সংবাদ

তারেক রহমানের ভারত সফর ঘিরে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা


দীপক মুখার্জী, কলকাতা
দীপক মুখার্জী, কলকাতা
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২১ পিএম

তারেক রহমানের ভারত সফর ঘিরে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা
ছ‌বি: সংগৃ‌হিত

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর ফের কূটনৈতিক বরফ গলার ইঙ্গিত। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফর ঘিরে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে জোর আলোচনা চলছে।

কূটনৈতিক সূত্রের খবর, আগামী ২০ থেকে ২৫ আগস্টের মধ্যে দু’দিনের এই সফর আয়োজনের চেষ্টা চলছে। তবে রবিবার পর্যন্ত সফরের নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হয়নি এবং ভারতের বিদেশ মন্ত্রকও আনুষ্ঠানিকভাবে সফর ঘোষণা করেনি। ফলে এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না যে আগামী সপ্তাহেই তারেক রহমান নয়াদিল্লি পৌঁছচ্ছেন। তবে দু’দেশের আলোচনার গতি দেখে সফরের সম্ভাবনা যথেষ্ট জোরালো বলেই মনে করা হচ্ছে।

এই সম্ভাব্য সফরের গুরুত্ব এখানেই যে, এটি কোনও বহুপাক্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং সরাসরি দ্বিপাক্ষিক আলোচনার জন্য আয়োজিত হতে পারে। ভারতের তরফে তারেক রহমানকে দ্বিপাক্ষিক সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে ভারতীয় ও বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

একই সময়ে সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ১৮তম BRICS সম্মেলনের Outreach অধিবেশনেও তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। ফলে BRICS-এর মঞ্চের বাইরে আলাদা করে ভারত সফর হলে সেটি দিল্লি-ঢাকা সম্পর্ককে নতুন করে সাজানোর একটি রাজনৈতিক বার্তা বহন করবে।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন প্রয়োজন। বাংলাদেশ BRICS-এর সদস্য নয়। ১২–১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় BRICS সম্মেলনের Outreach অধিবেশনে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে মূলত BIMSTEC-এর বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে।

তাই তারেক রহমান BRICS-এ যোগ দিলে তিনি BRICS সদস্য রাষ্ট্রের নেতাদের সমমর্যাদায় বৈঠকের অংশ হবেন—এমন ব্যাখ্যা পুরোপুরি সঠিক নয়। বরং BRICS-এর বাইরে আলাদা দ্বিপাক্ষিক সফর হলে সেটিই হবে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁর জন্য সরাসরি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগের সুযোগ।

দিল্লির দিক থেকেও এই সফরের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারত বারবার জানিয়েছে, তারা একটি গঠনমূলক, ইতিবাচক, বাস্তবসম্মত এবং ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক চায়। গত ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমানের নির্বাচনী সাফল্যের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেছিলেন এবং বাংলাদেশের মানুষের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন।

অর্থাৎ দিল্লির কাছে তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর শুধুমাত্র সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়। ভিসা পরিষেবা, বাণিজ্য, জ্বালানি ও যোগাযোগ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নদীর জলবণ্টন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার মতো একাধিক বিষয় নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনার দরজা খুলতে পারে এই সফর। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত রাজনৈতিক প্রশ্নগুলিও আলোচনায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

কিন্তু সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে শেখ হাসিনা-প্রশ্ন। ঢাকা চায়, ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে শেখ হাসিনার এমন কোনও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড না হোক, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

একাধিক বাংলাদেশি কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, এই বিষয়ে নয়াদিল্লির কাছ থেকে আরও স্পষ্ট আশ্বাস চায় ঢাকা এবং সফরের চূড়ান্ত দিনক্ষণ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারত অবশ্য বলেছে, শেখ হাসিনা-সংক্রান্ত বিষয় আইনি প্রক্রিয়ায় বিবেচনা করা হচ্ছে এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে তারা আগ্রহী।

এখানেই সফরের ইতিবাচক এবং নেতিবাচক—দুই দিকই স্পষ্ট। ইতিবাচক দিক হল, দুই দেশই বুঝতে পারছে যে দীর্ঘস্থায়ী টানাপোড়েন কোনও পক্ষের জন্যই লাভজনক নয়। বাংলাদেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ; অন্যদিকে ভারতের কাছেও বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক আঞ্চলিক কৌশলের গুরুত্ব অপরিসীম।

নেতিবাচক দিকটি হল, রাজনৈতিক অবিশ্বাস এখনও যথেষ্ট গভীর। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, তাঁর ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থান ও বক্তব্য, সীমান্তে উত্তেজনা, ভিসা সমস্যা, জলবণ্টন এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারত-বিরোধী রাজনৈতিক মনোভাব—সবকটি বিষয় একসঙ্গে সামনে রয়েছে। ফলে একটি বৈঠকেই সম্পর্কের সমস্ত তিক্ততা মুছে ফেলা সম্ভব নয়। তারেক রহমানের জন্যও বিষয়টি সহজ নয়।

একদিকে তাঁকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে হবে, অন্যদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আবেগ ও বিভিন্ন শক্তির চাপও সামলাতে হবে।

চিন ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কও এই সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলছে। ঢাকা একই সঙ্গে বেজিং, ইসলামাবাদ ও নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইছে। ফলে তারেকের ভারত সফরকে কোনও একটি দেশের দিকে বাংলাদেশের কৌশলগত ঝুঁকে পড়া হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটা ধরা পড়বে না। বরং ঢাকা এখন বহুমুখী কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে—এমন ব্যাখ্যাই বেশি বাস্তবসম্মত।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন অবশ্য একটাই—সফরটি আদৌ হবে কি? বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্তর হল, সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু এখনও নিশ্চিত নয়। ২০–২৫ আগস্টের সময়সীমা নিয়ে আলোচনা চলছে, দু’পক্ষই আগ্রহী এবং ভারতের পক্ষ থেকে দ্বিপাক্ষিক সফরের আমন্ত্রণের কথাও প্রকাশ্যে এসেছে। কিন্তু নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি এবং নয়াদিল্লির তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সফরকে নিশ্চিত বলে ধরা ঠিক হবে না।

তাই তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরকে শুধু ‘বরফ গলা’ বললে হয়তো কিছুটা সরলীকরণ হবে। বরং এটি হবে সম্পর্ক মেরামতের প্রথম বড় পরীক্ষা। সফর হলে মোদি-তারেক বৈঠকে রাজনৈতিক অস্বস্তি সরিয়ে বাস্তব সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করা যায় কি না, সেটিই দেখার।

আর সফর পিছিয়ে গেলে বা শেষ মুহূর্তে আটকে গেলে স্পষ্ট হবে—দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে আস্থার সংকট এখনও যথেষ্ট গভীর। ফলে আগামী কয়েক দিনই বলে দেবে, এই কূটনৈতিক উদ্যোগ সত্যিই নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে, নাকি শুধুই সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আরেকটি প্রচেষ্টা হয়ে থেকে যায়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬


তারেক রহমানের ভারত সফর ঘিরে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা

প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর ফের কূটনৈতিক বরফ গলার ইঙ্গিত। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফর ঘিরে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে জোর আলোচনা চলছে।

কূটনৈতিক সূত্রের খবর, আগামী ২০ থেকে ২৫ আগস্টের মধ্যে দু’দিনের এই সফর আয়োজনের চেষ্টা চলছে। তবে রবিবার পর্যন্ত সফরের নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হয়নি এবং ভারতের বিদেশ মন্ত্রকও আনুষ্ঠানিকভাবে সফর ঘোষণা করেনি। ফলে এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না যে আগামী সপ্তাহেই তারেক রহমান নয়াদিল্লি পৌঁছচ্ছেন। তবে দু’দেশের আলোচনার গতি দেখে সফরের সম্ভাবনা যথেষ্ট জোরালো বলেই মনে করা হচ্ছে।

এই সম্ভাব্য সফরের গুরুত্ব এখানেই যে, এটি কোনও বহুপাক্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং সরাসরি দ্বিপাক্ষিক আলোচনার জন্য আয়োজিত হতে পারে। ভারতের তরফে তারেক রহমানকে দ্বিপাক্ষিক সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে ভারতীয় ও বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

একই সময়ে সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ১৮তম BRICS সম্মেলনের Outreach অধিবেশনেও তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। ফলে BRICS-এর মঞ্চের বাইরে আলাদা করে ভারত সফর হলে সেটি দিল্লি-ঢাকা সম্পর্ককে নতুন করে সাজানোর একটি রাজনৈতিক বার্তা বহন করবে।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন প্রয়োজন। বাংলাদেশ BRICS-এর সদস্য নয়। ১২–১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় BRICS সম্মেলনের Outreach অধিবেশনে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে মূলত BIMSTEC-এর বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে।

তাই তারেক রহমান BRICS-এ যোগ দিলে তিনি BRICS সদস্য রাষ্ট্রের নেতাদের সমমর্যাদায় বৈঠকের অংশ হবেন—এমন ব্যাখ্যা পুরোপুরি সঠিক নয়। বরং BRICS-এর বাইরে আলাদা দ্বিপাক্ষিক সফর হলে সেটিই হবে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁর জন্য সরাসরি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগের সুযোগ।

দিল্লির দিক থেকেও এই সফরের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারত বারবার জানিয়েছে, তারা একটি গঠনমূলক, ইতিবাচক, বাস্তবসম্মত এবং ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক চায়। গত ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমানের নির্বাচনী সাফল্যের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেছিলেন এবং বাংলাদেশের মানুষের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন।

অর্থাৎ দিল্লির কাছে তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর শুধুমাত্র সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়। ভিসা পরিষেবা, বাণিজ্য, জ্বালানি ও যোগাযোগ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নদীর জলবণ্টন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার মতো একাধিক বিষয় নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনার দরজা খুলতে পারে এই সফর। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত রাজনৈতিক প্রশ্নগুলিও আলোচনায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

কিন্তু সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে শেখ হাসিনা-প্রশ্ন। ঢাকা চায়, ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে শেখ হাসিনার এমন কোনও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড না হোক, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

একাধিক বাংলাদেশি কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, এই বিষয়ে নয়াদিল্লির কাছ থেকে আরও স্পষ্ট আশ্বাস চায় ঢাকা এবং সফরের চূড়ান্ত দিনক্ষণ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারত অবশ্য বলেছে, শেখ হাসিনা-সংক্রান্ত বিষয় আইনি প্রক্রিয়ায় বিবেচনা করা হচ্ছে এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে তারা আগ্রহী।

এখানেই সফরের ইতিবাচক এবং নেতিবাচক—দুই দিকই স্পষ্ট। ইতিবাচক দিক হল, দুই দেশই বুঝতে পারছে যে দীর্ঘস্থায়ী টানাপোড়েন কোনও পক্ষের জন্যই লাভজনক নয়। বাংলাদেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ; অন্যদিকে ভারতের কাছেও বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক আঞ্চলিক কৌশলের গুরুত্ব অপরিসীম।

নেতিবাচক দিকটি হল, রাজনৈতিক অবিশ্বাস এখনও যথেষ্ট গভীর। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, তাঁর ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থান ও বক্তব্য, সীমান্তে উত্তেজনা, ভিসা সমস্যা, জলবণ্টন এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারত-বিরোধী রাজনৈতিক মনোভাব—সবকটি বিষয় একসঙ্গে সামনে রয়েছে। ফলে একটি বৈঠকেই সম্পর্কের সমস্ত তিক্ততা মুছে ফেলা সম্ভব নয়। তারেক রহমানের জন্যও বিষয়টি সহজ নয়।

একদিকে তাঁকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে হবে, অন্যদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আবেগ ও বিভিন্ন শক্তির চাপও সামলাতে হবে।

চিন ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কও এই সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলছে। ঢাকা একই সঙ্গে বেজিং, ইসলামাবাদ ও নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইছে। ফলে তারেকের ভারত সফরকে কোনও একটি দেশের দিকে বাংলাদেশের কৌশলগত ঝুঁকে পড়া হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটা ধরা পড়বে না। বরং ঢাকা এখন বহুমুখী কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে—এমন ব্যাখ্যাই বেশি বাস্তবসম্মত।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন অবশ্য একটাই—সফরটি আদৌ হবে কি? বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্তর হল, সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু এখনও নিশ্চিত নয়। ২০–২৫ আগস্টের সময়সীমা নিয়ে আলোচনা চলছে, দু’পক্ষই আগ্রহী এবং ভারতের পক্ষ থেকে দ্বিপাক্ষিক সফরের আমন্ত্রণের কথাও প্রকাশ্যে এসেছে। কিন্তু নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি এবং নয়াদিল্লির তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সফরকে নিশ্চিত বলে ধরা ঠিক হবে না।

তাই তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরকে শুধু ‘বরফ গলা’ বললে হয়তো কিছুটা সরলীকরণ হবে। বরং এটি হবে সম্পর্ক মেরামতের প্রথম বড় পরীক্ষা। সফর হলে মোদি-তারেক বৈঠকে রাজনৈতিক অস্বস্তি সরিয়ে বাস্তব সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করা যায় কি না, সেটিই দেখার।

আর সফর পিছিয়ে গেলে বা শেষ মুহূর্তে আটকে গেলে স্পষ্ট হবে—দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে আস্থার সংকট এখনও যথেষ্ট গভীর। ফলে আগামী কয়েক দিনই বলে দেবে, এই কূটনৈতিক উদ্যোগ সত্যিই নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে, নাকি শুধুই সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আরেকটি প্রচেষ্টা হয়ে থেকে যায়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত