড়ে দেন বা অন্য রাজনৈতিক পরিচয় গ্রহণ করেন, তাহলে নিজেদের নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদের তীব্র অসন্তোষের মুখে পড়তে পারেন। সেই কারণেই তারা এখনও তৃণমূলের পরিচিতি ও রাজনৈতিক ব্র্যান্ড ব্যবহার করে চলেছেন বলে অভিযোগ।

তবে আইনগতভাবে শুধু দলীয় পতাকা বা ব্যানার ব্যবহার করাই দলত্যাগ প্রমাণের একমাত্র ভিত্তি নয়। সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন রায়ে বলা হয়েছে, কোনও সাংসদ “স্বেচ্ছায় দল ত্যাগ করেছেন” কি না, তা তার সামগ্রিক আচরণ, প্রকাশ্য রাজনৈতিক অবস্থান, দলবিরোধী কার্যকলাপ, বিবৃতি এবং কার্যকলাপের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ, কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ না করলেও তার আচরণ যদি স্পষ্টভাবে দলত্যাগের ইঙ্গিত দেয়, তাহলে দশম তফসিলের আওতায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

অন্যদিকে, যদি সংশ্লিষ্ট সাংসদরা একদিকে তৃণমূলের পরিচয় ব্যবহার করেন, অন্যদিকে দলবিরোধী রাজনৈতিক অবস্থান নেন, তাহলে সেটিই স্পিকারের সামনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হতে পারে। এই কারণেই স্পিকারের দ্রুত সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক- দুই দিক থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

সব শেষে বলা যায় 

বর্তমান আইনি অবস্থান অনুযায়ী, যদি লোকসভার স্পিকার দীর্ঘ সময় ধরে ২০ সাংসদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ সংক্রান্ত আবেদনের নিষ্পত্তি না করেন, তাহলে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পথ খোলা রয়েছে। আদালত সরাসরি সাংসদদের অযোগ্য ঘোষণা করার বদলে স্পিকারকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে নির্দেশ দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সাম্প্রতিক রায়গুলি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, স্পিকারের অনির্দিষ্ট বিলম্বকে সুপ্রিম কোর্ট আর সহজভাবে মেনে নিতে রাজি নয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬


তৃণমূলের ২০ ‘বিদ্রোহী’ সাংসদকে নিয়ে কী হচ্ছে?

প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

লোকসভার ২০ জন কথিত বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ-বিরোধী আইন (সংবিধানের দশম তফসিল) অনুযায়ী অযোগ্য ঘোষণার আবেদন করা হয়েছে। অভিযোগ, দলীয় অবস্থানের বিরুদ্ধে গিয়ে তারা কাজ করেছেন। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, প্রায় দুই মাস আগে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে এই বিষয়ে আবেদন জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে গেলে কী হতে পারে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।

দশম তফসিল কী বলছে?

সংবিধানের দশম তফসিল বা অ্যান্টি ডিফেকশন ল’ অনুযায়ী, কোনও সাংসদ বা বিধায়ক যদি স্বেচ্ছায় দলের সদস্যপদ ত্যাগ করেন অথবা দলের হুইপ অমান্য করে ভোট দেন বা দলবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত হন, তাহলে তাকে অযোগ্য ঘোষণা করা যেতে পারে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট সদনের স্পিকারের হাতে ন্যস্ত।

স্পিকারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কি নির্দিষ্ট সময়সীমা আছে?

সংবিধানে বা দশম তফসিলে স্পিকারের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ নেই। তবে ২০২০ সালের “কেশাম মেঘাচন্দ্র সিংহ বনাম স্পিকার, মণিপুর লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলি” মামলায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণ করে যে, ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি না থাকলে তিন মাসের মধ্যে দলত্যাগ সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তি করা উচিত। আদালত আরও জানায়, অযৌক্তিক বিলম্ব দশম তফসিলের উদ্দেশ্যকেই ব্যর্থ করে দিতে পারে।

পরবর্তী একাধিক মামলায়ও সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে, স্পিকারের নিষ্ক্রিয়তা বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার বাইরে নয়। এমনকি ২০২৫ সালে তেলঙ্গানা বিধানসভার স্পিকারকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে আদালত নির্দেশ দিয়েছিল।

সুপ্রিম কোর্টে গেলে কী হতে পারে?

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে এবং দেখাতে পারে যে স্পিকার অযৌক্তিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করছেন, তাহলে আদালত কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে পারে—

স্পিকারকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে (যেমন তিন মাস বা তারও কম সময়ে) আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ দিতে পারে।

আদালত পর্যবেক্ষণ করতে পারে যে, বিলম্বের মাধ্যমে দশম তফসিলের উদ্দেশ্য ব্যাহত করা যাবে না।

স্পিকারকে দ্রুত শুনানি সম্পন্ন করার নির্দেশ দিতে পারে এবং অপ্রয়োজনীয় স্থগিতাদেশ এড়াতে বলতে পারে।

আদালতের নির্দেশ অমান্য করা হলে পরবর্তী পর্যায়ে অবমাননার প্রশ্নও উঠতে পারে।

আদালত কি সরাসরি সাংসদদের অযোগ্য ঘোষণা করতে পারে?

সাধারণ নিয়মে না। দশম তফসিল অনুযায়ী প্রথম সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা স্পিকারের। তবে স্পিকার দীর্ঘদিন সিদ্ধান্ত না নিলে সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করে তাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করতে পারে। স্পিকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরে বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার আওতায় আসতে পারে।

তৃণমূল যদি ইতিমধ্যেই দল থেকে বহিষ্কার করে থাকে?

কেবল দল থেকে বহিষ্কার করা এবং দশম তফসিলের অধীনে সাংসদপদ খারিজ- দুটি ভিন্ন বিষয়। দলীয় শৃঙ্খলাজনিত ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাংসদের সদস্যপদ বাতিল করে না। সাংসদপদ খারিজের জন্য স্পিকারের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

আইন বিশেষজ্ঞদের অভিমত

সংবিধান বিশেষজ্ঞদের বড় অংশের মত, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সুপ্রিম কোর্টের অবস্থান স্পষ্ট- স্পিকার সাংবিধানিক পদে থাকলেও দলত্যাগ সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি একটি ‘কোয়াশি জুডিশিয়াল অথরিটি’ হিসেবে কাজ করেন। ফলে তার ট্রান্সফারস বা অযৌক্তিক বিলম্ব বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার বাইরে নয়। আদালত বারবার বলেছে, অনির্দিষ্টকালের জন্য আবেদন ঝুলিয়ে রাখা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

রাজনৈতিক বাস্তবতা ও আইনি গুরুত্ব

এই বিতর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দিকও রয়েছে।  অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ২০ জন সাংসদ এখনও প্রকাশ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় পতাকা, ব্যানার ও পরিচিতি ব্যবহার করছেন। কারণ, তাঁরা যে আসনগুলি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন, সেখানে অধিকাংশ ভোটার তাদের ব্যক্তিগত পরিচয়ের চেয়ে তৃণমূলের প্রতীক, সংগঠন এবং দলীয় নেতৃত্বের উপর আস্থা রেখেই ভোট দিয়েছিলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, যদি ওই সাংসদরা প্রকাশ্যে দলীয় পরিচয় ছেড়ে দেন বা অন্য রাজনৈতিক পরিচয় গ্রহণ করেন, তাহলে নিজেদের নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদের তীব্র অসন্তোষের মুখে পড়তে পারেন। সেই কারণেই তারা এখনও তৃণমূলের পরিচিতি ও রাজনৈতিক ব্র্যান্ড ব্যবহার করে চলেছেন বলে অভিযোগ।

তবে আইনগতভাবে শুধু দলীয় পতাকা বা ব্যানার ব্যবহার করাই দলত্যাগ প্রমাণের একমাত্র ভিত্তি নয়। সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন রায়ে বলা হয়েছে, কোনও সাংসদ “স্বেচ্ছায় দল ত্যাগ করেছেন” কি না, তা তার সামগ্রিক আচরণ, প্রকাশ্য রাজনৈতিক অবস্থান, দলবিরোধী কার্যকলাপ, বিবৃতি এবং কার্যকলাপের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ, কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ না করলেও তার আচরণ যদি স্পষ্টভাবে দলত্যাগের ইঙ্গিত দেয়, তাহলে দশম তফসিলের আওতায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

অন্যদিকে, যদি সংশ্লিষ্ট সাংসদরা একদিকে তৃণমূলের পরিচয় ব্যবহার করেন, অন্যদিকে দলবিরোধী রাজনৈতিক অবস্থান নেন, তাহলে সেটিই স্পিকারের সামনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হতে পারে। এই কারণেই স্পিকারের দ্রুত সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক- দুই দিক থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

সব শেষে বলা যায় 

বর্তমান আইনি অবস্থান অনুযায়ী, যদি লোকসভার স্পিকার দীর্ঘ সময় ধরে ২০ সাংসদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ সংক্রান্ত আবেদনের নিষ্পত্তি না করেন, তাহলে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পথ খোলা রয়েছে। আদালত সরাসরি সাংসদদের অযোগ্য ঘোষণা করার বদলে স্পিকারকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে নির্দেশ দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সাম্প্রতিক রায়গুলি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, স্পিকারের অনির্দিষ্ট বিলম্বকে সুপ্রিম কোর্ট আর সহজভাবে মেনে নিতে রাজি নয়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত